আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ নারী-পুরুষ মিলেই দূর করি আঁধার

আপডেট: মার্চ ৮, ২০১৮, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। এবার নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সময় এখন নারীর : উন্নয়নে তারা বদলে যাচ্ছে গ্রাম শহরে কর্ম জীবনধারা’।
১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ। মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং কর্মক্ষেত্রে বৈরী পরিবেশের প্রতিবাদ করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সুতা কারখানার একদল শ্রমজীবী নারী। তাঁদের ওপরে দমন-পীড়ন চালায় মালিকপক্ষ। নানা ঘটনার পরে ১৯০৮ সালে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ও রাজনীতিবিদ ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে প্রথম নারী সম্মেলন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ দিনটি নারী দিবস হিসেবে পালন করছে। তখন থেকেই বিভিন্ন দেশে নারীর সংগ্রামের ইতিহাসকে স্মরণ করে দিবসটি পালন শুরু হয়।
এই দিনটি মূলত মানুষের জাগরেণের দিন। নতুন করে প্রত্যয় ভালবাসার দিন। এই দিনে আদর্শিক মূল্যবোধ রক্ষার শপথের দিন। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষে এই মূল্যবোধের জাগরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামগ্রিক উন্নয়নের ধারণার মধ্যেই এই মূল্যবোধ সমাজের প্রতিটি স্তরে নিয়ে মানুষের মধ্যে সঞ্চারিত করার মধ্য দিয়েই মানবসভ্যতার কল্যাণ নিহিত আছে। মানবিক সমাজ গঠন করতে এই মূল্যবোধের চর্চাই আজ বড় প্রয়োজন। যেখানে নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ সমাজের জন্য গুরুত্ব বহণ করবে, পূর্ণ সামাজিক মর্যাদা ভোগ করবে, নিজের মত করে তার জীবন চালিত করবে, একে অন্যের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করবেÑ তেমনি একটি সমাজ বিনির্মাণই এই দিবেসর লক্ষ্য। এটা এমন নয় যে, কেউ কাউকে ছোট করে দেখলো কিংবা দাবিয়ে রাখা হলো, চাপিয়ে দেয়া হলÑ এমনটি হলে স্বতঃস্ফূর্ততার তীব্র অভাব প্রকট হয়ে উঠে। সমাজে বৈষম্যের সৃষ্টি, মানুষ নিপীড়ন, নির্যাতন ও বঞ্চণার শিকার হয়- সর্বোপরি মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নারী-পুরুষের সমঅধিকার, ও সমঝোতারÑ যা সম্মানের, মর্যাদার, মুক্তি ও স্বাধীনতার তেমনই একটি সমাজ বিনির্মাণের উদ্যোগ চাই।
নারীর প্রতি সহনশীল যাত্রার সূচনা হয়েছে। এটি প্রত্যাশাপূর্ণ। কিন্তু কাক্সিক্ষত লক্ষ অর্জনে বিস্তর পথ পাড়ি দিতে হবে। কেননা পুরুষতান্ত্রিকতা শিকড়ে খুবই মজবুত। এটি হঠাৎ করেই উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। নারী ঘরের বাইরে আসছে বলেই পিতৃতন্ত্র ভীষণ ভিত হচ্ছেÑ তারা পুরানকে আঁকড়ে থাকতে চায়। নারীর প্রতি তারা আরো বেশি সহিংস হচ্ছে। এর মানে এই্ নয় যে, সবকিছু শেষ হয়ে গেল। এর মানে এই যে, নারীর লড়াইয়ের চূড়ান্ত মুহুর্তটি এসে গেছে। অর্থাৎ এটি মানবিক সমাজ উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের প্রগতিশীল সমাজকেÑ নারী পুরূষ নির্বিশেষ একটি চূড়ান্ত লড়াইয়ের সম্মুখিন হয়েছে। এ লড়াইয়ের পথটা মোটেও সংক্ষিপ্ত নয়। এটা হতাশার জায়গা নয়, এটি সাহসের জায়গা। যে সাহস ও শক্তিতে ভর করেই মানবতার জয় ঘোষণার সময়। নারীর অধিকারের মধ্যে মানবাধিকারের জয়, মানবতার জয় নির্ভর করেছে। ঘনীভুত আঁধার নারী-পুরুষ মিলেই দূর করতে হবে। আমরা সেই পথচলায় শরিক থাকতে চায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ