আবার কর্মব্যস্ত হয়ে উঠছে নগরী

আপডেট: জুন ১১, ২০১৯, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ঈদের এক সপ্তাহ আগেই থেকে ফাঁকা হতে শুরু করে নগরী। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায় তারও অনেক আগে থেকে। সরকারি চাকরিজীবীরা ঈদের একদিন আগে থেকে পাঁচদিনের ঈদের ছুটিতে চলে যায়। ফলে বলা যায়, পুরো নগরীই ফাঁকা হয়ে পড়ে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত দোকানপাট ও হোটেল খোলা থাকলেও ঈদের পর থেকেই তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তাঘাটে যানবাহনও কমে যায়। ঈদের পর ছুটি কাটিয়ে গত রোববার থেকে আবার সরকারি অফিস আদালত খুলে গেছে। কর্মব্যস্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে অফিস পাড়া।
যদিও স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এখনো খুলেনি। তবে হোস্টেল খুলেছে। সব খাবার হোটেলগুলো না খুললেও এক দুইটা করে খাবার হোটেলগুলো খুলতে শুরু করেছে। দোকানপাটও খুলতে শুরু করেছে। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে ক্রমান্বয়ে। বলা যায়, আবার কর্মব্যস্ত হয়ে উঠছে পুরো নগরী। আর দুই তিনদিনের মধ্যেই পুরো কর্মব্যস্ত হয়ে উঠবে নগরী।
গত বুধবার ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়। এর একদিন আগে সোমবার অফিস শেষে ছুটিতে যায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠান। পাঁচদিনের ছুটি কাটিয়ে গত রোববার থেকে আবার অফিস খুলেছে। বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই রোববার অফিস করেছেন। আর গত ২০ মে বন্ধ হয়ে যায় সরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। খুলবে এই মাসের ২৩ তারিখে। এখনো অনেক দেরিতে খুললেও ইতিমধ্যে হোস্টেলগুলো খুলে দিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মো. হবিবুর রহমান জানান, আমরা ঈদের পর শনিবার থেকেই অফিস করছি। আর গতকাল ছাত্রদের হোস্টেল খুলে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ছাত্রীদের হোস্টেল খুলে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে ছাত্ররা হোস্টেলগুলোতে এসে থাকতেও শুরু করেছে।
ঈদের পর প্রধানত এক সপ্তাহ সময় লাগে পুরো শহর আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠতে। তখন আবার সেই চেনা চেহারায় ফিরে যায় পুরো নগরী। আবার সেই কোলাহল, গাড়ির হর্ন, রিকশার টুংটাং, কর্মব্যস্ত মানুষদের ৯টা Ñ পাঁচটা অফিস, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি, ব্যবসায়ীদের সকাল বেলা থেকেই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যাবার তাড়া। অর্থাৎ ছুটি কাটিয়ে আবার পুরো নগরীই কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে। কাজের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ছে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে।
নগরীর সিরোইল ও নওদাপাড়া বাস টার্মিনালে এখনো বাড়ি ফেরত যাত্রীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ঈদের আগে বাড়ি যেতে যেভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের এখনও সেই একই ভোগান্তি পেয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরছেন তারা। অর্থাৎ বাড়ি যেতেও ভোগান্তি, ফিরতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে এখনও সপরিবারেই লোকজন ফিরে আসছেন রাজশাহীতে। এদের মধ্যে গত রোববার বাড়ি থেকে ফিরে অনেকেই যোগ দিয়েছেন নিজ নিজ কর্মস্থলে। তাই অনেকেই শনিবার ফিরে এসেছেন শহরে। আর যারা বেশি ছুটি নিয়ে গিয়েছিলেন তারা এখন ফিরছেন। এজন্য নগরীর ভদ্রা ও গোরহাঙ্গা রেলগেইটসহ বিভিন্ন বাস স্টোপেজ ও রেলস্টেশনে ঈদ ফেরত যাত্রীদের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দশ দিন বা এক সপ্তাহ আগে বাড়ি যেতে যাত্রীদের ভিড় ছিল গ্রামের দিকে আর এখন সবাই ফিরছেন রাজশাহীর দিকে। ঈদের ছুটিতে গত কয়েকদিন যে রাজশাহী ছিল কোলাহলহীন, তা আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন থেকে পর পর দু’তিন দিন তাদের উপর তেমন কোনো চাপ থাকে না। তখন অনেক ছুটিও দেয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ছাড়া ট্রাফিকের তেমন কোনো দায়িত্ব থাকে না। কিন্তু ঈদের পর এখন আবার তাদের ব্যস্ততা আগের মতোই বেড়েছে। নগরীর কোর্ট, লক্ষ্মীপুর, সিটি বাইপাস মোড়, বর্ণালী মোড়, বিন্দুর মোড়, শিরোইল, মনিচত্বর, জিরোপয়েন্ট ফিরে যাচ্ছে আগের সেই চেনা রূপে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ