অভিযুক্তকে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন আদালতের মত অনুযায়ী নীতিমালা প্রণয়ন করা বাঞ্ছনীয়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

পুলিশের প্রতিবেদন দাখিলের আগে গ্রেফতার ব্যক্তিকে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন বা মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে বক্তব্য উপস্থাপন সমীচীন নয় বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের পক্ষে মত দিয়েছেন আদালত।
১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিনের বিষয়ে প্রকাশিত রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
আইনের অনেক বিষয় আমরা সাধারণভাবে জানি কিন্তু প্রায়োগিককাালে সেটার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় না। আদালত সে কথাটিই আবারো স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আদালত বলেন, ‘আমাদের সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত অভিযুক্ত বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত না হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে বলা যাবে না যে তিনি প্রকৃত অপরাধী বা তার দ্বারাই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। গণমাধ্যমের সামনে গ্রেফতার কোনও ব্যক্তিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা সংগত নয় যে, তার মর্যাদা ও সম্মানহানি হয়। তদন্ত চলাকালে অর্থাৎ পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের আগে গণমাধ্যমে গ্রেফতার কোনও ব্যক্তি বা মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে এমন কোনও বক্তব্য উপস্থাপন সমীচীন নয়, যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বিতর্ক বা প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।’
অপরাধ দমনে দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং গণমাধ্যম নির্দ্বিধায় অনুচিত কাজটিই করে যাচ্ছে। হয়ত চূড়ান্ত বিচারে অভিযুক্ত নির্দোষ প্রমাণিত হলো- কিন্তু তার আগেই তার এবং তার পরিবারের মর্যাদা, সুনাম বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে। আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও লক্ষ্য করি সেখানের কোনো অভিযুক্তকে মিডিয়ার কাছে ওপেন করে দেয়া হয় না। আদালতে নেয়ার সময়ও অভিযুক্তের মুখম-ল ঢেকে দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। অভিযুক্তকে গণমাধ্যমের সামনেই হাজির করা শুধু নয়- অভিযুক্তের বুকে অপরাধের ধরন উল্লেখ করে নাম লিখে দেয়া হয়। বা অভিযুক্তের হাতে অস্ত্র দিয়ে গণমাধ্যসের সামনে হাজির করা হয়। গণমাধ্যম সে সব ছবি সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করে। আদালত যথার্থভাবেই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার আগেই গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হয়, যা অনেক সময় মানবাধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অমর্যাদাকর এবং অ-অনুমোদনযোগ্য।
এই পরিিেস্থতির অবসান হওয়া বাঞ্ছনীয়। আমাদেরকে ক্রমশ উন্নত ধারণার দিকেই এগোতে হবে। এটাই সভ্যতার লক্ষণ। পশ্চাদপদতা সমাজকে বিভ্রান্ত করে যেমন, তেমনি অপরাধ ক্ষোভ ও অনাস্থার সৃষ্টি করে। আদালতের সাথে সহমত পোষণ করে আমরাও বলতে চাই- এ বিষয়ে নীতিমালা থাকা বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ