আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা বরেন্দ্রের মাঠে মাঠে দোলে সোনালী ধানের শীষ

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৮, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

এম সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর


বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৬ টি জেলার ১২৫ টি উপজেলায় মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালী ধানের শীষ। সোনা মাখা ধানের শীষের সমারোহ বলে দিচ্ছে নবান্নের আগমন। এখন আমন মৌসুমের শেষ মুহুর্ত। এই সময়ে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে মাঠের পর মাঠ সোনালী ধানের শীষে শিশির বিন্দুর সমারোহ। এই সময়ে নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, নিলফামারি, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর সহ বরেন্দ্রঅঞ্চলের মাঠে মাঠে আমন ধানের শক্ত গাছের গোড়া খেয়ে ফেলত পঁচামিনা ও কারেন্ট পোকা। এ বছর সে দুর্ভাবনা নেই।
বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর এগুলো দমনে কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত হয়ে পড়ত কৃষকরা। চলতি আমন ধান মৌসুমে পঁচামিনা ও কারেন্ট পোকা দমনে গত বছরের তুলনায় কীটনাশক প্রয়োগের ব্যবহার কমেছে কৃষকদের। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সুজাইল গ্রামের আব্দুল লতিফ, গোষাইপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম, হাসানপুর গ্রামের হেফজুলসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তারা এবার আমন মৌসুমের শুরু থেকেই বুক ভরা আশা নিয়ে দিনভর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে কাজ করছেন।
মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, এ বছর চলতি আমন মৌসুমে শুধুমাত্র মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সর্বমোট ২৭ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছে কৃষকরা। তবে এর মধ্যে উফসি জাতের ধান ১৬ হাজার ৮০৫হেক্টর ও বাকি ১০ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে দেশীয় আতব জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে আরো জানা যায়, অন্যান্য বছর বৃষ্টির পানির সংকট না থাকলেও চলতি বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলার কৃষকরা প্রায় বিঘা প্রতি গভীর নলকূপ ও শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দেয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
মহাদেবপুর উপজেলার সুজাইল, গোষাইপুর, হাসানপুর, চকরাজা, দাশড়া, সরস্বতীপুর, শ্যামপুর, খোর্দ্দনারায়ণপুর, বাগধানা, নলবলো, ধনজইল ও চৌমাশিয়া সহ বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠের পর মাঠ সোনালী ধানের শীষের সমারোহ দোল খাচ্ছে। আমন মৌসুমের শেষমুহূর্তে অন্যান্য পোকার উপদ্রব কমলেও কিছু জমিতে কারেন্ট পোকা বিষ প্রয়োগ করতে কৃষকদের দেখা গেছে। আগামীতে আশানুরূপ ধানের দাম পাবেন এ আশাও ব্যক্ত করেছেন তারা। অপরদিকে আমন ধান লাগানো থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না দেখা দিলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি কর্মকর্তাগণ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ