বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

আত্রাই নদীতে ড্রেজারের শব্দে অভয়াশ্রম থেকে পালাচ্ছে পাখিরা

আপডেট: December 9, 2019, 1:34 am

আবদুর রউফ রিপন, নওগাঁ


ড্রেজারের শব্দে আত্রাই নদী থেকে উড়ে যাচ্ছে পাখিরা-সোনার দেশ

প্রতি বছর শীত মৌসুমে হাজারো পাখির কল কাকলিতে মুখরীত হয়ে উঠে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মধুবন গ্রাম সংলগ্ন আত্রাই নদী। এ নদীতে বছরে প্রায় ৭-৮ মাস পাখিগুলো থাকে। পাখিদের প্রতি ভালবাসা থেকে ২০১৩ সালে স্থানীয় কিছু যুবক সেখানে গড়ে তুলেন পাখির অভয়াশ্রম। কিন্তু এই পাখি প্রেমীদের বাধাকে উপেক্ষা করে ড্রেজার মেশিন বসিয়েছে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা। এই ড্রেজারের বিকট শব্দে অভয়াশ্রমে বসতে পারছে না পাখিরা। সেখানে মানুষের অবাধ বিচরণে হুমকির মুখে পরেছে পাখির অভয়াশ্রমটি।
জানা যায়, মহাদেবপুর মধুবন গ্রাম সংলগ্ন আত্রাই নদীতে ২০১২ সাল থেকে শীতকালে অল্পসংখ্যক পরিযায়ী পাখি আসতে থাকে। মানুষের মাঝে সচেতনতা না থাকায় কিছু মানুষ প্রথম বছর বিভিন্ন ভাবে পাখি শিকারের চেষ্টা করে। কিন্তু ২০১৩ সালে আবারও পাখিরা আসতে শুরু করলে সেই থেকে স্থানীয় কিছু ‘প্রাণ ও প্রকৃতির’ প্রেমী স্থানীয় যুবকদের সম্পৃক্ত করে প্রতি বছর শীতকালে পরিযায়ী পাখিদের জন্য বাঁশ, কচুরিপানা, গাছের ডালপালা দিয়ে অভয়াশ্রম গড়ে তুলেন স্বেচ্ছাশ্রমে। প্রতি শীতে পাতি-সরালিসহ কয়েক প্রজাতির পাখি এখানে আশ্রয় নেয়। পাখি প্রেমী কাজী নাজমুল, আইনুল ইসলাম, মোকলেসুর রহমানসহ কয়েকজন যুবক মিলে অভয়াশ্রম গড়ে তুলেছেন বালিহাঁস, সরালি হাঁস, পানকৌড়ি, রাতচোরা, বক, মাছরাঙ্গা সহ বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির নিরাপদে এই আশ্রয়স্থল।
আত্রাই নদীতে থেকে বালু তোলার জন্য ২০১৬ থেকে ইজারা নিয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক বালু ব্যবসায়ী। তিনি পাখি অভয়াশ্রমে বালির ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করতে থাকেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে গত বছরে এই তার ক্ষমতার কাছে হেরে যেতে হয় স্থানীয় প্রাণি-প্রেমীদের।
পাখি প্রেমী কাজী নাজমুল বলেন, গেলো বছরও একই কাজ করেছিলেন তিনি (মোয়াজ্জেম হোসেন)। ড্রেজার মেশিন সরিয়ে দিতে অনেক সমস্যাই পরতে হয়েছিল আমি এবং আমার টিমকে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ এবং আমার কিছু শুভাকাঙ্খী মানুষের সহায়তায় রক্ষা করা গেছিল সেবার। তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে বারবার একই কাজ করেন। এ বছর আবারও পাখির অভযাশ্রমে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। আমাদের মত একজন ক্ষুদ্র মানুষ এত বড় ক্ষমতাবান ব্যক্তি কাছে অসহায়। দ্রুত ড্রেজার মেশিন সরিয়ে না নিলে হয়তো আর রক্ষা করা যাবেনা আত্রাই নদীতে পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য।
এ বিষয়ে বালু ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পাখির অভ্যাশ্রম থেকে আমরা বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছি দুই মাস আগে। যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ড্রেজার মেশিনটি নষ্ট হয়ে সেখানে পড়ে আছে।
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান বিষয়টি অবগত আছেন। তিনি বলেন, বালু মহলটি জেলা থেকে ইজারা দেয়া হয়েছে। যেহেতু বালু উত্তোলনেরও প্রয়োজন আছে। আবার অভয়াশ্রমে পাখির নিরাপত্তারও দরকার আছে। ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে অভয়াশ্রম থেকে দুরে সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ