‘অহিংস ১৫০ প্রতিবাদীকে হত্যা করেছে নাইজেরীয় নিরাপত্তা বাহিনী’

আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০১৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
গত বছরের অগাস্ট থেকে বিয়াফ্রাপন্থি ১৫০ জনেরও বেশি অহিংস আন্দোলনকারীকে নাইজেরীয় নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করেছে বলে অভিযোগ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের।
প্রায় ২০০ মানুষের সাক্ষাৎকার, ১০০ ফটোগ্রাফ ও ৮৭টি ভিডিওর ভিত্তিতে তৈরি করা মানবাধিকার সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ করা হয়েছে, জানিয়েছে বিবিসি।
অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইগবো জনগোষ্ঠীর যেসব আন্দোলনকারী স্বাধীন বিয়াফ্রার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন, দেশটির সামরিক বাহিনী তাদের দমনে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নাইজেরীয় পুলিশ। অপরদিকে দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, অ্যামনেস্টি তাদের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তার মধ্যে কয়েকটিকে ‘বিচার বহির্ভূত হত্যা’ বলে অভিহিত করেছে অ্যামনেস্টি।
এগুলোর মধ্যে চলতি বছরের মে-তে বিয়াফ্রা স্মরণ দিবসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকা- অন্যতম। ওই সময় অনেচা শহরে দুই দিনে ৬০ ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
অ্যামনেস্টি নাইজেরিয়ার অন্তর্র্বতীকালীন পরিচালক মাকমিদ কামারা বলেন, “বিক্ষোভ সামাল দেয়ার এসব বেপরোয়া ও কিছু ঘটলেই গুলি করার মানসিকতার বলি হয়েছে অন্তত ১৫০টি প্রাণ, প্রকৃত সংখ্যাটি সম্ভবত আরও অনেক বেশি হবে।”
একবার এক পুলিশকে গুলি করা ও নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পাথর ছোড়ার মতো দু’একটি ঘটনা বাদে বিয়াফ্রাপন্থি আন্দোলন ‘অনেকটাই শান্তিপূর্ণ’ বলে মত অ্যামনেস্টির।  তারা বলেছে, “পুরো জনসমাবেশ ঠেকাতে যে পরিমাণ শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে তা এসব সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা সত্ত্বেও বৈধতা পায় না।”
তবে নাইজেরীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সানি উসমান দাবি করেছেন, “উস্কানিমূলক ও বাড়াবাড়ি রকমের সহিংসতা সত্ত্বেও সামরিক বাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ ধৈর্য্য দেখিয়েছে।”
নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্র বিয়াফ্রা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে আসছে ইগবো জনগোষ্ঠী।- বিডিনিউজ