আদিবাসী দশক, আদিবাসী বর্ষ ও আদিবাসী দিবস : আদিবাসীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

আপডেট: আগস্ট ৯, ২০১৯, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

এভারিস্ট হেমব্রম


১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বহু রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত জাতিসংঘ ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে International Year for World Indigenous People আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে ছিল। আদিবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি নিবন্ধের জন্যই এ ঘোষণা। আদিবাসীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো আন্দোলন, শঙ্কাজনক পরিস্থিতি বিষয়ে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানব জাতির বেঁচে থাকার জন্য তাদের মূল্যবান অবদানের কারণে জাতিসংঘ কর্তৃক ১৯৯৫-২০০৪ খ্রিস্টাব্দকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দশক হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। জাতিসংঘ ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দশক পালনের আহবান জানিয়ে ছিল। এ আদিবাসী দশকের মূল থিম ছিল Indigenous People: Partnership in Action যার প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে আদিবাসীরা মানবাধিকার, পরিবেশ, উন্নয়ন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে সমস্ত সমস্যাদির মুখোমুখি হচ্ছে তার সমাধানের জন্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা। এ দশকের কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো-
ক্স ১৯৯০ দশকের প্রথমদিকে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত আদিবাসী সংক্রান্ত সুপারিশমালা বাস্তবায়ন।
২. জাতিসংঘ সিস্টেমের ভিতরে আদিবাসীদের জন্য একটি স্থায়ী ফোরাম গঠন করা।
৩. আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্রের সমাপ্তকরণ ও গৃহীতকরণ।
৪. জাতিসংঘ সিস্টেম, মানবাধিকার ও আদিবাসী অধিকার ইত্যাদি সম্পর্কে জানার জন্যে জাতিসংঘ আদিবাসী ফেলোশিপ প্রোগ্রাম চালুকরণ।
৫. আদিবাসী মানুষের অবস্থা, সংস্কৃতি, ভাষা, অধিকার এবং আশা-আকাক্সক্ষা ইত্যাদি সম্পর্কে আদিবাসী ও অ-আদিবাসীদের শিক্ষা দেয়া।
৬. আদিবাসী জনগোষ্ঠী লাভবান হয় এমন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নেয়ার জন্যে জাতিসংঘ সিস্টেম কর্তৃক বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করা।
৭. আদিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণ করা এবং তাদের ক্ষমতায়ন করা যাতে করে তারা তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে পূর্ণ মর্যাদার সাথে নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, ভাষা, ঐতিহ্য এবং সামাজিক সংগঠনসহ সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে পারে।
৮. বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করা।
৯. পর্যাপ্ত স্টাফ ও রিসোর্স সংবলিত আদিবাসীদের উপর জাতিসংঘ ইউনিট স্থাপন করা এবং ওই দশকের কার্যাবলী সম্পাদনে সহযোগিতা প্রদানের জন্য দক্ষতাসম্পন্ন আদিবাসী ব্যক্তি নিয়োগ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশের আদিবাসীদের প্রশ্ন
আদিবাসীদের সংজ্ঞায়িত করতে আদিবাসী/উপজাতি ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল এ বিষয়ে প্রস্তাব দেন ‘আদিবাসী/উপজাতি জনগোষ্ঠী বলতে এমন সব জনগোষ্ঠীকে বোঝায় যারা প্রাচীনকাল হতে তাদের পূর্ব পুরুষদের নিকট থেকে পাওয়া ভূমিতে উত্তরাধিকার সূত্রে বসবাস করে আসছে, সামাজিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির রক্ষায় রক্ষণশীল, যাদের নিজস্ব ভাষা ও অন্যান্য কিছু বৈশিষ্ট্য ও সত্তা রয়েছে যা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী থেকে পৃথক চিহ্নিত করেছে। “১৯৫০ খ্রিঃ প্রণীত স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্টের ৯৭ ধারায় আদিবাসী বলতে ইংরেজি ধনড়ৎরমরহধষ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। বুৎপত্তিগতভাবে ল্যাটিন ধন বিভক্তি দ্বারা বাংলা ‘হইতে’ শব্দ বোঝায়। সুতরাং ধন = হইতে ড়ৎরমরহধষ আদিম বা মূল এই ভাবে ধনড়ৎরমরহধষ শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় আদি হইতে অর্থাৎ প্রথম হতে। কোনো অঞ্চলের ধনড়ৎরমরহধষ বলতে সেই অঞ্চলের আদি হতে বসবাসকারী মনুষ্য গোষ্ঠীকে বোঝায় অর্থাৎ সেই অঞ্চলের আদিম অধিবাসীগণকে বোঝাবে। এই ধারা বিধানে (সাঁওতাল, বানিয়া, ভুইয়া, ভূমিজী, ডালু, গারো, গন্দ, হাদি, হাজং, হো, খাসিয়া, খারওয়ার, কোচ (ঢাকা বিভাগ) কোরা, মগ (বরিশাল জেলা) মাল ও সুরিয়া পাহাড়িয়া, মেচ, মুন্ডা, মুন্ডাই, ওরাওঁ এবং তুরী) জন্য কার্যকর করা হয়েছে। ঝধাধমব, চৎরসরঃরাব, ঞৎরনধষ, জবফ ওহফরধহ, অনড়ৎরমরহধষ এই নামগুলি অবজ্ঞাসূচক ও বর্ণবাদী ব্যঞ্জনা এড়ানোর জন্যই ওহফরমবহড়ঁং কথাটির ব্যবহার শুরু করা হয়। “জাতিসংঘ ‘ইনডিজিনাস’ সংজ্ঞা এশিয়া অঞ্চলের আদিবাসীদের ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। তাই আইএলও কনভেনশন ঘোষণার সময় ‘ইনডিজিনাস’ শব্দের পাশাপাশি ‘ট্রাইবাল’ বা সেমিট্রাইবাল’ শব্দগুলোও ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে করে এই সকল অধিকার সনদে এশিয়া অঞ্চলসহ বাংলাদেশের আদিবাসী জনগণও অন্তর্ভুক্ত হয়। অন্যদিকে আদিবাসী শব্দটি বাংলায় অবজ্ঞাসূচক অর্থ বহন করে। বাংলাদেশ সরকারের ভাষ্য যে, এ দেশে কোনো ওহফরমবহড়ঁং জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই, তা কোনো জোরালো যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। ওহফরমবহড়ঁং কথাটির অস্বচ্ছতা কারণে নয়, বরং এদেশের আদিবাসী/উপজাতীয় জনগণকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার উদ্দেশ্যেই সরকার এই অবস্থান নিয়েছে। যেহেতু বিশ্বব্যাপী ওহফরমবহড়ঁং জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিকভাবে চলছে, আদিবাসী/ উপজাতীয়দের ওহফরমবহড়ঁং বলে সরকার স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ হচ্ছে এই প্রচেষ্টার প্রতি একটা অঙ্গীকার ব্যক্ত করা। কিন্তু যেখানে এ যাবত বাংলাদেশের সব সরকারই চেষ্টা করেছে এ দেশের আদিবাসী/উপজাতীয়দের অধিকার হরণের ইতিহাসকে যতোটা সম্ভব গোপন রাখতে। সেখানে জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী দিবস উদযাপনে এগিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সদিচ্ছা বা প্রস্তুতি বর্তমান সরকারেরও নেই। ২০০৮ খ্রিঃ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন) আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনী ইশতেহার পেশ করে ছিলো এবং একই দল ২০১৪ খ্রিঃ যে নির্বাচনী ইশতেহার পেশ করে সেখানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের বিষয়টি জরুরি হিসাবেই স্বীকৃত, ইশতেহার ২০০৮, অনুচ্ছেদ ১৮.১.১৮. ২. এবং ইশতেহার ২০১৪, অনুচ্ছেদ ২২.১.২২.২। উল্লেখ্য যে ক্ষমতাসীন সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তবে ২০০৮-এর ইশতেহারে যাদের কে আদিবাসী বলা হয়েছে ২০১৪-তে তাদেরকে ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠী এবং উপজাতি বলা হচ্ছে। এ পরিবর্তন সংজ্ঞাগত কি’না তা নিয়ে ভাবনা অযৌক্তিক হবে না।
আদিবাসী নামে পরিচিত মানুষেরা নিজেরাই যদি এ আখ্যাকে সগৌরবে ধারণ করে দেশের ভিতরে এবং বাইরে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে, তাহলে এটি একদিন ইতিবাচক ব্যঞ্জনাই বহন করবে। আমরা এদেশের আদিবাসী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা পেতে চাই। ‘ট্রাইবাল’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ ‘উপজাতি’ যার অর্থ অপূর্ণাঙ্গ জাতি বা উপজাতি অথবা পূর্ণ জাতি হিসাবে যাদের এখানো বিকাশ ঘটেনি। এই ধরনের বৈষম্যের রাজনৈতিক ফলাফল খুবই মারাত্মক। কারণ এর ফলে সংখ্যাগুরুর সংস্কৃতিকে সংখ্যালঘুর সংস্কৃতি থেকে উন্নততর অবস্থানের দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। যে দেশে শতকরা জনমানুষ বাঙালি সে দেশে অবশিষ্ট জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উপজাতি নামে আখ্যা দিয়ে কিছু করুণা বর্ষণ করা যেতে পারে, কিন্তু তাদের জাতিগত মর্যাদা স্বীকৃতি, শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের ভিন্নতা মেনে নেয়া এবং তাদের নিজ নিজ পরিচয় নিয়ে বিকাশিত হবার অধিকার প্রদান অনাবশ্যক। কিন্তু এযুক্তি নিরীহ নয়, চরম অগণতান্ত্রিক একটি দৃষ্টিভঙ্গিরই এটি বহিঃপ্রকাশ। প্রশ্নটি জনসংখ্যার নয় দৃষ্টিভঙ্গির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, উপজাতি মানে তারা যারা পরোপুরি জাতি নয়? কেন হবে না? বাঙালিরা জাতি হলে আসামী, উড়িয়ারা জাতি হলে সাঁওতালরা কেন জাতি হবে না? বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, এ প্রণীত আদিবাসীর সংজ্ঞা অনুযায়ী বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে যাদের মূল জনগোষ্ঠী ধরলে তাদের পৃথক সত্তা অস্বীকার করা হয়। এতে করে বাংলাদেশের সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার তথা জাতিসংঘ সনদের নৈতিক অধিকার লংঘন করা হয়েছে।
বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাণী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৩ খ্রিঃ আদিবাসী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল আদিবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমাদের জনগোষ্ঠীর একটি অংশ আদিবাসী। আদিবাসীরাও আর সকলের মতোই সমান মর্যাদা সম্পন্ন বাংলাদেশের নাগরিক। মুক্তিযুদ্ধে যেমন দেশ গঠনেও তেমনি আদিবাসীগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আদিবাসীদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আমরা বিভিন্নমুখি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছি। আদিবাসীদের রয়েছে এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি। এই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সম্পদ। আমি আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে আমাদের আদিবাসী জনগণের কল্যাণ ও সাফল্য কামনা করি।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রী তাঁর দেওয়া বাণীতে বলেন,.. এ উপলক্ষ্যে আমি বাংলাদেশের বিশ লাখ আদিবাসীসহ বিশ্বের ত্রিশ কোটি আদিবাসী জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। …আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে আমি দেশের জনগণের প্রতি আহবান জানাই, আমরা যেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বন্ধন গড়ে তুলতে পারি। বাংলাদেশে চাকমা, খাসি, গারো, মারমা, সাঁওতাল, ত্রিপুরা, উরাঁও, মুন্ডা মাহাতো, হাজং, কোচ, চাক, রাখাইন, পাত্র, রাজবংশী, মনিপুরীসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ৪৫ টি জাতিসত্তার মানুষ, আবহমান কাল ধরে বসবাস করে আসছেন। তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারি শিক্ষা ও বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারি। আদিবাসীরা আজ নানাভাবে নিপীড়িত হচ্ছেন। তাদের ভূমি কেড়ে নেয়া হচ্ছে জোরপূর্বক, উন্নয়নের নামে তাদের জীবন থেকে জীবিকা ধবংস করা হচ্ছে, তাদের সংস্কৃতি আজ বিপন্ন-এভাবে সভ্যতা এগুতে পারে না। আদিবাসীদের সঙ্গে সঠিক যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে, জানাশোনার মধ্য দিয়ে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।…আদিবাসীদের জীবন, স্বকীয়তা, ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য রক্ষায় এবং উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, উন্নয়ন কর্মকা-ে তারা শুধু উপকারভোগী হবে না তারা হবে উন্নয়নের অর্থপূর্ণ অংশীদার এবং আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রদানের মধ্য দিয়েই সেটা করতে হবে।
আইএলও কনভেনশন
আইএলও ১৬৯ নম্বর কনভেনশনেস্বাধীন রাষ্ট্রের স্বদেশীয় ও উপজাতীয় জনগণের অধিকার রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ। আইএলও ১০৭ নম্বর কনভেনশনে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করলেও ১৬৯ নম্বর কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি। ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, ঐতিহ্যগতভাবে প্রাপ্ত জমির ওপর সংশিষ্ট ব্যক্তিদের দখল ও মালিকানার অধিকার স্বীকৃত হবে। ১৬ ধারার ১ উপধারায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। ব্যতিক্রম কোনো ক্ষেত্রে যদি তাদের স্থানান্তর অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়ে তবে সম্ভাব্য সমস্ত ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে নেয়া জমির অন্ততপক্ষে সমপরিমাণ উৎকৃষ্ট ও বৈধ জমি প্রদান করতে হবে। যেখানে তারা তাদের বর্তমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ব্যবস্থাও করতে পারে ইত্যাদি। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি ২৬ তারিখে গৃহীত ১৯৮৪ সনের ১০নং অধ্যাদেশ-এর চতুর্থ অধ্যায়ের ধারা ৬-এ বলা হয়েছে বাস্তু হইতে উচ্ছেদ ইত্যাদি চলিবে না- পল্লী এলাকায় মনিব কর্তৃক বাস্তু হিসাবে ব্যবহৃত কোনো জমি কোনো অফিসার আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ দ্বারা আটক, ক্রোক, বাজেয়াপ্তকরণ বা বিক্রয়সহ সকল আইনগত প্রক্রিয়া হইতে অব্যাহতি পাইবে এবং ওইরূপ জমির মনিবকে কেনো উপায়ে উক্ত জমি হইতে বঞ্চিত বা বেদখল বা উচ্ছেদ করা যাইবে না। কিন্তু অদ্যাবধি কোনো না কোনোভাবে নির্ধিদ্বায় ও নির্বিঘেœ আদিবাসীদের উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
উপসংহার
বাংলাদেশের আদিবাসীরা নানা চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে ১৯৯৩ খ্রিঃ হতে অদ্যাবধি আদিবাসী দিবস উদযাপন করে আসছে কিন্তু আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি আদিবাসীদের। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মহান মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসীরা অমিত সাহসের সাথে জীবনবাজি রেখে লড়ে ছিলো, দেশ স্বাধীন হয়েছে সত্যি, কিন্তু আদিবাসীরা প্রতিনিয়ত নানামুখি যুদ্ধের মুখোমুখি হচ্ছে। এ যুদ্ধে বিজয়ের ঝা-াকে উড়াতেই হবে।
জয় হোক আমাদের, জয় হোক আদিবাসীদের।
লেখক: উন্নয়নকর্মী