আগেই ‘গেম প্ল্যান’ জানতে চান বিসিবি সভাপতি

আপডেট: February 20, 2020, 1:26 am

সোনার দেশ ডেস্ক


সাধারণত আগেরদিন উইকেট, আবহাওয়া এবং কন্ডিশন দেখে খেলার দিন সকালে একাদশ নির্বাচন করেন কোচ ও অধিনায়ক। এমনকি নির্ধারিত ব্যাটিং অর্ডারও ম্যাচের পরিস্থিতির কারণে কখনও কখনও ওলট-পালট করা হয়। এসব পরিবর্তনে কোনও আপত্তি যদি নাও থাকে, তবু টিম ম্যানেজমেন্টের সকল সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আগে থেকে অবহিত থাকতে চান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার টিম ম্যানেজমেন্টকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগে নিয়মিত হালনাগাদ খবর পেতেন, কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে না জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটা ধারা তৈরি হয়েছে। আর এতে বিরক্ত বিসিবি প্রধান। গত বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন তিনি জানতেন, চোটের কারণে মাশরাফি ও মুশফিক খেলছেন না। কিন্তু সকালে দেখেন দুজনই আছেন একাদশে। সর্বশেষ ভারত সফরে গোলাপি বলের টেস্টে টসের সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা করেন নাজমুল হাসান।
টিম ম্যানেজমেন্টর সঙ্গে সভা শেষে বোর্ড প্রধান গতকাল বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ থেকেই এমন হচ্ছে, তারপর আফগানিস্তান সিরিজ। পুরো বদল। আমি যা জানতাম তার কিছুই হয়নি। আমরা দেখেছি যারা জীবনে উপরে খেলেনি, তাদের উপরে খেলানো হয়েছে। এটা বিশাল পরিবর্তন। এই সিদ্ধান্তগুলো হঠাৎ করে খেলার মধ্যে নেওয়া হয়েছে। এরপর পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টিও আমি দেখতে গেলাম, ওখানেও আমি দেখলাম ব্যাটিং অর্ডার বদল, কে কোথায় আসছে না আসছে। এই জিনিসগুলো আমি যেটা জানতাম, সে অনুযায়ী তা হয়নি। মানে আমাকে যেটা বলা হয়েছে তার সঙ্গে কোনও মিল নেই।’
নাজমুল হাসান তাই এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবেই টিম ম্যানেজমেন্টকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, ‘এই ধরনের জিনিস নিয়েই বলেছি। আমি ঠিক করছি না সেরা একাদশ কী হবে। আমি ঠিক করছি না যে আমরা ব্যাটিং নেবো না বোলিং নেবো। এই সিদ্ধান্তগুলো অধিনায়ক, কোচ মিলেই করুক সেটাতে আমার আপত্তি নেই। আমাকে যদি বলা হয় এই হলো ব্যাটিং সিকুয়েন্স, গিয়ে দেখি যদি উল্টো, সেটা যেন আর না হয়। সেটা হতে পারবে না। ’
বিকেএসপিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তরুণ দল গঠন করেছে বিসিবি। আল আমিন জুনিয়র ছাড়া দলের বাকি সবার বয়স বিশের নিচে। বিসিবি প্রধান মনে করেন জাতীয় দলের তরুণ কয়েকজনকে যোগ করে বিসিবি একাদশ গঠন করা যেত। কেন সেটা হয়নি, এটা জানতেই বুধবার বৈঠক ডাকা হয়, ‘এই যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ হচ্ছে, এসব ম্যাচে আগে আমরা ব্যাটসম্যানদের (মূল দলের) দিতাম, তারা খেলতো। বোলারদের দিতাম না। এখানে এখনকার দল যদি দেখেন নতুন কিছু ছেলে আছে, সাইফ আছে, শান্ত আছে। আমরা এদের দিতে পারতাম। যেহেতু তাদের সামনেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে হবে। তাহলে নতুন ছেলেগুলো ওদের বোলিংয়ে একটু হলেও অভ্যস্ত হতো, সাহস পেতো। কিন্তু আমরা দেখলাম কেউ নেই। এটা একটু ভিন্ন। এই যে জিনিসগুলো সব অন্যরকম হচ্ছে। এর কিছুই আমি জানি না।’
এসব ঝামেলার কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে নিজেকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাজমুল হাসান। তাই এদিন কোচ, নির্বাচক, খেলোয়াড়সহ বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে জরুরি সভা করেছেন, ‘এই চমকটা আমিও পাচ্ছি, খেলোয়াড়েরাও পাচ্ছে। তাহলে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে কে। ডেকে বলে দেওয়া হয়েছে কে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সাধারণভাবে আগের ফর্মুলাতেই চলবে। ১৬ জনের স্কোয়াড নির্বাচকেরা দিতে পারবেন। তারপর ১৬ হোক ১৩ হোক এখানকে থেকে সেরা একাদশ অধিনায়ক ও কোচ নিতে পারবেন। কিন্তু আমি আগেরদিন জানতে চাই গেম প্ল্যান কী?’
বিশ্বকাপের পর থেকেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিম্মগামী। টেস্টের পারফরম্যান্স তো আরও ভয়াবহ। শেষ তিনটি টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়েকে হালকাভাবে নিলে এই টেস্টেও এমন কিছু হবে বলে মনে আশঙ্কা বিসিবি প্রধানের, ‘দেশের মাটিতে সবচেয়ে খারাপ যদি কেউ জিজ্ঞেস করে তাহলে বলব আফগানিস্তানের কাছে হারাটা। আফগানিস্তানের কাছে যদি হারতে পারি, তাহলে জিম্বাবুয়ের কাছেও হারতে পারি। সব ভুলে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন মনোযোগ নিয়ে খেলতে হবে। সিনিয়রদের দায়িত্ব নিতে হবে, টিম গেম হতে হবে। জিম্বাবুয়ে শক্ত প্রতিপক্ষ। আমি একা কী করলাম ফিফটি করলাম না কী করলাম কিছু যায় আসে না। টিমওয়ার্ক লাগবে। মুমিনুল তো লাজুক। আমি তামিম, মুশফিক ওদের বলেছি পুরোপুরি তোমাদের যুক্ত হতে হবে।’