বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

‘আপনার কি এখনো ধূমপান করার সাহস আছে?’

আপডেট: November 26, 2019, 1:33 am

সোনার দেশ ডেস্ক


সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আশ্চর্যজনক একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে ৩০ বছর ধরে নিয়মিত ধূমপায়ী এক ব্যক্তির ফুসফুস প্রদর্শিত হয়েছে। সুস্থ গোলাপী রঙের ফুসফুসের পরিবর্তে ওই ব্যক্তির ফুসফুসের রং কয়লা-কালো এবং বেশ বড়। শুধু তাই নয়, কয়েক দশক ধরে তামাক পোড়ার বিষবাষ্প ফুসফুসের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় আটকে আছে। যা দেখলেই মনে ভয় জাগে!
চীনের জিয়াংসু প্রদেশের ইউস্কি পিপল’স হাসপাতালের চিকিৎসকরা ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, ৫২ বছর বয়সি এই ব্যক্তির ফুসফুসে একাধিক রোগ ছিল। মারা যাওয়ার পর তার ফুসফুস দেহ থেকে বের করা হয়। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ৩০ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। অনেকে এটিকে ‘সেরা ধূমপানবিরোধী বিজ্ঞাপন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইউস্কি পিপল’স হাসপাতাল ভিডিও’র সঙ্গে একটি ক্যাপশন দিয়েছে। ক্যাপশনে লেখা: ‘আপনার কি এখনো ধূমপান করার সাহস আছে?’ ওই রোগী মৃত্যুর পর অঙ্গ দান করতে সম্মতি দিয়েছিলেন। তবে চিকিৎসকরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, তারা সেগুলো ব্যবহার করতে পারবেন না। লাং ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ডা. চ্যানের নেতৃত্বে অঙ্গ সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল।
ডা. চ্যান বলেন, ‘মৃত্যুর আগে ওই রোগীর সিটি স্ক্যান করা হয়নি। তাকে ‘ব্রেইন ডেড’ অর্থাৎ ক্লিনিক্যালি ডেড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রাথমিক অক্সিজেনেশন সূচক টেস্টগুলো ঠিক ছিল, কিন্তু যখন আমরা অঙ্গগুলো সংগ্রহ করি তখন বুঝতে পারি, আমরা সেগুলো ব্যবহার করতে পারব না।’
ডা. চ্যান আরো বলেন, ‘আমরা চাইনিজরা ধূমপান পছন্দ করি। এটা বলা অবাস্তব হবে যে, আমরা কোনো ধূমপায়ীর ফুসফুস গ্রহণ করব না। তবে এর কঠোর মান রয়েছে। ৬০ বছরের নিচে সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেছেন, ফুসফুসে সামান্য ইনফেকশন রয়েছে এবং তুলনামূলক পরিষ্কার এক্সরে গ্রহণযোগ্য। এসব শর্ত পূরণ হলেই আমরা সেই ফুসফুস প্রতিস্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করবো।’
ওই রোগীর ফুসফুসের এমন বড় আকৃতি সম্পর্কে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হার্ট অ্যান্ড লাং ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক পিটার ওপেনশো বলেন, রোগী ফুসফুসের পালমোনারি এম্ফিসেমা রোগে ভুগছিলেন। এই রোগে ফুসফুসে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হতে শুরু করে। ফুসফুস আকারে বাড়তে থাকে এবং আক্রান্তদের শ্বাসকষ্ট হয়।
ডা. চ্যান সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুসফুসের ভিডিওটি ‘ধূমপান ছাড়ুন’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে আপলোড করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এদেশে অনেক ধূমপায়ী রয়েছেন যাদের ফুসফুস দেখতে এর মতো। আপনি চেইন স্মোকার হয়ে থাকলে মৃত্যুর পর অনুদান করতে চাইলেও আপনার ফুসফুস গ্রহণ করা যাবে না। এই ফুসফুসটি দেখুন- আপনার কি এখনো ধূমপান করার সাহস আছে?’
ক্যানসার এড়ানোর সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে, ধূমপান না করা। এতে এমন ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা অন্তত ১৫টি ভিন্ন রোগের কারণ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব কারণে ফুসফুস ক্যানসার হয়, তার ৭০ শতাংশই হচ্ছে ধূমপানের কারণে। যেকোনো ধরনের ক্যানসারের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।