অপরূপ চলনবিলে সুখের বাতাস বইছে কৃষকের মনে

আপডেট: মার্চ ৯, ২০১৮, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

এমরান আলী রানা, সিংড়া


নতুন ফসলে সবুজে ভরে গেছে চলনবিল-সোনার দেশ

দেশের সর্ববৃহৎ বিলের কথা বলতে গেলে বলতে হয় চলনবিলের নাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই বিলটি পাবনা জেলার চাটমোটর ভাঙ্গুরা, শাহাজাদপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, নাটোরের গুরুদাশপুর, নলাডাঙ্গা, সিংড়া ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে চলনবিল গঠিত। বর্ষাকালে এই বিল পানিতে ডুবে থাকায় বর্ষার পানি অনেক পলি মাটি বয়ে আনে।
বিল উর্বর হওয়ার কারণে ধান, গম, সরিষা, গোল আলু , মিষ্টি আলু, রসুন, খেসাড়ী, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ফলন ভালো হয়ে থাকে। তাই চলনবিলকে শস্য ভাণ্ডার বলা হয়। এই বিলের প্রধান ফসল ধান হওয়ার কারণে এখন যেদিকে চোখ যায় যেন সবুজ আর সবুজ।
চলনবিল অঞ্চলের কৃষি অফিস জানায়, এ বছর ১লাখ ৭৬হাজার ৬৮২ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান চাষ হয়েছে। এরমধ্যে সিংড়া উপজেলায় ৩৯হাজার ৬১০ হেক্টর, রায়গঞ্জ ২০হাজার ৫৭৬ হেক্টর, উল্লাপাড়া ২হাজার ৮৭০ হেক্টর, তাড়াশ ২১হাজার ৯২০ হেক্টর, শাহজাদপুর ২২হাজার ৮১ হেক্টর, গুরুদাশপুর ৪হাজার ৩১৫ হেক্টর, চাটমোহর ৮হাজার ৫১০ হেক্টর, ভাঙ্গুরা ৬হাজার ২২০ হেক্টর, নলডাঙ্গা ৬হাজার ৫০০ হেক্টর ও আত্রাই উপজেলায় ৮হাজার২৫০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধানের চাষ হয়েছে। তীব্র শীতে রোপণকৃত চারা আর চারা সঙ্কট নিয়ে এক-দেড় মাস আগে কৃষকদের মনে দুশ্চিন্তা থাকলেও এখন চলনবিলের মাঠে মাঠে সতেজ সবুজ চারা দেখে সুখের বাতাস বইতে শুরু করেছে। মৌসুমের মাঝামাঝি সময় এসে জমি থেকে আগাছা পরিস্কার, সার ছিটানোসহ বিভিন্ন পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষকদের। ঘণ সবুজ ধান খেতের উপর দিয়ে যখন বাতাস বয়ে যায় তখন ধানের উপরে মনে হয় যেন সবুজের ঢেউ। যা দেখলে চোখ ফেরানো যায় না। বিকেল হলেই কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় অনেকেই সবুজে রাঙানো চলনবিল দেখতে ছুটে যায় বিলে।
সিংড়া উপজেলা ইটালী ইউনিয়নের কালাইকুড়ি গ্রামের কৃষক আবদুুর সবুর বলেন, মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া খারাপ থাকলেও এখন যে ভাল আবহাওয়া রয়েছে তা ধান কাটার আগ পর্যন্ত থাকলে ভাল ফলন আশা করা যায়। উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগগৌহা গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন- বিদ্যুৎ ও বাজারে সার পর্যাপ্ত পরিমান পাওয়ার ফলে আমাদের ফসল নিয়ে কোন চিন্তা নেই।
তাড়াশ কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ধানের ভালো ফলন পেতে এবং ধানকে ক্ষতিকর পোকামাকড় থেকে বাঁচানোর জন্য কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ইরি বোরো ধানের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব এবং আমরা কৃষকদের সার্বক্ষনিক বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত চলনবিলের কোথাও ধান খেত পোঁকা মাকড়ে আক্রান্ত হয়েছে এমন খবর পাওয়া যায় নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ