আত্রাই নদে বাঁশের সাঁকোতে ১০ গ্রামের মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০১৮, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


গুরুদাসপুরে আত্রাই নদের বাঁশের এই সাঁকো দিয়ে ১০ গ্রামের মানুষের ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হয়ে থাকেন-সোনার দেশ

নাটোরের গুরুদাসপুরে আত্রাই নদে একটি ব্রিজের দাবি দীর্ঘ দিনের। ওই দাবিটি পূরণ না হওয়ায় বর্ষায় খেয়া নৌকা আর শুকনো মওসুমে নদী বরাবর বাঁশের সাঁকোতে পারাপার হয় গ্রামের মানুষ। বয়স্ক মানুষের জন্য সহজ হলেও স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের জন্য পারাপারের কাজটি হয় ঝুঁকিপুর্ণ।
উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের চলনবিল অধ্যুষিত সাবগাড়ি আদর্শ বাজার সংলগ্ন পয়েন্টে একটি ব্রিজের অভাব ১০ গ্রামের মানুষকে ভোগাচ্ছে যুগযুগ ধরে। তার পরও ব্রিজের দাবি হচ্ছে উপেক্ষিত।
গত মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, একদা প্রমত্তা আত্রাই নদের পানি কমে গেছে। সেখানকার ঘাটের মাঝি খোকন মিয়া খেয়া নৌকার পরিবর্তে নদ জুড়ে বাঁশ পুঁতে তার ওপর বাঁশের চাটাই ফেলে সাঁকো তৈরি করেছেন। সেই সাঁকোর ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে গ্রামের মানুষ।
খেয়াঘাটের মাঝি খোকন মিযার ভাষ্য, ভরা বর্ষায় শ্যালোচালিত নৌকায় পারাপারের কাজটি করে থাকেন। শীত এবং নদের পানি কমে যাওয়ায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন তিনি। গ্রামের মানুষের কাছে ফসল কিংবা নগদ টাকা তুলে সাঁকো তৈরির খরচ তুলছেন। এক্ষেত্রে একজন মানুষের কাছ থেকে দুই টাকা মোটরসাইকেলসহ পাঁচ টাকা করে আদায় করে থাকেন। তবে গ্রামের যেসকল মানুষ ফসল অথবা বছর চুক্তির টাকা দিয়ে থাকেন তাদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হয় না।
ওই ঘাট মাঝি আরো জানান, আত্রাই নদের পুর্ব-উত্তর পাড়ে ফকিরপাড়া, বিলহরিবাড়ি, বাঘাপাড়া, হরদমা গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ রয়েছে। পশ্চিম-দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে বিয়াঘাট, সাবগাড়ি, বিলদহর ও জ্ঞনাদা নগর। এখন চলনবিলে ইরি-বোরোসহ রবিশস্য আবাদ শুরু হওয়ায় পারাপারে চাপ বেশি থাকে। খেয়া নৌকায় সম্ভব না হওয়ায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে আগেই।
দূর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ওমর আলী জানালেন, ওই পয়েন্টে ব্রিজ না থাকায় নদীর পুর্বপাড়ের গ্রামগুলোর মানুষ কষ্টে রয়েছে। তাছাড়া ওই গ্রামগুলোতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও গড়ে ওঠেনি। সংগত কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে আসতে হয়। তাছাড়া নিত্য কেনাকাটা, জমির ফসল বিক্রিসহ দেশের আভ্যন্তরিন যোগাযোগ ও খেয়া নৌকা নির্ভরশীল। একটি ব্রিজ নির্মিত হলে ওই গ্রামের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।
সাঁকোতে পার হওয়ার সময় কথা হয় ফকির গ্রামের রবিউল ইসলামের সঙ্গে। সঙ্গে তার স্ত্রী মরিয়ম বেগমও ছিলেন। রবিউল জানালেন, তার স্ত্রী গর্ববতী। বিলদহর বাজারে চিকিৎকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। সাঁকোতে উঠেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। কারণ সাঁকোটি দুলছিল। তার ওপর সাঁকোর মাঝভাগের ফাঁকা জায়গায় রাখা হয়েছে একটি নৌকা। তাদেরমত গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এমন দুর্ভোগ সয়ে পারাপার হয়ে থাকেন প্রতিনিয়ত।
বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন জানালেন, বছর দেড়েক আগে সাবগাড়ি বাজারে ব্রিজের দাবিতে একটি বৈঠক হয়েছিল। দাবি সংবলিত একটি আবেদন স্থানীয় সাংসদকে দেয়াও হয়েছিল।
এ ব্যাপারে সাংসদ আবদুল কুদ্দুস গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে জানান, গ্রামের মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ব্রিজ নির্মাণের জন্য সরকারের অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্পে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। এখন টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আশার আলো দেখবে ওই গ্রামের মানুষ।