আইন অমান্য করে || রাণীনগরে বেড়েই চলেছে ফসলি জমিতে পুকুর খনন

আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

আবদুর রউফ রিপন, রাণীনগর



নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে দিন দিন বেড়েই চলেছে ফসলি জমিতে পুকুর খনন। বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে অসাধু মাছ চাষিরা স্থানীয় কৃষকদের ধানী জমি লীজ নিয়ে ফসলি জমিতে স্কেবেটার মেশিন দিয়ে খননের মহোৎসব চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলছে না বলে অনেকের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে নদী-নালা ও খাল-বিল বাদে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। শ্রেণি ভেদে প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোন না কোন ধরণের ফসলের চাষ করা হয়। এক শ্রেণির কৃষকরা পুকুর ব্যবসায়ী ও ইট ভাটা মালিকদের লোভনীয় অফারের ফাঁদে পড়ে প্রতি বিঘা জমি বছরে ১২ হাজার টাকা দরে ১০ বছরের জন্য লিজ প্রক্রিয়া চুক্তিনামা করে চাষযোগ্য ফসলি  জমিতে বড় বড় পুকুর খনন করছে। আর পুকুর খননের মাটি প্রতি গাড়ি (ট্রাক্টর) ৬শ থেকে ৭শ টাকায় ইট ভাটায় বিক্রয় করছে পুকুর ব্যবসায়ীরা।
কৃষি অফিসের তথ্য মতে, শুধু চলতি মৌসুমেই প্রায় পাঁচশ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পুকুর খননের কারণে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে আগামী মৌসুমে প্রায় আরো ২শ হেক্টর জমি চাষযোগ্যতা হারাবে বলেও আশঙ্কা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পুকুর খননের প্রবনতা লক্ষ্য করা গেলেও বিশেষ করে মিরাট ইউপি’র আয়াপুর ও আতাইকুলা মৌজার এক নম্বার ও দুই নম্বার স্লুইচ গেট নামক স্থানে পুকুর খননের প্রবনতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া বিনতে তাবিব তাৎক্ষণিক মেশিন দিয়ে পুকুর খনন বন্ধসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ওসি রাণীনগরকে নির্দেশ দেন। এরপর ওই দিনই নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে এক স্কেবেটার চালককে থানায় আনলেও পরে তাকে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান রাণীনগর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।
এ ব্যাপারে উপজেলার বান্দাইখারা গ্রামের রমজান আলী জানান, আতাইকুলা মৌজার দুই নম্বার স্লুইচ গেটের পার্শ্বে ২১ বিঘা জমি প্রতি বছর ১২ হাজার টাকা বিঘা পুকুর খননের জন্য ১০ বছর মেয়াদী লীজ নিয়েছি। সেই জমিতে মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর তৈরি করছি।
আতাইকুলা গ্রামের মোকলেছুর রহমান জানান, পুকুর খননের শুরুতেই আমি ও মনিরুল হাসান রনি দুইজনেই উপজেলা সহকারী কমিশনার বরাবরে জনস্বার্থে পৃথক পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছি। এর পরেও তারা দেদারছে পুকুর খননের কাজ অব্যাহত রেখেছে।
কৃষি অফিসার এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, কৃষি জমিতে পুকুর খননের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় আতাইকুলা মৌজার বেশকিছু জমিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধান না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) লিলুফা ইয়াসমিন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মিরাট ইউপি’র ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই জমির কিছু মালিকরা জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। সেগুলোও তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে আমার দফতরে দেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, কোন অনুমতি ছাড়াই কিছু লোকজন সেখানে পুকুর খনন করছে এমন অভিযোগ পাবার পরে সেখানে গিয়ে তাদেরকে পুকুর খননের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি। এর পরেও যদি তারা কাজ অব্যাহত রাখে তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।