অটোরিক্সার জন্য বন্ধুকে খুন

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৯, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জসিম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অভিযুক্ত তিন আসামি-সোনার দেশ

রাজশাহীতে অটোচালক জসিম উদ্দিন জয়কে (২৪) গলাকেটে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত তিনজনের কাছ থেকে হত্যারহস্য উদঘাটন করা গেছে। অটোরিকশাটি হাতিয়ে নিতেই বন্ধুকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর শাহ মখদুম থানায় বিষয়টি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এসময় বক্তব্য দিতে গিয়ে আরএমপির শাহ মখদুম জোনের উপ-কমিশনার হেমায়েতুল ইসলাম এ কথা জানান।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি বিকেলে নিখোঁজ হয়েছিলেন অটোচালক জসিম উদ্দিন জয় (২৪)। ঘটনার দু’দিন পর গত ৯ জানুয়ারি (বুধবার) রাতে গোদাগাড়ী থেকে জসিম উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে শাহ মখদুম থানা পুলিশ।
উপ-কমিশনার হেমায়েতুল ইসলাম জানান, অটোরিক্সা চালক জসিমের অটো ভাড়া নেন। সেই সময় জসিমের অটোরিক্সায় ছিলো- সুমন আলী, রাজিব আলী ও বন্ধু জসিম উদ্দিনসহ একজন যাত্রী। পথে পাঁচ টাকা ভাড়া দিয়ে যাত্রী নেমে যায়। রাস্তায় জসিমকে প্রথমে গাঁজা ও নেশা জাতীয় ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। যাতে তাদের এই অমানবিক কাজটি করতে বেগ পেতে না হয়। গোদাগাড়ীর জালাহার এলাকার একটি নির্জন পুকুরপাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় অটোরিক্সা পাহারায় ছিলো বন্ধু রাজিব আলী।
পুলিশের এই কমকর্তা জানান, পুকুরপাড়ে হত্যাকারী জসিম, সুমন ও নিহত জসিম দাঁড়িয়ে ছিলো। তাদের মধ্যে কথা চলছিলো, এক পর্যায়ে সুমন পেছন থেকে গলায় ছুরিকাঘাত করে ধাক্কা দেয়। এতে জসিম মাটিতে পড়ে যায়। পরে বন্ধু জসিম বুকের উপরে উঠে গলায় ছুড়ি চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে দুই হাত ও পায়ের রগ কাটে হত্যাকারীরা। পরে সেই অটোরিক্সাটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
হত্যাকাণ্ডের পরে জয়কে খুঁজতে গিয়ে পুলিশ গোদাগাড়ী এলাকার জসিম ও সুমন নামের দুইজনের সন্ধান পায়। এরপর তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ তারা স্বীকার করেন অটোরিকশার জন্য তার জয়কে হত্যা করেছে।
তাদের দেওয়া তথ্যনুযায়ী বুধবার রাতে গোদাগাড়ীর সরমংলা এলাকা থেকে জসিম উদ্দিনের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে রাজিব হোসেন (২৪) নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। রাজিব একই উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের মারিফুল ইসলামের ছেলে। এর মধ্যে জসিম উদ্দিন ও সুমন আলী মহানগরীর তৃপ্তি হোটেলে কাজ করতো।
হত্যার পর জসিম ও সুমনের গায়ের রক্তমাখা পোশাক জসিম তার বাড়িতে রেখে আসে। আর চুরি করা অটোরিকশাটি নাটোরে জসিমের দুলাভাইয়ের বাড়িতে লুকিয়ে রাখে। তবে এতো কিছু করেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।
নিহত অটোচালক জয়কে হত্যার আলামত সেই ছুরি, অটোরিকশা ও ঘটনার দিন পরিহিত আসামিদের পোশাক পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
আদালত খুললে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে বলেও জানান আরএমপির ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা। অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, এডিসি তরিকুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ