আত্রাইয়ে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৮, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

আবদুুর রউফ রিপন, নওগাঁ


আত্রাইয়ে একাধিক রেলক্রসিং অরক্ষিত থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়-সোনার দেশ

আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর পাশের গেটম্যান আনসার আলী বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ বলে কিছু নেই। আমরা উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে এখানে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন থেকে গেটম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমাদের কোন বেতন ভাতা দেওয়া হয় না। যেসব যানবাহন পারাপার হয় তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা করে তুলে তা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনমতে জীবনধারণ করছি। অনেক সময় টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয় বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের সঙ্গে। তারা আমাদেরকে মূল্যায়ন করতে চায় না। সরকার যদি আমাদেরকে স্থায়ী ভাবে নিয়োগ দিতো তাহলে আমরা আরো ভালো ভাবে সেবা দিতে পারতাম। পরিবার-পরিজন নিয়ে আর একটু ভালো করে বেঁচে থাকতে পারতাম।
স্বাধীনতার ৪৬ বছর পার হলেও নওগাঁর আত্রাইয়ের রেললাইনের একাধিক স্থানে আজও নির্মাণ করা হয়নি রেলক্রসিং। সরকারি ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি কোন জনবলকে। বর্তমানে রেললাইনের ৩টি স্থান অরক্ষিত রয়েছে রেলগেট। যা বর্তমানে এক মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এইসব রেলগেটে আজও কোন স্থায়ী গেটম্যান নিয়োগ করেনি রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রেলগেইট দিয়ে প্রতিনিয়ত যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, জনগুরুত্বপূর্ণ এই রেলগেটগুলো আজও অনুমোদন পায়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। তাই কোন মতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে কাজ।
আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই রেল ব্রিজের দক্ষিণ পাশে একটি, আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর পাশে একটি এবং উপজেলার শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর পাশে একটি রেলক্রসিং রয়েছে। এই তিনটি রেলক্রসিংই দীর্ঘদিন যাবত অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এসব রেলক্রসিং রেলওয়ের অনুমোদিত না হওয়ায় রেলওয়ের পক্ষ থেকে স্থায়ী গেট নির্মাণেরও কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এদিকে এসব রেলক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন শতশত ট্রাক, ট্রলি, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, সিএনজিসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন চলাচল করে থাকে। অসাবধানতায় যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। নামমাত্র বাঁশের অস্থায়ী গেট নির্মাণ করে সেখানে লোক নিয়োগ দেয়া থাকলেও তাদেরকে কোন বেতন ভাতা দেয়া হয় না। ফলে তাদেরকে পরিবার পরিজনকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়।
নাটোর উপজেলার সিএনজি চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সিএসজি নিয়ে রেলগেট অতিক্রম করলে ৫ টাকা করে দিতে হয়। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা দিতেই অনেক সময় টাকা ফুরিয়ে যায়।
আত্রাই রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশের গেটম্যান জানবক্স জানান, আমাদের আত্রাইয়ের অরক্ষিত রেলগেটগুলোর সরকারিভাবে গেটম্যান নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্ব রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল কর্তৃপক্ষের। এসব রেলগেট দীর্ঘ দিনের হওয়া সত্বেও আজও আমাদের স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়নি। এ গেট দিয়ে পারাপারের গাড়ি থেকে সামান্য যে টাকা পাওয়া যায় তা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ছাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রেলের গেটম্যান নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় অরক্ষিত গেটগুলোয় গেটম্যান নিয়োগ দিতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে গেটম্যান নিয়োগ দেয়া হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি পশ্চিমাঞ্চল রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।