আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বিপ্লব এনেছে স্মার্টফোন অ্যাপ

আপডেট: মে ১৬, ২০১৯, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


রোদ, বৃষ্টি, ঝড়-ঝঞ্ঝাটের পূর্বাভাস পেতে আগে রেডিও-টেলিভিশনের ওপর নির্ভর করতে হতো। আর আজ স্মার্টফোন অ্যাপ স্থানকাল নির্বিশেষে নির্ভরযোগ্য তথ্য হাতের মুঠোয় এনে দিচ্ছে।
মানুষের জীবনে আবহাওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্বে সব কিছুর ওপরেই আবহাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে। ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, কৃষি ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাড়া ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়। যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেতে আজকাল স্মার্টফোনের অ্যাপই যথেষ্ট।
জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, দেশটির বন শহরের এক কোম্পানি আবহাওয়া ও রাডার অ্যাপ সৃষ্টি করে। এমন অ্যাপ কীভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়, তার একটা ধারণা পাওয়া গেল।
আবহাওয়াবিদ বিয়র্ন বায়ার এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা কোনো ওয়েদার স্টেশন চালাই না। তার বদলে আমরা বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করি, যা আগে থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে। সেই পরিমাণ তথ্য সামলানোই আসল চ্যালেঞ্জ।’
অনেক বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে নিখুঁত ফলাফল পাওয়াই ডেটা প্রসেসিং প্রক্রিয়ার আসল গুরুত্ব। বিয়র্ন বায়ার আরও বলেন, ‘শুধু তথ্য ব্যবহার করলে বিষয়টা এমন হতো না। সেগুলি একত্র করে তার মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে হয়। এই কোম্পানিতে এত আবহাওয়াবিদ, পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞের মতো বিশেষজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি কঠিন। তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা তো আছেনই। সেইসঙ্গে আমরা সমান্তরাল কম্পিউটিং ও মেশিন লার্নিং-ও কাজে লাগাই।’
কিছু পেশার ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অত্যন্ত জরুরি। কাজের পরিকল্পনা থেকে প্রয়োগ পর্যন্ত তার বিশাল গুরুত্ব রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসা আরও উন্নত হয়ে উঠতে পারে। কৃষিভিত্তিক শিল্প তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
অ্যাপ ম্যানেজার অংশুল আগরওয়াল মনে করেন, ‘অ্যাপ আপনাকে ১৪ দিনের পূর্বাভাস দেয়। আপনি বাতাস, রোদ ও বৃষ্টি সংক্রান্ত তথ্য পেতে পারেন। গ্রীষ্মকালে কোন এলাকায় খরা ও শীতকালে কোথায় শৈত্যপ্রবাহ বইবে, সে সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। ফলে সাধারণ মানুষও এই অ্যাপের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে পরিকল্পনা করতে পারেন। পরের ১৪ দিনের আবহাওয়া সম্পর্কে তাদের কাছে একটা চিত্র থাকবে।’
তা ছাড়া অ্যাপের মাধ্যমে বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়েরও পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব বলে জানালেন অংশুল আগরওয়াল। তার মতে, ‘বায়ু দূষণ সম্পর্কেও তথ্য পেতে পারেন। উপকূলীয় এলাকায় আপনি পানির তাপমাত্রা ও বাতাসের গতি সম্পর্কেও জানতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অপারেটিং সিস্টেমে এই অ্যাপ চলে। হিন্দি ও ইংরেজি দুই ভাষায়ই সেটি চলে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসের অ্যাপগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য এগুলি জীবনযাত্রার অঙ্গ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জীবনযাত্রা অনেক সহজ করে তুলেছে। যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়, নানা চাহিদা মেটাতে তার নাগাল পাওয়া যায়।