অবৈধ সোনা বৈধ হবে!

আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


অবৈধ সোনা বৈধ করার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এমনকি সরকারকে ভরিপ্রতি এক হাজার টাকা দিয়ে চোরাচালানের সোনাও বৈধ করা যাবে। এজন্য একটি সোনা মেলার আয়োজন করা হবে। ওই মেলা থেকে সব অবৈধ সোনা বৈধ করা যাবে। সম্প্রতি ভ্যাট, ট্যাক্স নিরূপণ সংক্রান্ত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত সোনা নিলামের উদ্যোগ নেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি গঙ্গাচরণ মালাকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ আমরা দেশে একটি সোনা মেলা করবো। সেখানে সরকারকে ট্যাক্স দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার সোনা খাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি বছর ভ্যাট-ট্যাক্স নিলেও এতোদিন ধরে সোনার বৈধ উৎস ছিল না। এখন আমরা বৈধ স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছি।’ নির্বাচনের পরই বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত সোনা নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।
অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত সোনার মধ্যে মাত্র ১০ কেজি সোনা নিলামে তোলার সুযোগ আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে কয়েক মন সোনা থাকলেও এর অধিকাংশের বিষয়ে আদালতে মামলা রয়েছে।
সোনা ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে বছরে সোনার চাহিদা ৩০ থেকে ৪০ টন। অথচ দেশে বৈধপথে সোনা একেবারেই আমদানি হয়নি। ফলে অবৈধ পথে আনা সোনা দিয়েই এই চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোনার নিলাম ডাকা হলে ব্যবসায়ীরা ৪০ হাজার টাকার সোনার দাম হাঁকতেন ৩ হাজার টাকারও কম। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক গত দশ বছর ধরে সোনার নিলাম ডাকা বন্ধ রেখেছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মুখপাত্র ম.মাহফুজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সোনা ব্যবসায়ীরা চোরাই পথে আসা সোনাতেই বেশি লাভ করতে পারে। হয়তো সে কারণেই তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত স্বর্ণের দাম খুবই কম বলতেন। নিলাম ডাকা হলে তারা (ব্যবসায়ীরা) ৪০ হাজার টাকার সোনার দাম বলতেন ৩ হাজার টাকার কম। এ কারণে গত দশ ধরে সোনার নিলাম হয় না।’
জানা গেছে, অবৈধ সোনা আটক করে কখনও শুল্ক বিভাগ, কখনোবা পুলিশ, আবার কখনও এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে যাচ্ছে। তবে গত দশ বছর ধরে নিলাম না হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্বর্ণের স্তূপ জমে গেছে। সর্বশেষ নিলাম হয় ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই, যেখানে ২১ কেজি ৮২২ গ্রাম সোনা বিক্রি করা হয়। ধরা পড়া সোনার বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক মানসম্মত হওয়ায় তা বাইরে বিক্রির প্রয়োজন হয়নি।
শুল্ক বিভাগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে দুই হাজার কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। আর স্বাধীনতার পর থেকে অবৈধ উপায়ে আসা সোনার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কেজি বা ১২৫ মণেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৬০ মণ সোনার মালিকের কোনও হদিস পাওয়া যায়নি। এছাড়া মামলায় মালিকানা ঝুলে আছে আরও প্রায় ৩০ মণের। তবে ১৫ কেজি সোনা আদালতের নির্দেশে শুল্ক পরিশোধ সাপেক্ষে দাবিদারদের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে। আর কিছু বিক্রি করা হয়েছে নিলামের মাধ্যমে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরেকটি সূত্র বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ৯৬৩ কেজি সোনা জমা আছে। জমা থাকা এই সোনার ব্যাপারেও আদালতে মামলা রয়েছে। নিয়ম অনুসারে, মামলা নিষ্পত্তির পর রক্ষিত স্বর্ণ নিলামে তোলার কথা।
এদিকে নির্বাচনের পর সোনা আমদানি শুরু হতে পারে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সোনা নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি গঙ্গাচরণ মালাকার এ বিষয়ে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পরই আমরা সোনা আমদানি করতে পারবো।’ উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর সোনা নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
জানা গেছে- ভ্যাট, ট্যাক্স নিরূপণ সংক্রান্ত ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে যাদের কাছে অবৈধ সোনা রয়েছে তারা ভরিপ্রতি এক হাজার টাকা সরকারকে দিয়ে তা বৈধ করে নিতে পারবেন। আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারককে ভরিপ্রতি শুল্ক দিতে হবে দুই হাজার টাকা। ভ্যাটের হার ধরা হয়েছে পাঁচ শতাংশ। ব্যাগেজ রুলের আওতায় শুল্ক আগের মতোই রাখা হয়েছে।