‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।/তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে/কোরো না বিড়ম্বিত তারে।’ এভাবেই ঋতুরাজ বসন্তের বন্দনা করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বসন্তকে উপলব্ধি করেছেন এভাবে ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক/ আজ বসন্ত।’ হ্যাঁ, গাছের শাখায় শাখায় রঙিন ফুলের পসরা সাজিয়ে, ঝরিয়ে দিয়ে মলিন পাতার রাশি, বসন্তকে বরণ করে নিতে সেজে উঠেছে প্রকৃতি। শুধু প্রকৃতিই নয় মানুষও তার সকল মলিনতাকে ঝরিয়ে সেজে উঠেছে প্রকৃতির আনন্দে। কারণ আজ মঙ্গলবার পহেলা ফাল্গুন, আজ বসন্তের প্রথম দিন।
ঠিক এক বছর পর আবার ফিরে এলো বসন্ত। এই বসন্ত রাঙিয়ে তুলে মানুষের জীবন, বাড়িয়ে তুলে তার কল্পনা। মানুষ সেই কল্পনার স্বাদ পেতে চায় ব্যক্তি জীবনেও। তাই সে নিজেকেও সাজিয়ে তুলে প্রকৃতির সাথে, অঙ্গাঙ্গিভাবে। তাই সে নারী কিংবা পুরুষ, বৃদ্ধ কিংবা বৃদ্ধা কিংবা শিশু-কিশোর, সবাই নিজেকে সাজিয়ে তুলে প্রকৃতির সাজে, ঠিক যেন কল্পনার আবেশে। তাই সে নারী খোঁপায় ফুল বাঁধে, পরে বাসন্তী রঙের শাড়ি, কিংবা একজন পুরুষ পরে লাল-হলুদের কম্বিনেশনে পাঞ্জাবি। শিশু-কিশোররা তাদের ইচ্ছামাফিক পরে ফতুয়া, ফ্রক কিংবা শাড়ি-পাঞ্জাবি, ঠিক প্রকৃতির রঙে।
শুধু নিজেকে সাজিয়ে তোলাই নয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয় দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো, আড্ডা, হৈ চৈ আর গল্পগুজব। খাওয়া-দাওয়াও বাদ থাকে না। সারাদিনভরই উৎসবে মেতে উঠে পুরো নগরী। চলে শোভাযাত্রা, বাদ্য-ঢাকির তালে তালে নৃত্য, গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি কিংবা নাটক মঞ্চস্থ। দেখে মনে হয়, এ যেন প্রাণের মেলা। প্রাণ যেখানে খুঁজে পেয়েছে নিজেকে। তাইতো মেলে ধরবার কী ব্যাকুল প্রত্যাশা।
দিনটিতে সকাল থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ কিংবা পদ্মা গার্ডেন, টি-বাঁধ, আই-বাঁধ, লালন শাহ মঞ্চ ও পদ্মার চরে বাড়তে থাকে ভিড়। নানা বয়সি মানুষের ভিড়ে স্থানগুলো হয়ে উঠবে লোকে লোকারণ্য।
উইকিপিডিয়া থেকে পাওয়া যায়, পহেলা ফাল্গুন বাংলা পঞ্জিকার একাদশতম মাস। ফাল্গুনের প্রথম দিন ও বসন্তের প্রথম দিন। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন পালিত হয়। বসন্তকে বরণ করে নিতে বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশ্যাসহ অন্যান্য রাজ্যে দিনটি বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়।
কর্মসূচি : দিনটি ঘিরে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক, সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিশু একাডেমি। এর মধ্যে রয়েছে পিঠা উৎসব, সঙ্গীত উৎসব, কবিতা আবৃত্তি। দিনটি ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে দিনব্যাপি চলবে বসন্তবরণ ও পিঠা উৎসব। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগও তারা আলাদা আলাদাভাবে বসন্তবরণ উৎসব পালন করবে। রাজশাহী কলেজেও বসন্তকে বরণ করে নিতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে উদ্যোগে পালিত হবে নাচ, গান ও আবৃত্তি। রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদ বসন্তকে বরণ করে নিতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে আছে, বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর আলুপট্টি বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বিকেল সাড়ে ৫টায় পদ্মা রঙ্গমঞ্চে নিবেদিত কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও সঙ্গীত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ফাল্গুনের এই বসন্তকে বরণ করে নিতে বঙ্গবন্ধু কলেজে বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় কলেজ মাঠে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে উৎসব ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেইজন্য পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিনোদন স্পটগুলোতে। নগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, দিনটি ঘিরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিনোদন স্পটগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকে। এছাড়া থানা পুলিশের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে পুলিশের টহল থাকবে।