আজ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন || সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার || কেন্দ্রে গিয়ে ভোটপ্রদানের আহ্বান ভোটারদের

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৯, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ভোট কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি নিয়ে যাচ্ছেন আনসার সদস্যরা-সোনার দেশ

আজ সকাল ৮টা থেকেই রাজশাহীর আটটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবারই সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন অফিস। প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে ব্যালটবাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জামাদি। নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা ভোটারদেরকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজশাহীর আটটি উপজেলায় মোট ৫২২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২১৬টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৩০৬টিকে। প্রতিটি কেন্দ্রে দুই প্লাটুন করে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালনা করা হবে ভ্রাম্যমাণ আদালতও।
পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ জানান, নির্বাচনে জেলা পুলিশের প্রায় ২ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। প্রত্যেক সাধারণ ভোটকেন্দ্রে একজন পুলিশ সদস্যসের সাথে ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। আর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১২ জন আনসার সদস্য ও একজন পুলিশ সদস্যের সাথে আরো একজন পুলিশ সদস্য বাড়বে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় দুটি করে মোট ১০৯টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করছে। প্রত্যেক থানায় রয়েছে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স। প্রস্তুত আছে জেলা পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য আছেন রিজার্ভে। নির্বাচনে নগর পুলিশও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, রাজশাহীতে মোট ১৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। আর ৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য রিজার্ভ হিসেবে মোতায়েন করা হবে। এইসবের সাথে ১টি পিকআপ, ২টি ট্রাক, ৬টি সিভিল পিকআপ, ২টি মোটরসাইকেল এবং দুইটি প্রশিক্ষিত কুকুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডমিনেশন টহল পরিচালনা করছে তারা।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর পুলিশের আওতাধীন ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৬টি। এর মধ্যে পুঠিয়া উপজেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১টি এবং চারঘাটে ৫টি। নগর পুলিশের প্রত্যেক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ভোটকেন্দ্র ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে নগর পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার তানোর উপজেলায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৫১ কেন্দ্রে। ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৩টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে এ উপজেলায়। গোদাগাড়ী উপজেলায় ৯৮ ভোট কেন্দ্রের ৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৫৮টি সাধারণ। মোহনপুর উপজেলায় ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি সাধারণ মিলিয়ে মোট ভোটকেন্দ্র ৪৪টি। বাগমারায় জেলার সর্বাধিক ১০৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর মধ্যে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৯টি সাধারণ। দুর্গাপুরের ৫৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র। জেলার পুঠিয়ায় ৫২ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর মধ্যে ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৯টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র। চারঘাট উপজেলায় ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি সাধারণ মিলিয়ে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪৪টি। এছাড়া বাঘা উপজেলার ৫৯ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এখানকার ২২টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি সাধারণ ধরে নিরাপত্তা কৌশল ঠিক করেছে পুলিশ।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বিকেলের মধ্যে ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। আশা করছি ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
এবার রাজশাহীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন মোট ৮৯ জন প্রার্থী। যাচাই-বাছাই শেষে এদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ১৬ জনের। এদের মধ্যে এক চেয়ারম্যান প্রার্থী, এক ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী ও দুই নারী ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থীর হাইকোর্টের রায়ে তাদের মনোনয়নপত্র ফিরে পান। আটটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১৮ জন চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৩১ জন ও নারী ভাইস- চেয়ারম্যান পদে ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে দুইজন চেয়ারম্যান পদে ও একজন নারী ভাইস- চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছেন। চেয়ারম্যান পদে বাঘার লায়েব উদ্দিন লাভলু ও মোহনপুরের আবদুস সালাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন। দুজনই ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।
বাঘা প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস-চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য ভোটের সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলায় সহকারি রিটানিং অফিসার গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটের সামগ্রী বিতরণ করেন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৩। পুরুষ ভোটার ৭২ হাজার ৫৯০ এবং নারী ভোটার ৭১ হাজার ৯৮৩। মোট ভোট কেন্দ্র ৫৯টি, বুথ সংথ্যা ৪২০টি। ভোট গ্রহণের জন্য ৫৯ জন প্রিজাইডিং ও ৮৪০ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন অনসার, ৪ জন পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। ২৩টি ভোট কেন্দ্র অতিগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নত করা হয়েছে। এছাড়া বিজিবি, র‌্যাব ও ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকায় টহল দিবেন।
বাঘা উপজেলা সহকারি রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজা বলেন, সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে। সকাল থেকে নির্বাচনী সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিতরণ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ