আত্রাই-রাণীনগরে সর্বহারা ক্যাডারদের শোডাউন || জনমনে আতঙ্ক দূর করতে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭, ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

দেশে যখন জেএমবিসহ জঙ্গি গোষ্ঠিকে নির্মূলের কার্যক্রম অব্যাহত রেখে চলেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তখন আবার সর্বহারা ক্যাডাররা মাথাচড়া দিয়ে উঠছে। জেএমবির মতো সর্বহারাদের অতীত ইতিহাস খুব ভালো না। তারা মানুষের উপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়েছে। সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে খ্যাত রাজশাহী-নওগাঁর সীমান্ত আত্রাই ও রাণীনগরে আবারো সর্বহারা ক্যাডাররা প্রকাশ্যে এসেছে। গত রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় সাংসদ ইসরাফিল আলমের একটি কর্মসূচিতে মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করেছে মুখোশধারী সর্বহারা ক্যাডাররা। আর এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছে জোড়া খুনসহ বেশকিছু নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুর্ধর্ষ সর্বহারা ক্যাডার পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-লাল পতাকা)’র সাবেক নেতা এমদাদুল হক ওরফে এমদা। তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর পর প্রকাশ্যে এসেছে। তার নেতৃত্বে স্থানীয় ক্ষমতাসীন সাংসদের মদদে মুখোশ পরিহিত সর্বহারা ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণে মোটরসাইকেল শোডাউনে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ আতঙ্ক সর্বহারা অধ্যুষিত রাজশাহীর বাগমারা, পার্শ্ববর্তী নাটোরের নলডাঙ্গা এবং নওগাঁর আত্রাই ও রাণীনগরে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তাহীন মনে করছেন। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। ইতোমধ্যে পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে অনেকেই লিখিত অভিযোগ করেছেন। এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে দুর্ধর্ষ সর্বহারা ক্যাডার এমদা নিয়ে ভাবতে হবে। আর বর্তমান সরকারও কোন সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না। সেখানে স্থানীয় সাংসদ তাকে নিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউন করছে। এটা নিয়েও সরকারসহ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ভাবতে হবে। কারণ একজন সাংসদের কারণে আওয়ামী লীগের প্রশংসায় যাতে করে ভাটা না পড়ে।
দুর্ধর্ষ ক্যাডার এমদা ও তোফা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর ও তার ভাই আনোয়ার হোসেন বুলুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। অভিযোগ আছে ১৯৯৮ সালের ২৩ মার্চ আত্রাই উপজেলা যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক লাল মোহাম্মদ লালুকে আত্রাই সদরের রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে প্রকাশ্যে দিবালোকে জবাই করে এমদা ও তার ক্যাডার বাহিনী। এর একবছর পর ১৯৯৯ সালের ৩০ মার্চ কুখ্যাত সর্বহারা ক্যাডার এমদা ও তার বাহিনী জোড়া খুন করে। এমদার নেতৃত্বে তার বাহিনী জগদাশ গ্রামে আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনপ্রিয় নেতা অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান রাজা ও উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি বাবু অরুণ কুমার সরকারকে জবাই করে খুন করে। ওই দিন বিকেল পাঁচটায় প্রকাশ্যে এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তির ওপর হামলা চালানো হয়। এছাড়া একই বছরের ৪ আগস্ট নিহত আওয়ামী লীগ নেতা রাজার চাচাত ভাই বেলাল হোসেনকে জবাই করে হত্যা করা হয়। তাছাড়া এমদার সহযোগী আরেক সর্বহারা নেতা তোফা ২০০২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আত্রাই উপজেলার পাঁচ নম্বর বিশা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হাজি মোজাম্মেল হোসেনকে জবাই করে হত্যা করে। তাই সন্ত্রাসী কাজ যারা করে থাকেন। তারা কোন রাজনৈতিক দলের হতে পারে না। কারণ তারা সুবিধা নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাই এমদাও ঠিক সুবিধাভোগী। তার নিজের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখন তিনি আওয়ামী লীগের সাংসদ ইসরাফিলের আশ্রয়ে আসার চেষ্টা করছেন। তাই সাংসদ ইসরাফিলসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে সর্তক হতে হবে এমদা সর্ম্পকে। জনমনে আতঙ্ক দূর করতে প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ