আবরার হত্যা : জাতিসংঘের বিবৃতি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন

আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০১৯, ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে অনেকেই স্বার্থ হাসিলের অন্বেষণে ব্যস্ত হয়েছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষুব্ধ অবস্থাকে সরকার পতনের মত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার প্রয়াসও চালাচ্ছে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল পরোক্ষভাবে সে রকম ইঙ্গিত দিয়ে কথাও বলছে। একটি হতাকাণ্ড যা অনাকাক্সিক্ষত, খুবই মর্মান্তিক ও বেদনায়ক, এমন একটি ঘটনাকে স্থিতিশীলতা নষ্টের দিকে মোড় দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। যদিও সরকার এবং বুয়েট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে স্বার্থন্বেষী মহলটি এখনো পেরে ওঠেনি। তবে তারা থেমেও নেই।
কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো এই যে, আবরার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ। এটা খুবই দুঃখজনক। একটি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জাতিসংঘের মত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার শিষ্টাচার বহির্ভুত বক্তব্য বা তৎপরতা খুবই দুঃখজনক। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী জাতিসংঘ ঢাকা অফিসের দেয়া বিবৃতির বিষয়ে সরকারের অসন্তোষ ও বিরক্তির কথা জানানো হয়েছে। ১৩ অক্টোবর জাতিসংঘ আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়। সরকার মনে করে- জাতিসংঘ বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার। আবরার হত্যাকাণ্ডের মতো কোনো ঘটনার বিষয়ে জাতিসংঘ প্রতিনিধির বিবৃতি দেয়া অনভিপ্রেত ও অনাকাক্সিক্ষত। আবাসিক প্রতিনিধিকে সে কথা জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৯ অক্টোবর জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির দেয়া ওই বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আহ্বান জানানো হয় ।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে যে, আবরার হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘের ঢাকাস্থ আবাসিক প্রতিনিধির বিবৃতির প্রয়োজন হলো কেন? যখন কি না এই হত্যাকাণ্ডের পর পরই বুয়েট কর্তৃপক্ষ ও সরকার হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই হত্যায় অভিযুক্ত হলেও তাদের খুবই দ্রুততার সাথে গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখিন করা হয়েছে। ১৯ জন ছাত্র নেতাকে সংগঠন থেকে এবং বুয়েট থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের শরিক ১৪ দল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আবরার হত্যার বিচার দাবি করেছে। খোদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি হত্যার সাথে সম্পৃক্তদের শাস্তি দাবি করেছে। এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গড়িমসি লক্ষ্য করা যায় নি। তাহলে এই পরিস্থিততে জাতিসংঘের মত একটি সংস্থার বিবৃতি দেয়ার প্রয়োজন হলো কেন? বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশ। তার স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা আছে। সে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানো অবশ্যই শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। আর যারা সীমা লঙ্ঘন করে তারা জান্তে কিংবা অজান্তে দেশের অভ্যন্তরীণ স্বার্থান্বেষী মহলকেই সমর্থন করে যায়। যাদের এ দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টিই লক্ষ্য।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ