আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কড়াকড়ির মধ্যেও সড়কে বিশৃঙ্খলা

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৮, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীতে এসব যানবাহনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা নির্বিঘ্ন চলাচল করে-সোনার দেশ

ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ শুরু হওয়ায় রাজশাহীতে বেড়েছে বৈধ কাগজপত্রের সংখ্যা। তবু থেমে নেই সড়কের বিশৃঙ্খলা সেই আগের মতোই সড়কে বেপোরোয়া গতিতে চালানো হচ্ছে গাড়ি। যত্রতত্র করা হচ্ছে পার্কিং। ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন গাড়িও চলছে দেদারসে। ফলে নিয়মমাফিকভাবেই সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। নিহত হচ্ছেন পথচারী, যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। কখনো কখনো চালকরাও বাদ পড়ছেন না সেই নিহতের তালিকা থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের কড়াকড়িতে কিছুটা বৈধ কাগজপত্রের সংখ্যা বাড়লেও ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ির সংখ্যাও কম নয় সড়কে। যদিও ট্রাফিক পুলিশ সপ্তা শুরু হওয়ায় গাড়ির সংখ্যা কমেছে সড়কে। খোদ নগরীতেই দেদারসে লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চলছে। গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে যত্রতত্র। ফলে নগরীতে যানজট লেগেই আছে। নগরীতে প্রায় ২০ হাজারের মতো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চললেও যার মধ্যে লাইসেন্স আছে মাত্র ৮ হাজার ৭০০ অটোরিকশার। ব্যাটারিচালিত রিকশা ১০ হাজারের মতো চললেও লাইসেন্স আছে মাত্র ৫ হাজার ৪০০টি রিকশার। এর বাইরে আছে প্যাডেল রিকশা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল। ফলে সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়া যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে নাগরিক ভোগান্তিও বেড়ে চলেছে। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল তৈরি করা হলেও সেগুলো এখন অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। জেব্রা ক্রসিং কেউ ব্যবহার করে না। শহরে দিনেদুপুরে দাপিয়ে বেড়ায় বাস-ট্রাক।

সিটি করপোরেশনের বাইরের মহাসড়কগুলোও নৈরাজ্যে ভরপুর। বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। প্রায় প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। জেলার কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে মানুষজন। বিশেষ করে রাজশাহীর পুঠিয়া থেকে গোদাগাড়ী মহাসড়কে দুর্ঘটনার পরিমাণ ভয়াবহ। এতো ভয়াবহ যে, এই সড়কে এক দিনে ১০ জন মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া মহাসড়কে মহেন্দ্রা, লেগুনা ও ভটভটির মতো থ্রি-হুইলার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকলেও দেদারসে সড়কে সেই যানবাহনগুলো চলছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূরে সাঈদ বলেন, নগরীতে লাইসেন্সধারী ৮ হাজার ৭০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত ৫ হাজার ৪০০টির মতো রিকশা আছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় বিচারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা গাড়ির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করেন। যাদের গাড়ির কাগজপত্র কিংবা লাইসেন্স ছিলো না তাদের ট্রাফিক পুলিশের কাছে নিয়ে গিয়ে মামলা দিতে বাধ্য করেন। সেই আন্দোলনের মধ্যেই গত রোববার থেকে ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ শুরু হয়। ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ শুরু হওয়ায় নগরীর মোড়ে মোড়ে যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ফলে গ্রাহকরা বৈধ কাগজপত্রের জন্য ভিড় করেন বিআরটিএ কার্যালয়ে।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবারও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২৭৫টি মামলা দায়ের করা হয়। আর ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৯২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, নগরীর সাতটি পয়েন্টে গাড়ির বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান চলছে। এই ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহের মাধ্যমে অভিযান ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ শুরু হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে হেলমেট পরার প্রবণতা বেড়েছে। সড়কে গাড়ির সংখ্যা কমলেও বৈধ কাগজপত্রওয়ালা গাড়ির সংখ্যাও বেড়েছে।
বিআরটিএরতে বৈধ গাড়ির কাগজপত্র করতে হলে রাজশাহীর নগরীর এনবিআর কর্মাশিয়াল ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। সেই শাখায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সেখানে বৈধ কাগজপত্রের সংখ্যা বেড়েছে। অন্য সময়ে যেখানে প্রতিদিন সবমিলিয়ে ৮০টির মতো আবেদন পড়ে, সেখানে ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহের কারণে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুইশোটি আবেদন পড়ছে। বৈধ কাগজপত্রের জন্য আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে বলে স্বীকার করেছেন বিআরটিএ, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল শাখা) স্বদেশ কুমার সাহা। তিনি বলেন, ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হওয়ায় গ্রাহকদের ভিড় বেড়েছে। গ্রাহকরা নিয়মকানুন মেনেই কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।