আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আত্রাইয়ের প্রান্তিক কৃষক

আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

আত্রাই প্রতিনিধি


আগাম আলু চাষ করতে ব্যস্ত রয়েছে আত্রাইয়ের কয়েকজন কৃষক-সোনার দেশ

নওগাঁর আত্রাইয়ে আমন ধান ঘরে তুলে এখন উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের আলু চাষিরা আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রতি বছর আগাম জাতের আলু চাষ করে লাভবান হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি জমিতে আলু চাষ করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। কিছু দিন আগে যে জমির ধান কেটে ঘরে তুলেছে প্রান্তিক কৃষক সেই জমিতেই এখন আগাম আলুর বীজ রোপণে ব্যস্ত তারা।
আত্রাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর কৃষকরা আলু চাষ করে অধিক মুনাফা করতে পারবে। গত বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ২৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। এবার গত বছরের তুলনায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বেশি পরিমান আলু উৎপাদন হবে মনে করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বীজ ভাল পাওয়ায় আলু চাষে ঝঁকেছে উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার শুকটি গাছা গ্রামের জমসেদ আলী জানান, এবার ১০-১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করবো। হিমাগারে বীজ রেখে বীজের মান ভালো পেয়েছি। আমার বীজের কোনো সমস্যা নেই। জমিতে প্রতিদিন ৮-১০জন কৃষক কাজ করছে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার বেশি লাভের আশা করছি।
উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের কৃষক আবদুুল করিম সরদার জানান, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কবলে পড়ে প্রায় দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এবার আশা করছি কোন ধরণের সমস্যা না হলে আলুতে খরচের চেয়ে দ্বিগুন লাভ হবে।
আলুর বীজের ক্ষতিসম্পর্কে উপজেলার সিংসাড়া গ্রামের আবদুুল কুদ্দুসের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি হিমাগারে বীজের জন্য আলু রেখেছিলাম আমার বীজের কোনো পচন সমস্যা দেখা দেয়নি এবং আলুর বীজ ভাল অবস্থায় পেয়েছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের অধিক বীজ হিমাগারে রাখতে হয় কিন্তু আত্রাই উপজেলায় কোন হিমাগার না থাকায় আমাদের প্রতি বছর পাশর্^বতী উপজেলার হিমাগারে রাখতে হয়। এতে একদিকে ভোগান্তি অপর দিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয় পরিবহন খাতে। তাই আত্রাই উপজেলায় ১টি হিমাগার হলে কৃষকরা আলু চাষ করে স্বস্তি পেত। অপরদিকে আলু চাষের জন্য উপজেলার কৃষি বিভাগ থেকে যথেষ্ঠ পরিমান সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়ার জন্য প্রতিদিন উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ কেএম কাওছার জানান, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছর কৃষকরা আলু চাষ করে অধিক মুনাফা করতে পারবে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদেরকে যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে কোনো প্রকার ক্ষতি না হলে আত্রাই উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাইনয় আলু চাষের জমি গুলোর উর্বরতা বেশি থাকায় কৃষকরা ইরি-বোরো চাষেও এর সুফল পাবে। উপজেলার আলু চাষিরা যে ভাবে আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছে তাতে নওগাঁ জেলার মানুষের চাহিদা পূরণ করেও দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েক হাজার টন আলু রফতানি করতে পারবে বলে জানান তিনি।