অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়া তানোর সমাজসেবা অফিস

আপডেট: জুন ১২, ২০১৯, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না। অনিয়মই যেন এ অফিসের নিয়ম। সমাজসেবা অফিসার মতিনুর রহমানের যোগদানের পর থেকেই চলে আসছে এ অবস্থা। অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে জিম্মি হয়ে পড়েছে কাজ নিয়ে আসা হাজার হাজার মানুষ। নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সমাজসেবা অফিসের কর্মকতা- কর্মচারিরা।
সীমাহিন দুর্নীতির বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে চিনাশো গ্রামের মতিউর রহমান ও আবদুর রহিম দুইজন প্রতিবন্ধী তানোর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তানোর সমাজসেবা অফিসে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা, মুক্তিযোদ্ধাভাতা, বিভিন্ন ক্লাব ও সমিতির নামে বরাদ্ধের নামে হাজার হাজার টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়ে আসছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছে ক্লাব অডিটসহ প্রতিটি কাজেই এই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ দিতে হয়। এক কথায় টাকা ছাড়া কোনো ফাইল স্বাভাবিক নিয়মে চলে না।
এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রতিবন্ধী আবদুল মজিদ জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে এই অফিস থেকে বাৎসরিক প্রতিবন্ধী ঋণ নিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করে সাংসার চালাচ্ছি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রতি বছরের মতো সেই ঋণ পরিশোধ করেছি, পুনরায় এক বছরের জন্য ঋণ পাবার আশায়। কিন্তু সেই ঋণের টাকা পরিশোধের ৬ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ঋণ পাই নি। তাই নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী স্যারকে বলেছি। স্যার দুই তিনদিনের মধ্যে এর ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন।
চিনাশো গ্রামের প্রতিবন্ধী মতিউর রহমান বলেন, ঋণের মূলধনের টাকা জমা দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে আগামী বছরের ঋণ পাওয়া যায়। অথচ ঋণের টাকা জমা দেয়া ৫ মাস হলেও আরিফ হোসেন নামের এক মাঠকর্মী বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আমাকে ঘুরাচ্ছেন। ৫ মাস ধরে ঘুরতে গিয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমরা প্রতিবন্ধী- আমাদের এই টাকার ঋণ ন্যায্য অধিকার।
এবিষয়ে তানোর সমাজসেবা অফিসার মতিনুর রহমান জানান, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি অফিসের কাজে বাইরে আছি। আরিফ হোসেনের কাছ থেকে খোঁজখবর নিয়ে ১৫দিন অথবা সর্বোচ্চ একমাসের মধ্যে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে সাংবাদ প্রকাশ না করতে প্রতিবেদক অনুরোধ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে মাঠকর্মী আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জুন মাসের অডিট নিয়ে ব্যস্ত আছি। এক মাসের মধ্যে ঋণ পেয়ে যাবে। আর ঘুরতে হবে না, তাদেরকে বলে দিয়েছি।
এ ব্যাপারে তানোর উপজেলার নির্বাহী অফিসার নাসরিন বানুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম দুর্নীতি সম্পর্কে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, অভিযোগকারীর সামনে আমি মুঠোফোনে সমাজসেবা অফিসারকে অবহিত করেছি। দুই একদিনের মধ্যে প্রতিবন্ধীদের পুনরায় আগামী বছরের ঋণ দেয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ