আগামি দিনের আওয়ামী লীগ হবে আরো স্মার্ট ও ক্লিন ইমেজের : ওবায়দুল কাদের

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের-সোনার দেশ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলে ক্লিন ইমেজের লোক দরকার। আগামি দিনে দলের নেতৃত্বে ক্লিন ইমেজের লোক আসবে। যাদের সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে। আমরা সারাদেশে নতুন মডেলের ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চাই। বিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ চাই। আগামি দিনের আওয়ামী লীগ হবে আরো স্মার্ট, আধুনিক ও ক্লিন ইমেজের।
গতকাল রোববার দুপুরে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।
এসময় ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করে আওয়ামী লীগ টিকে থাকতে পারবে না। এইজন্য ত্যাগী নেতাদের প্রাধান্য দিতে হবে। রাজনীতিতে পার্মানেন্ট বলে কিছু নেই। শেখ হাসিনা ছাড়া কারো পদই পার্মানেন্ট না। কোনো পদ কারো কাছে লিজ দেয়া হয়নি। পদ নিয়ে কেউ বাহাদুরি করবেন না। দলকে গোছান, দলকে শক্ত ভিত্তির উপর গড়ে তুলুন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। এই অ্যাকশনের টার্গেট থেকে কোনো অপকর্ম কারীরা রেহাই পাবে না। মাদকবাজ, টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও জুয়াড়ি কেউই ছাড় পাবে না।
এসময় ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষক বিএনপি গভীর খাদের কিনারে পৌঁছে গেছে। এখন গলাবাজি ছাড়া তাদের আন্দোলন করার কোনো শক্তি নাই।
ওবায়দুল কাদের আগামি ২১ ও ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদোর্ত্তীণ সব কমিটি নতুন করে গঠনের নির্দেশ দেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু প্রমুখ।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ওত পেতে আছে। যেকোনো মুহূর্তে সুযোগ পেলে গর্ত থেকে বের হয়ে ছোবল মারবে। সেইজন্য আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সব বিবাদ নিরসন করে দলকে গতিশীল ও নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এইজন্য কমিটির পুনর্গঠন ও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে আমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের অধিকাংশই জামায়াত-শিবিরের পরিবারের সদস্য। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এইসব অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। দুলাভাই, শ্যালকদের রাজনীতিতে যুক্ত করালে চলবে না। রাজনীতিতে পুরনো ও ত্যাগী ব্যক্তিদের কদর দিতে হবে।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দলের মধ্যে বিবদমান যে পরিস্থিতি রয়েছে তা নিরসনে কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবশ্যই সময় দিয়ে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনতে হবে। দলকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির বক্তব্য শুনা উচিত। আর দলে যাতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়েও কড়া নজরদারি করা প্রয়োজন।
সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে সেসব কমিটি পুনর্গঠন করা গেলে দলের মধ্যে যে স্থবিরতা এসেছে তা কাটিয়ে দলকে চাঙ্গা করা সম্ভব। আমাদেরকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে দলের মধ্যেকার বিবদমান সব দ্বন্দ্ব নিরসন করার বিষয়ে।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা বলেন, আমি একজন শহিদ পরিবারের সন্তান হিসেবে বলতে চাই আপনারা দলে অনুপ্রবেশকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের টানবেন না। যখন দেখি দলে অনুপ্রবেশকারী ও যুদ্ধাপরাধীরা প্রবেশ করেছে তখন শহিদ পরিবারের সন্তান হিসেবে খুব কষ্ট লাগে।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু বলেন, দলের আভ্যন্তরীণ সব কোন্দ্বল কাটিয়ে দলকে সুসংহত করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে দলকে সুসংগঠিত করে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।
প্রতিনিধি সভায় আটটি জেলা ও মহানগরসহ সাংগঠনিক নয়টি জেলার মোট ২৪০ জন প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে আটটি জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা সদর পৌরসভার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং জেলার থানার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মহানগর কমিটির সাংগঠনিক থানা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও প্রতিনিধি সভায় অংশ নেন।
সভায় জেলার নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে দলের অভ্যন্তরে বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। যাতে দলের ত্যাগী ও পুরনো নেতারা মূল্যায়িত হয়। এছাড়া দলীয় এমপিরা নিজেদের পছন্দমত লোক নিয়ে চলাচল করে। তারাই সব কাজে প্রাধান্য পায়। গ্রুপিং ও লবিংয়ে দল বিপর্যস্ত। এইসব নিরসনে দলের বর্ধিত সভায় বিস্তারিত আলোচনা প্রসঙ্গ টেনে আনে।
এর প্রেক্ষিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিটি জেলায় বর্ধিত সভায় সারাদিনব্যাপি আলোচনা হবে। সেখানে আপনারা আপনাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ