আজও অপেক্ষায় ‘ওমর ফারুকের মা’

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


একাত্তরে ২১ বছরের তরুণ ছিলেন ওমর ফারুক। ছিলেন পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি।
শুরু হলো যুদ্ধ। এক রাতে মাকে কথা দিয়ে গিয়েছিলেন, ফিরে মায়ের হাতে ভাত খাবেন। ওমর ফারুকের আর ফেরা হয়নি। সেই রাতে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। তার কাছে বাংলাদেশের সাতটি পতাকা পায় পাকসেনারা। হাতুড়িপেটা করে একটি পতাকা ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তার মাথায়। শহীদ ওমর ফারুকের লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় কীর্তনখোলায়।
এরপর ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি ওমর ফারুকের মায়ের অপেক্ষা। মা আজও ছেলের অপেক্ষায় তিন বেলা হাঁড়িতে ভাত বসান, রাতে সদর দরজা খোলা রাখেন ছেলের অপেক্ষায়। ছেলে আসবে সেই বিশ্বাস এখনও পুষে রেখেছেন ৯০-ঊর্ধ্ব ওমর ফারুকের মা।
এমন একটি বাস্তব ঘটনা নিয়েই নির্মিত হচ্ছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওমর ফারুকের মা’।
সরকারি অনুদানের এ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন এম এম জাহিদুর রহমান বিপ্লব। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র মা হিসেবে দিলারা জামান ও ওমর ফারুক চরিত্রে অভিনয় করবেন সাঈদ বাবু।
এ ছাড়া অন্যান্য চরিত্রে দেখা যাবে বন্যা মির্জা, শাহেদ শরীফ খান, খাইরুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, সালমা রহমান, আইনুন পুতুল, রিপন চৌধুরী, কাজী রাজু, সৈয়দ শুভ্র, মুকুল সিরাজ, এবিএম মোতাহারুল ইসলাম, প্রণব ঘোষ, রোশেন শরিফ, তুহিন আহমেদ প্রমুখ।
চলচ্চিত্রটি নিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি রেস্তারাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুকের ছোট বোন সালমা রহমান হ্যাপিসহ চলচ্চিত্রটির কলাকুশলীরা।
অনুষ্ঠানে দিলারা জামান বলেন, ‘এটা একটা বাস্তব ইতিহাস। জীবন্ত কিংবদন্তি ওমর ফারুকের মা। যিনি নব্বই-বিরানব্বই বছরের একজন মা। এখনও তার সন্তানের প্রতীক্ষায় আছেন। এটা যেমন একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার, তেমনি অবিশ্বাস্য সত্যিও বলা যায়।’
পরিচালক জানান, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে পিরোজপুরে চলচ্চিত্রটির কাজ শুরু হবে।