আক্কেলপুরে জমির জন্য বড় ভাইকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

আপডেট: ডিসেম্বর ৩০, ২০১৭, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি


সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধ মুসা-সোনার দেশ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামে বৃদ্ধ বড় ভাইয়ের সাত শতক জমি কেড়ে নিতে ছোট তিন ভাই মামলা, হামলাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ওই গ্রামের মৃত ইয়াসিন সোনারের বড় ছেলে প্রায় ষাট বছর বয়সী বৃদ্ধ মুসা সোনার তার ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে এমন আিভযোগ করলেন।
বৃদ্ধ মুসা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, তার দুই সন্তান বর্তমানে দুবাই ও মালেশিয়ার প্রবাসী। এ অবস্থায় তিনি স্ত্রী, এক পুত্রবধূ ও এক নাতীকে নিয়ে ২০০৮ সালের রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা সূত্রে প্রাপ্ত ১৫ শতক জমির উপরে নির্মিত বসতবাড়িতে বসবাস করে আসছেন। এ অবস্থায় সম্প্রতি মুসার ছোট তিন ভাই মামুনুর রশিদ, আলী রায়হান ও মাহমুদুন্নবী হিরো ওই ১৫ শতক জমি থেকে জোর করে সাত শতক জমি কেড়ে নিয়ে তাকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বৃদ্ধ স্ত্রী ও তাকে বেদম মারপিট করে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা না নিলে জয়পুরহাট চিফ জডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হামলাকারী ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মুসা সোনার। এতে উত্তেজিত ওই তিন ভাই বড় ভাই বৃদ্ধ মুসার বিরুদ্ধে পরপর চাঁদাবাজি, চুরিসহ ছয়টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, ‘আক্কেলপুর থানা পুলিশ আমার ভাইদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ঘটনাস্থল গোপীনাথপুর গ্রামে না গিয়ে গোপনে দায়সারা মিথ্যা রিপোর্ট তৈরি করে আমাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়ে দিলে গত ১৯ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পাই। জেলে থাকাবস্থায় তিন ছোট ভাই ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে তার বাড়িতে লুটতরাজ করলেও তিনি কোন বিচার পান নি। বৃদ্ধ মুসা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ওই তিন ছোট ভাইকে কোলে-পিটে করে বড় করেছি, তারাই কিনা বহিরাগত সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীদের মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে আমাকে আমার বসতবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে চায়। আমার স্ত্রী, পুত্রবধূ ও একমাত্র নাতীসহ আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।’ এ অবস্থায় তিনি স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাবালক নাতীকে নিয়ে প্রাণ ভয়ে দিন পার করছেন বলে নিরুপায় হয়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের ন্যায়বিচার প্রার্থণা করছেন বলেও জানান বৃদ্ধ মুসা সোনার।
তবে মুসা সোনারের অভিযুক্ত তিন ভাইয়ের পক্ষে আলী রায়হান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদেরই বরং হয়রানি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, কোন ব্যক্তি বা পক্ষ মামলা দিলে পুলিশ আইনানুগভাবেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এটাই স্বাভাবিক।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মুসা সোনারের স্ত্রী শাহিনা বেগম, প্রতিবেশী সামছুল হুদা, গোলাম মোস্তফা, পাশর্^বর্তী ক্ষেতলাল উপজেলার মাটিহাঁস গ্রামের তাহেরা বেগম ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।