আদালতে আসামীদের আস্ফালন বাদি ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: জুন ১, ২০১৯, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আসামিরা আদালতেই বাদিকে হুমকি দিয়েছে। এটা তাদের আস্ফালনই বটে। ওই আসামীরা যে প্রভাবশালী ও ক্ষমতার দাপট দেখাতে অভ্যস্ত তাদের উগ্র আচরণই তা বলে দেয়। তারা যে অপরাধ করেছে সেটাকে তারা তুচ্ছ জ্ঞান করছে বলেই ধারণা করা যায়।
দৈনিক সোনার দেশ ও দেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তাদের উগ্র আচরণ করতে দেখা গেছে। সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনকে দেখে তারা তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় শুনানির আগমুহূর্তে আসামিরা এ আচরণ করে। আসামিরা উত্তেজিত হয়ে একসঙ্গে খোকনের ওপর চড়াও হতে চাইলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার নুসরাত হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামিসহ গ্রেফতারকৃত ২১ জনকে আদালতে আনা হলে তাদের সবাই মামলাকে মিথ্যা মামলা হিসেবে দাবি করে। তারা এই ঘটনার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী অভিহিত করে অ্যাডভোকেট খোকনকে গালিগালাজ এবং হইচই শুরু করে।
অর্থাৎ আসামীরা যে অপরাধ করেছে সেটিকে তারা মোটেও গ্রাহ্য করছে না। বরং বাদিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে যেন বড় অন্যায় করে ফেলেছে! তাদের সীমাহীন ঔদ্ধত্য সেটাই ইঙ্গিত করে। অবশ্য এ ধরনের দৃশ্য নতুন কিছু নয়। দাদি এবং সাক্ষীকে এ ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে রেখে আসামীপক্ষ সবসময়ই ফায়দা লুটতে চেয়েছে। কখনো কখনো বাদি এবং সাক্ষীদের জন্য করুণ পরিণতিও ডেকে আনে। আসামীরা প্রভাবশালী ক্ষমতাবান হওয়ায় তারা কারাগারের মধ্য থেকে মামলাকে নানাভাবে প্রভাবিত করতে সচেষ্ট হয়। আসামীদের স্বজন ও সমর্থকরা বাদিকে নানাভাবে হয়রানি-হুমকির মুখে রাখে। বাদি প্রভাবশালী না হলে মামলা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে নেয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় জীবন হারাতে হয় কিংবা সমঝোতা করতে বাধ্য হতে হয়। এতে এক ধরনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যে, অর্থ এবং প্রতিপত্তি থাকলে মামলাকে নিষ্ক্রিয় করা যায়।
এই পরিস্থিতি ন্যায় বিচার প্রক্রিয়াকে বিঘিœত করে। এ জন্য বাদি, বাদির পরিবার ও সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। বাদি মামলা শেষ পর্যন্ত নিতে পারলেই অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আর এমন ক্ষেত্রে আসামীদের আদালতে দাঁড়িয়ে ওই ধরনের ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করার প্রবণতাও কমে আসবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ