আবার এলো রমজান রমজানুল মুবারক

আপডেট: April 26, 2020, 12:20 am

শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। এই মাসে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানগণ রোজাব্রত পালন করে থাকে। এই মাসকে রহমত, বরকত ও নেয়ামতে পরিপূর্ণ ইবাদতের মাস হিসেবে মান্য করা হয়। রমজানের পরিচয় দিতে গিয়ে মহান রাব্বুল আলামীন বলেন, রমজান এমন এক মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে। এরপরই তিনি বলছেন, সুতরাং যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে, সে যেন অবশ্যই এ মাসে রোজা পালন করে। (সূরা বাকারা-১৮৫)
এবারের রমজান মাস আগের বছরগুলোর মত নয়। এই রমজানে করোনাভাইরাসের থাবায় মানুষের চলাফেরা, মুসলমানদের নামাজ আদায়, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা কর্মউদ্যোগ সবকিছুই স্থবির হয়ে আছে। প্রায় সারা দেশেই লকডউন চলছে। মানুষ গৃহবন্দি। বাড়ির বাহির হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হচ্ছে, স্বাস্থ্যপরামর্শ মেনে চলতে হচ্ছে। মসজিদে স্বাভাবিক নামাজ আদায় রহিত করা হয়েছে। তারাবির নামাজের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসব কিছু করা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য।
করোনা ভাইরাস ইতোমধ্যেই ভয়াবহরূপ ধারণ করেছে। শনিবার সরকার কর্তৃক দেয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৪০ জন। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ জনে। করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। করোনায় পৃথিবীর দেশ সমূহে প্রায় দুই লক্ষ মারা গেছে। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে পৃথিবীর মানুষ যুদ্ধ করছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। রহমতের এই মাসে নিশ্চয় মুসলিম সম্প্রদায় আল্লাহ তালার নিকট করোনা থেকে মুক্তি চাইবে, সংযম ও সাহসের সাথে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যপরামর্শ মেনে চলবে।
সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমালাভের মাস মাহে রমজান। অশেষ রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের এ মাস মহান আল্লাহর নৈকট্য, শান্তি এবং তাকওয়া অর্জনের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয়। যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এ মাসটি পালন করে থাকে। সিয়াম ধনী-গরিব সকলের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকার কথা বলে।
সন্দেহ নেই, রমজান মাস আত্মশুদ্ধির মাস, সংযম ও সহিষ্ণুতার মাস। রমজানের এই নৈতিক শিক্ষা মানব সমাজ ধারণ করতে পারলে আমরা একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। যার মধ্য প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, মানবাধিকার, সম্ভ্রম ও মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে পারবো। কিন্তু মানুষের বিবেকহীনতা, নিষ্ঠুরতা, ধর্মের অপব্যবহারের ফলে মানবসমাজ কাক্সিক্ষত ন্যায্যতা, অধিকার ও প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানেই আমাদের কাজ করার জন্য যথেষ্ট একাগ্রতা, দক্ষতা ও সক্ষমতা তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
রমজান মাস শুরু না হতেই বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েচে। করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী মানুষের কাজ নেইÑ এই পরিস্থিতি তাদেরকে আরো ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে নিয়ে যাবে। এই দূর্যোগ মুহূর্তে ব্যবসায়ীরা যাতে অবৈধপন্থায় পণ্যমূল্যের দাম স্তিতিশীল রাখেন। সরবরাহ ব্যবস্থা যথেষ্ট থাকার পরেও কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী রমজান মাসকে তার মুনাফা লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার কে ছে। ওই সব ব্যবসায়ীর কাছে ধর্মানুভুতির চেয়েও অতিমুনাফাই মূখ্য হয়ে দাঁড়ায়। রমজান মাসে প্রতিদিন বাজার মনিটরিঙের উদ্যোগ থাকতে হবে। নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা গেলে হয়ত বাজারের পণ্যমূল্যে লাগামহীন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সেই সাথে টিসিবি পণ্যবিক্রির পরিধি আরো বাড়ানো দরকার। দরিদ্র জনগোষ্ঠি যাতে সহজ ও সুলভমূল্যে টিসিবি পণ্য পেতে পারে সে ব্যাপারেও বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
রমজান মাসের পবিত্রতা ও এর ভাবমূর্তি যাতে বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে সকলের সচেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই জরুরি। রমজান মাসের আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধির শিক্ষা গভীরভাবে ধারণ করবো এবং করোনাভাইরাসের মত দূর্য়োগ প্রতিরোধে সফল হবোÑ এই হোক এবারের রমজানের অঙ্গীকার।
মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের প্রতি রইল রমজানুল মুবারক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ