অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৯, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মঞ্চ তৈরি করেই রেখেছিলেন বোলাররা। বাকি কাজটা সারলেন ব্যাটসম্যানরা। সহজভাবে বললে জেসন রয়। ব্যস তৈরি হয়ে গেল ফাইনালের পথ! বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে আক্ষরিক অর্থেই উড়িয়ে ১৯৯২ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ড। এজবাস্টনের সেমিফাইনালে ইংলিশদের জয়টা ৮ উইকেটের।
এরই সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে গেল এবারের বিশ্বকাপ পাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। আগামী রোববারের ফাইনালে ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের। ইংলিশরা তিনবার ফাইনাল খেললেও শিরোপার স্বাদ পাওয়া হয়নি একবারও। অন্যদিকে গত আসরে ফাইনাল খেললেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে হতাশ হতে হয়েছিল কিউইদের। এবার সেই অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে লর্ডসের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
লক্ষ্যটা মোটেও কঠিন ছিল না। বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ২২৩ রানে গুটিয়ে দেয় ইংলিশরা। সেই লক্ষ্য জেসন রয়ের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে জো রুট ও এউইন মরগানের দৃঢ়তায় মাত্র ৩২.১ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় স্বাগতিকরা।
উদ্বোধনী জুটিতেই জয়ের সুবাস পেতে থাকে ইংল্যান্ড। রয় ও জনি বেয়ারস্টোর ব্যাটে তারা পায় ১২৪ রানের ওপেনিং জুটি। তাদের সামনে অসহায় ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা। মিচেল স্টার্ক বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছেন ঠিকই, তবে ১ উইকেট নিতে ৯ ওভারে তার খরচ ৭০ রান! গ্লেন ম্যাকগ্রাকে (২৬) সরিয়ে নির্দিষ্ট কোনও বিশ্বকাপে স্টার্কের ২৭ উইকেট এখন সর্বোচ্চ।
তার বলেই অস্ট্রেলিয়া পায় প্রথম উইকেট। ৩৪ রান করা বেয়ারস্টোকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন স্টার্ক। তবে অন্যপ্রান্তে তা-ব চালিয়েছেন রয়। যদিও বিতর্কিত আউটে শেষ হয় তার চমৎকার ইনিংস। বল তার ব্যাট কিংবা গ্লাভসে না লেগেও ক্যাচ আউট হয়ে ফিরেছেন ইংলিশ ওপেনার! আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের বলি হয়ে ৮৫ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন রয়।
তার তা-বে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সেঞ্চুরির পথেও হাঁটছিলেন এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু আম্পায়ারের ‘ভুল’ সিদ্ধান্তে ফিরতে হয় প্যাভিলিয়নে। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে প্যাট কামিন্সের বল তার ব্যাট কিংবা গ্লাভসে না লেগেই জমা পড়ে উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে। বেশ কিছুক্ষণ ভেবে আঙুল তুলে আউটের সংকেত দেন আম্পায়ার। হতাশ হয়ে ফেরার সময় রয় তার ৬৫ বলের ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন ৯ চার ও ৫ ছক্কায়।
এই ব্যাটসম্যানের ফেরার পর বাকি কাজটা সেরেছেন রুট ও অধিনায়ক মরগান। ৭৯ রানের অবিছিন্ন জুটিতে নিশ্চিত করেন ইংল্যান্ডের ফাইনাল। রুট ৪৬ বলে ৮ বাউন্ডারিতে অপরাজিত থাকেন ৪৯ রানে, আর মরগান ৩৯ বলে ৮ বাউন্ডারিতে খেলেন হার না মানা ৪৫ রানের ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ৪৯ ওভারে ২২৩ (ওয়ার্নার ৯, ফিঞ্চ ০, স্মিথ ৮৫, হ্যান্ডসকম ৪, কেয়ারি ৪৬, স্টয়নিস ০, ম্যাক্সওয়েল ২২, কামিন্স ৬, স্টার্ক ২৯, বেহরেনডর্ফ ১, লায়ন ৫*; ওকস ৮-০-২০-৩, আর্চার ১০-০-৩২-২, স্টোকস ৪-০-২২-০, উড ৯-০-৪৫-১, প্লাঙ্কেট ৮-০-৪৪-০, রশিদ ১০-০-৫৪-৩)।
ইংল্যান্ড: ৩২.২ ওভারে ২২৬/২ (রয় ৮৫, বেয়ারস্টো ৩৪, রুট ৪৯*, মর্গ্যান ৪৫*; বেহরেনডর্ফ ৮.১-২-৩৮-০, স্টার্ক ৯-০-৭০-১, কামিন্স ৭-০-৩৪-১, লায়ন ৫-০-৪৯-০, স্মিথ ১-০-২১-০, স্টয়নিস ২-০-১৩-০)।
ফল: ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ক্রিস ওকস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ