অসময়ের বর্ষণে ঈশ্বরদীতে ৭শ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি ও ধানের ক্ষতি

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৭, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


অসময়ের বর্ষণে ঈশ্বরদীতে এভাবেই ধান মাটিতে পড়ে গেছে-সোনার দেশ

অসময়ের অতিবর্ষণে এবার ঈশ্বরদীতে শীতকালীন সবজি ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী শীতকালীন ২শ হেক্টর জমির সবজির এবং ৫শ হেক্টর জমির ধানে ক্ষতি হয়েছ।
উপজেলা কৃষি অফিসার রওশন জামাল জানান, সব মিলিয়ে ৭শ হেক্টর জমির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার ঈশ্বরদীর কৃষকদের হিমসিম খেতে হবে। গতকাল বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে ধানের গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। কোন কোন জায়গাতে ধান গাছ পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আধাপাকা ধানের। প্রায় জমির ধান পানির নিচে পড়ে আছে। এছাড়া শীতকালীন সবজির মধ্যে শিম, পেঁপে, মরিচ, ঢেঁড়স, চিচিংগা, করলা, ঝিঙ্গেসহ অন্যান্য সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, আমরা এই ধানের আশাতে বুক বেঁধে আছি আর হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে আমাদের কষ্ট করে উৎপাদিত ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এবার কৃষকেরা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ি ধান ঘরে তুুলতে পারবে না। যেখানে প্রতি বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ মন ধান হতো সেখানে ৫ মন ধান হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। এছাড়া শিম, পেঁপে, মরিচ, ঢেড়স, চিচিংগা, করলা, ঝিঙ্গেসহ অন্যান্য সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত কৃষক বেলি বেগম বলেন, তার দুই বিঘা শিম খেতে জলাবদ্ধতায় পানি জমে থাকায় ফলন্ত শিম গাছ মরে যাচ্ছে। এছাড়া ৫ বিঘা জমির আধাপাকা ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার মতো কষ্ট করে ধান লাগিয়ে যে সকল কৃষক লাভের আশায় বুক বেঁধেছিলেন তাদের গোলায় এবার ধান উঠবেনা।
বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান ময়েজ বলেন, টানা বর্ষণে এবছর ঈশ্বরদীতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, এবার তার খামারে ৪ বিঘা জমিতে টমেটোর চারা লাগিয়েছিলেন টানা বৃষ্টির কারণে তা মরে গেছে। ময়েজ বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে তার খামারের ৫ হাজার ফলন্ত পেঁপে গাছ মারা গেছে। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রওশন জামাল বলেন, অতি বর্ষণের কারণে এবছর ঈশ্বরদীতে কৃষকের উৎপাদিত উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, শিম, পেঁপে, মরিচ, ঢেঁড়স, চিচিংগা, করলা, ঝিঙ্গে, পেঁপে গাছ পানি সহ্য করতে পারে না। জমিতে পানি জমলে এসব গাছ মারা যায়। যাদের এ ধরনের সবজি মারা গেছে তাদের স্বল্প মেয়াদি সবজি আবাদের জন্য কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। জলাবদ্ধ জমি থেকে পানি বের করার জন্য অতিদ্রুত কৃষকদের নালা তৈরির পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ