আদালত কর্তৃক জুয়া খেলা বন্ধের নির্দেশ নির্দেশ প্রতিপালিত হবে- প্রত্যাশা

আপডেট: February 12, 2020, 1:14 am

দেশের অভিজাত ১৩টি ক্লাবসহ সারাদেশে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। ১০ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি ক্লাবে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি জুয়াসহ অবৈধ ইনডোর গেম যেমন- কার্ড, ডাইস ও হাউজি খেলা অথবা এমন কোনও খেলা যাতে টাকা বা অন্য কোনো বিনিময় হয়ে থাকে, তা বন্ধের নির্দেশনা কেন দেয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছিলেন আদালত।
রিট আবেদনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৬, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৮ এবং পাবলিক গেম্বলিং অ্যাক্ট ১৮৬৭ অনুযায়ী কোনো প্রকার জুয়া খেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। একইসঙ্গে সংবিধানের ১৮ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারকে পতিতাবৃত্তি ও জুয়া খেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। তাই এগুলো বন্ধ হওয়া জরুরি।
আইন আছে অথচ জুয়া খেলার মত অবৈধ কাজটি বহাল থেকেছে। বর্তমান সরকার মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখালে আন্ডার ওয়ার্ল্ডে এর ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির বিষয়টি দেশবাসীর সামনে আসে। এবং দেশের মানুষকে বিস্মিত করে তোলে। জুয়ায় এতো বিপুল পরিমাণ অর্থের ছড়াছড়ি হয় তা এর আগে ধারণাই ছিল না। ক্যাসিনোগুলো পরিচালিত হয়েছে ওইসব ক্লাবের মাধ্যমে এবং এর সাথে যারা জড়িত ছিলেন তাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের নেতা। তারা গ্রেফতার হয়েছে এবং বিচারের সম্মুখিন হয়েছে। এই অভিযান সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
দেশ স্বাধীনের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মদ-জুয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। রাজধানীর রেসকোর্স ময়দানের ( বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঘৌড় দৌড় বন্ধ হয়ে যায়। রাজশাহীতেও বর্তমানের কেন্দ্রীয় উদ্যানে এক সময় ঘোৗড় দৌড় প্রতিযোগিতা হতো। বঙ্গবন্ধু সরকার এগুলো বন্ধ করে দেয়। কিন্তু পঁচাত্তরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই সামরিক সরকারের আমলে আবারো মদ ও জুয়ার বৈধতা দেয়া হয়।
জুয়া খেলা সামাজিক অপরাধ সৃষ্টিতে ভয়ঙ্করূপে ভূমিকা রাখে। নিকট দৃষ্টান্ত : সম্প্রতি রাজশাহীতে অনলাইনে জুয়া খেলার জন্য প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ভোল্ট থেকে চুরি করেন এক কর্মকর্তÑ যিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। জুয়া খেলার প্রতি মোহ তাকে এই অপরাধ প্রবণতায় উৎসাহিত করেছে। জুয়া খেলা এমনই এক সংক্রামক যা বিভিন্ন ভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং দুর্নীতির ব্যাপকতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জুয়া খেলা সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি করেÑ কতশত পরিবারকেও ধ্বংস করেছে এই জুয়া খেলা- ইয়ত্তা নেই।
আদালত কর্তৃক টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা বন্ধের নির্দেশ সময়োপযোগী। এই নির্দেশ যথাযথভাবে প্রতিপালিত হবেÑ এটাই দেশের মানুষের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ