আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস প্রতিজ্ঞা হোক শিক্ষা-বঞ্চিত হবে না কোনো শিশু

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

ব্যক্তি, সম্প্রদায় ও সমাজের জন্য লেখাপড়ার গুরুত্ব ও ক্ষমতার বিষয়টি বোঝাতে এই দিবসটি পালন করা হয়। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আমাদেরকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এটা শুধু সরকারের বিষয় নয়Ñ সব মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দিবসের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০১৯ সালের হিসাবে দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬৭ বছর পর্যন্ত সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৭ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। গড় সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
গত বছর গড় সাক্ষরতার হার ছিল ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ। সে হিসেবে এ বছর সাক্ষরতার হার ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সারাদেশে এখানো ২৬ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ নিরক্ষরতার অন্ধকারে রয়েছেন।
যোগাযোগ নির্ভর বর্তমান বিশ্বে বহুভাষায় কথা বলার সক্ষমতা এবং ভাষাগত বিভক্তি সত্ত্বেও যোগাযোগ করতে পারা একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। এমনকি অন্য কোনো ভাষার আংশিক জ্ঞানও লাভজনক। একাধিক ভাষার দক্ষতা আজকের বিশ্বে নতুন ধরনের সাক্ষরতা। তাই ভাষা শিক্ষার সম্প্রসারণ ছোট-বড় সবার প্রয়োজন। বিশেষ করে আমাদের মত দেশে যেখানে লাখ লাখ শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করে।
সাক্ষরতার হার বাড়াতে নানামুখি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাক্ষরতা কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের জন্য উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যালয় বহির্ভূত ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৫ লাখ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সাক্ষরতার হার আরো বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ তথ্য সাফল্যের কথা বলে কিন্তু তা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। বরং বিনিয়োগের তুলনায় সাফল্য কতটুকু তা বিশ্লেষণ করার সময় এসেছে। এক দশক ধরে সাক্ষরতা উন্নয়নে যে সংগ্রাম-আয়োজন তার সাফল্য খুবই সামান্য। এখানে কতটুকু সফলতা, কতটুকু ব্যর্থতার তার নির্মোহ বিশ্লেষণ হওয়া বাঞ্ছনীয়। এসডিজি অর্জনে যে গতিতে এগিয়ে যাওয়ার কথাÑ এই সাফল্য মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। সাক্ষরতা অভিযানে পরিকল্পনায় কিংবা কৌশলগত কোনো অসঙ্গতি বা ত্রুটি থাকলে সেটা দ্রুত সংশোধন করতে হবে।
বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সবার জন্য শিক্ষার বিষয়টিতে জোর দিতে হবে। আমাদের সংকল্পকে আরো শক্তিশালী ও দৃঢ় করতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা যা ঐকমত্য লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। প্রতিজ্ঞা তেমনি হবে যাতে কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না থাকে। এই হোক আমাদের শপথ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ