আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে সংগঠন এখনই লাগাম টেনে ধরার সময়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

কাদের বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে দোকান খুলেছে, এসব দোকান বন্ধ করতে হবে’।
“কখনও বঙ্গবন্ধু, কখনও নেত্রীর ছবি, কখনও জয়ের ছবি ব্যবহার করে কিছু কিছু লোক আজকে রাজনীতির দোকান খুলে বসেছে। চাঁদাবাজি করে ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করে। কাজেই এদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।”
বুধবার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাঁতী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন নামে বিভিন্ন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটতে থাকে। আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, দলটির নির্বাচনী প্রতীক নৌকা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতাসহ দলের রাজনৈতিক চেতনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে এসব সংগঠনের নামকরণ করা হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমে তথ্য অনুযায়ী এ ধরনের শতাধিক সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠনের কোনো অফিস বা নির্দিষ্ট ঠিকানাও নেই। এমনকি সংগঠনগুলো যারা তৈরি করছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তারা তেমন একটা সংশ্লিষ্টও নন। আবার আওয়ামী লীগের বিপরীতমুখী রাজনৈতিক দর্শনের লোকেরাও এসে এসব সংগঠনে ভিড়ছেন। তবে নামের সঙ্গে আওয়ামী লীগকে যুক্ত করায় সাধারণভাবে এ দলের সংগঠন হিসেবেই দৃশ্যমান হচ্ছে। আবার এসব সংগঠনের সুযোগও নিচ্ছে একটি গোষ্ঠী। আওয়ামী লীগকে বিতর্কিত করার জন্য দলটিকে জড়িয়ে বিভিন্ন নাম দিয়ে সংগঠনের ব্যানার তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিচ্ছে।
এসব সংগঠনগুলো নামসর্বস্ব হলেও এর নেতাকর্মিরা নানা অপকর্মের সাথে জড়াচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগ ও সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে) এটা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মানছেন। সংগঠনগুলো হওয়ার পেছনে রাজনীতির চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থই মূল উদ্দেশ্য বলে আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এগুলোর কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগকে সমালোচনায় পড়তে হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না দলটি।
এসব ভূঁইফোড় সংগঠনের ব্যাপারে অনেক আগে থেকেই সংবাদ মাধ্যমগুলো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে সতর্ক করে আসছে। তদুপরিও ওই সব নাসর্বস্বদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বরং ওইসব সংগঠন করতে স্বার্থান্বেষীরা উৎসাহিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দল ও সরকার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে। কেননা ওইসব সংগঠনের নেতাকর্মিরা সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি থেকে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওই সংগঠনের প্রতি হুশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি এর আগেও সতর্ক করেছেন। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখন সময় এসেছে ওই সব সংগঠন নিষিদ্ধ করার। না হলে পরিস্থিতির আরো অবনতির আশংকা থেকেই যাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ