অতিরিক্ত ভর্তি ফি নিলে চাকরি যাবে প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৯, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আগামী শিক্ষাবর্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি ও বাড়তি টিউশন ফি’সহ অন্যান্য ফি আদায় করলেই প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) বন্ধসহ চাকরি থেকে বরখাস্তের ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি বা পর্ষদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির এমপিও বন্ধ করা হবে। এ লক্ষ্যে আগামী নভেম্বর থেকে ভর্তি কার্যক্রম চলাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটরিং শুরু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।
এ বিষয়ে মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান থেকে আগেই জানাতে হবে তাদের আসন সংখ্যা কত। নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত ভর্তি করা যাবে না। সরকার নির্ধারিত কোটা ছাড়া অন্য কোনও কোটায় ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে না।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকার নির্ধারিত টিউশন ফির চেয়ে বাড়তি আদায় করার ঘটনার পর এবার আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রণালয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বরের সমন্বয় সভা সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থী ভর্তিতে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত বছর অনিয়ম করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর থেকে তাদের তালিকা চাইবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন সংখ্যার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি ঠেকাতে ভর্তির সময় (নভেম্বর-ডিসেম্বর) নিয়মিত মনিটরিং করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর।
মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আদায়কারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকাসহ প্রতিবেদন আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দাখিল করবে মাধ্যমিক-২ অনু বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি অবহিত করার জন্য সমন্বয় সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া আসন সংখ্যার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি ভর্তি কার্যক্রমের প্রথম দিন থেকেই মনিটরিং করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে নির্দেশ দেয়া হয়।
ভর্তির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটরিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, ‘অতিরিক্ত ভর্তি ও বাড়তি ফি আদায় মনিটরিং করা হবে শুরু থেকেই। এ বিষয়ে কোনও ছাড় দেয়া হবে না। কঠোরভাবে মনিটরিং চলবে শেষ পর্যন্ত।’
২০১৮ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৪শ’ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। অভিযোগ ওঠে, গভর্নিং বডির সদস্য, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ভর্তি বাণিজ্য করেছেন। এসব অভিযোগের পর একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও দুজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী আরেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণের পর অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত করার নির্দেশ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন