আগের হারে ফিরছে পোশাক রফতানির উৎসে কর

আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ভ্যাট আইন স্থগিতের পর এবার তৈরি পোশাক রফতানিতে উৎসে করও আগের মতোই রাখার সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরেও তৈরি পোশাক রফতানিতে উৎসে কর শূন্য দশমিক ৭ শতাংশই বহাল থাকছে। এ ব্যাপারে চলতি মাসেই প্রজ্ঞাপন জারি করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর আগে ব্যবসায়ীদের দাবি ও সংসদে প্রবল সমালোচনার মুখে নতুন ভ্যাট আইন  বাস্তবায়ন দুই বছরের জন্য পিছিয়ে দেয় সরকার।
সদ্য পাস হওয়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক খাতে উৎসে কর ১ শতাংশ করা হয়। বাজেট প্রস্তাবের পর ব্যবসায়ীরা এ হার আগের মতো রাখার দাবি জানালেও অর্থমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত তাতে সায় দেননি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ হার ছিল শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। ওই সময় ১০০ টাকার পোশাক রফতানি করলে উৎসে কর বাবদ সরকারকে ৭০ পয়সা দিতেন রফতানিকারকরা। নতুন উৎসে কর বাস্তবায়ন হলে তাদের প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ১ টাকা দিতে হতো।
এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তৈরি পোশাক রফতানিতে উৎসে করের বিষয়টি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, গত অর্থবছরের মতো এবারও এটি শূন্য দশমিক ৭ শতাংশই থাকবে। এনবিআর কিছুদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।’ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত অর্থবছরও উৎসে কর বাড়িয়ে বাজেট পাস করা হয়েছিল। পরে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।’
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, তৈরি পোশাক রফতানিতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠায় এনবিআর। গত ১০ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই সারসংক্ষেপে অনুমোদনও দিয়েছেন। এখন এটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সূত্র জানায়, গত ২৯ জুন বাজেট পাসের পর তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে এই খাতের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরেন। তারা তৈরি পোশাক রফতানিতে উৎসে কর আগের মতোই রাখার অনুরোধ জানালে প্রধানমন্ত্রী তাতে সায় দেন।
বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১৫ বছরের মধ্যে পোশাক খাতে এবার সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ অবস্থায় উৎসে কর হার ১ শতাংশ হলে এই খাত ক্ষতির মুখে পড়ত। এখন যে সিদ্ধান্ত হচ্ছে, তাতে এই খাতের উৎসে কর আগের মতোই থাকছে।’ উৎসে কর কমানোর সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি খুবই সময়োপযোগী। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তৈরি পোশাক খাত রফতানির বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে।’
এর আগে তৈরি পোশাক, চামড়া, হিমায়িত খাদ্যসহ রফতানি খাতের সব পণ্যের জন্য উৎসে কর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানায় ইএবি। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইএবি জানায়, ‘ইউরোপসহ অন্যান্য দেশের ক্রেতারা ক্রমাগত পণ্যের মূল্য কমাচ্ছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মজুরি, জ্বালানি, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় বেড়েছে। গত পাঁচ বছরে দুই দফায় শ্রমিকদের মজুরি ২১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে। এসব কারণে পোশাক শিল্প চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে সক্ষমতা টিকিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া, বিদেশি ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের শর্ত অনুযায়ী কারখানার সংস্কারকাজে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে টিকে থাকতে এই খাতে উৎসে কর কমানো অত্যাবশ্যক।’