অর্থনীতি সচলের উদ্যোগ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসম্ভব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা যেতে পারে?

আপডেট: April 29, 2020, 12:06 am

লকডাউনের মধ্যে রোজার সময় ঢাকা মহানগরীতে দোকান খোলা রাখার সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে; হোটেল-রেস্তোরাঁয় ইফতার সামগ্রী বিক্রিরও অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার নিত্যপণ্যের দোকানগুলো সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেয়া হচ্ছিল এতদিন। এখন বিকাল ৪টা পর্যন্ত সেসব দোকান খোলা রাখা যাবে। নগরবাসীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নিতে হবে।
অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে করোনার প্রাদুর্ভাবের মাঝেই সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশের গার্মেন্ট খাতের মালিকরা। সরকার ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে প্রথম দিন ২৬ এপ্রিল রাজধানীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৪০টি কারখানা খোলা ছিল। ২৭ এপ্রিল নতুন করে ৬০টির মতো কারখানা খুলেছে। এতদসংক্রান্ত খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে।
বিপর্যস্থ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার অন্য কোনো বিকল্প নেই। একেবারে হাল ছেড়ে দেয়ার অর্থই হবে অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পড়া। সেই পরিস্থিতিতে যাতে না যেতে হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ সচল রাখতে হবে। টানা লকডাউনের ফলে সব শ্রেণির মানুষই ঘোর বিপদের মধ্যে আছে। অনেক মানুষের রুটি-রুজির পথ বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমজীবী মানুষের বিপদটা আরো বেশি। কেননা শ্রম বিক্রি করেই তাদের জীবিকা চালাতে হয়। সরকারি যা সাহায্য পাচ্ছে তাতে করে জীবনের দায়কে টেনে নেয়া সম্ভব নয়। কোনো সরকারের পক্ষেও দিনের পর দিন বিশাল সংখ্যক মানুষের ক্ষুধা নিবৃত্তের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। এরজন্য বিকল্প কিছু দরকার যাতে করে যেখানে যতদূর সম্ভব অর্থনৈতিক চাকাটা সচল রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা।
আমরা জানি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ করোনাভাইরাস সংক্রমণে হটস্পট হিসেবে গন্য হচ্ছে। কিন্তু তারপরও সেখানে গার্মেন্ট কারখানাগুলো চালু করতে হচ্ছে। কেননা এখন বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, উৎপাদন ব্যবস্থায় না ফিরলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবেই ক্রেতা হারাবে। এর ফলে পোশাক শিল্প বড় সঙ্কটের মুখে পড়বে। সন্দেহ নেই পোশাক শিল্প দেশের শ্রমঘন শিল্প। স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গার্মেন্টগুলো চালু করা হচ্ছে। যাদিও এটা নিয়ে সমালোচনাও আছে।
ঢাকা অতিবিপজ্জনক হওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে গার্মেন্ট চালু করতে পারলে দেশের গ্রিনজোনগুলো কিংবা অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সম্ভাব্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চালুর উদ্যোগ নেয়া যায় কি না সেটাও বিচেনায় নেয়া দরকার। যে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চালানো সম্ভব সেগুলো শর্তারোপ করে চালুর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ইদ কে সামনে রেখে টেইলার্স ও কাপড়ের দোকানগুলো এখন থেকেই একটা নির্ধারিত সময়ের জন্য খুলে দেয়া যেতে পারে। বরং বিলম্বে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি পেলে তখন ভিড়ের আধিক্য এতোই বেশি হবে যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ