অবশেষে সম্রাট গ্রেফতার এবার প্রশ্রয়দানকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হোক

আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৯, ১:১০ পূর্বাহ্ণ

অবশেষে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী ওরফে সম্রাটকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী আরমানকেও গ্রেফতার করে র‌্যাব। সম্রাটকে গ্রেফতারের সংবাদ দেশের প্রায় সব সংবাদমাধ্যমে শীর্ষ শিরোনামে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ ও প্রচার করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের পর ক্যাসিনোর মূল হোতা হিসেবে সম্রাটের নাম সামনে আসে। এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠে। সংবাদ মাধ্যমগুলোও সম্রাটের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নানা বিষিয়ে একের পর এক খবর প্রকাশিত হতে থাকে। তার গ্রেফতারে বিলম্ব হওয়ার কারণে বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের উপর চাপ যেমন ছিল, তেমনি সরকারের আচরণে রহস্যের গন্ধ খুঁজে পাচ্ছিল। কিন্তু সম্রাটকে গ্রেফতারের পর সব সন্দেহ-বিশ্বাসের অবসান হলো।
ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া এর ক্যাসিনো ক্লাবে র‌্যাব প্রথম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। তারপর থেকেই আন্ডারওয়ার্ল্ডে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর একে একে গ্রেফতার হয়েছে জিকে শামীম, শফিকুল আলম ফিরোজ, লোকমান হোসেন ভুঁইয়া ও অন্যরা। কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল সম্রাট। তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে নানা মহল থেকেই সমালোচনাসহ নানা কটুক্তি শুরু হয়েছিল। সব আলোচনার কেন্দ্রেই ছিল সম্রাট। সংবাদ মাধ্যমের তথ্যমতে, শুধু ক্যাসিনো নয়Ñ ঢাকা আন্ডার ওয়ার্ল্ড ছিল সম্রাটের নিয়ন্ত্রণে।
১৪ সেপ্টেম্বর গণভবনে আওয়ামীলীগের এক যৌথ সভায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের কতিপয় নেতাদের ব্যাপারে প্রকাশ্যে উষ্মা প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে মন্ত্রী ও নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো অস্ত্রধারী ক্যাডার আমার দরকার নেই। আওয়ামী লীগ বিপদে পড়লে সবার আগে এরাই অস্ত্র নিয়ে পালাবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য খুবই যথার্থ। আওয়ামী রাজনীতির ধারাবাহিক ঐতিহ্যের মধ্যেই এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। যে বা যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারি তারা কোনো দিনই দলকে ভাঙ্গিয়ে কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজে লিপ্ত হতে পারে না। এরা দলের দুর্দিনে নিজেদের বারবার প্রমাণ করেছে কিন্তু তারপরও এই বিশাল কর্মিবাহিনী তাদের যোগ্য মর্যাদাটুকু পায় নি, প্রতিনিয়ত অবহেলিত হয়েছে। দলের নেতারা হাইব্রিডদের দলে টেনে এনে নিজেরা লাভবান হয়েছেন আর দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। হাইব্রিডদের দৌরাত্মে নিবেদিত প্রাণ কর্মিরা একেবারে ছিটকে পড়েছে। তারা নিরবে নিভৃতে থাকেÑ কিন্তু এখনো দল বেকায়দায় পড়লে ওইসব কর্মিরাই দলের প্রয়োজনে আবারো সোচ্চার হয়ে উঠবে। এটাই আওয়ামী রাজনীতির মৌল শক্তির জায়গা। যা অন্য কোনো দলের মধ্যে পাওয়া প্রায় অসম্ভবই।
বলার অপেক্ষা রাখে না, রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই সম্রাট নামের দানবরা তৈরি হয়েছে। এই নেপথ্যের আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারীদের এবার মুখোশ উন্মোচন করার সময় এসেছে। এবার এদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরা করা হোকÑ এটা দেশের মানুষের প্রত্যাশা। কেননা দেশের মানুষ ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানকে সর্বান্তকরণে সমর্থন করছে যে, এবার একটা কিছুই হবেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ