আওয়ামী লীগের রেকর্ড ভোট, বিএনপির অর্ধেক জামানতহারা

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৯, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোটের হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে, বিএনপির এত বেশি প্রার্থীও আর কখনও জামানত হারাননি।
নির্বাচন কমিশন ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের যে ফলাফল ঘোষণা করেছে, তাতে প্রদত্ত ভোটের ৭৬ দশমিক ৮০ শতাংশ পড়েছে আওয়ামী লীগের নৌকায়।
এর আগে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল প্রদত্ত ভোটের ৭২.১৪ শতাংশ, আর ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে পেয়েছিল ৭৩.২০ শতাংশ।
দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ৩০ ডিসেম্বর ভোট হয় ২৯৯ আসনে। গোলযোগের কারণে একটি আসনের ফল সেদিন স্থগিত রাখা হয়। বাকি ২৯৮ আসনের ফলাফলের গেজেট ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
২৯৮ আসনে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট সেদিন বাক্সে পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড ৮৭.১৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
# ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে
# ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অধিকাংশ দল বর্জন করে
# ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগসহ অধিকাংশ দল বর্জন করে
# ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি ও শরিকরা বর্জন করে। ১৫৩ আসনে একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। ভোট হয় ১৪৭ আসনে
এবার আওয়ামী লীগ ও শরিক কয়েকটি দল মিলিয়ে নৌকার প্রার্থী ছিলেন ২৭১ জন। তাদের মধ্যে নৌকার প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ২৬৫টি আসনে। দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৫৭ আসন।
অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন মোট ২৮১ জন। সব মিলিয়ে প্রদত্ত ভোটের ১৩.৫১ শতাংশ পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।
অতীতে বিএনপির ভোটের হার মোট প্রদত্ত ভোটের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করত। এত কম ভোট বিএনপি আর কোনো নির্বাচনে পায়নি।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন পাঁচটি আসনে। আর জোটগতভাবে তারা পায় সাতটি আসন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থগিত আসনেও বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়।
অন্যদিকে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি ১৭৪ আসনে তাদের লাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী দিয়ে মোট প্রদত্ত ভোটের ৫.৩৭ শতাংশ পেয়েছে। লাঙ্গলের ইতিহাসে এটাই সর্বনিম্ন ভোট। ভোটের অংকে বিএনপির চেয়ে কম হলেও জাতীয় পার্টি এবার আসন পেয়েছে ২২টি।
জামানত গেছে অধিকাংশের
দেশে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের সবগুলোই একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলে এবার প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৫০ জনের বেশি। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪২২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে রেকর্ড ১৯৩৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়, যা মোট প্রার্থীর ৬৯ শতাংশ।
নির্বাচনী আইন অনুসারে একটি আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবার ২০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে প্রার্থীদের।
এবারের একাদশ সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা মার্কায়। তাদের ২৯৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৯৬ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ধানের শীষের ২৮১ প্রার্থীর মধ্যে ১৬০ জনের (৫৭ শতাংশ) জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে এবার। আর লাঙ্গলের ১৭৪ প্রার্থীর মধ্যে ১৫০ জন (৮৬ শতাংশ) জামানত হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেউ জামানাত হারাননি।
নবম সংসদ নির্বাচনে ৯৬৯ জন জামানত হারিয়েছিলেন। তার মধ্যে আওয়ামী লীগের চার জন, বিএনপির ১৪ জন ও জাতীয় পার্টির ১৩ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়মী লীগের কেউ জামানত হারাননি, জাতীয় পার্টির ৪১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ