আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা || বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠে মাঠে সোনালী ধানের শীষ

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

এম সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর


বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠে মাঠে এভাবেই ধানে সোনালী রঙ ধারণ করছে-সোনার দেশ

বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৬ জেলার ১২৫টি উপজেলার মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালী ধানের শীষ। সোনা মাখা ধানের শীষের সমারোহ বলে দিচ্ছে নবান্ন আসছে। এখন আমন মৌসুমের শেষ মুহূর্ত। এই সময়ে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে মাঠের পর মাঠে সোনালী ধানের শীষে শিশির বিন্দুর সমারোহ। এই সময়ে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাটসহ বরেন্দ্রঅঞ্চলের বিভিন্ন মাঠে আমন ধানের শক্ত গাছের গোড়া খেয়ে ফেলত পঁচামিনা ও কারেন্ট পোকা।
বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, প্রতিবছর এগুলো দমনে কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত হয়ে পড়ত কৃষকরা। চলতি আমন ধান চাষ মৌসুমে পঁচামিনা ও কারেন্ট পোকা দমনে গত বছরের তুলনায় কীটনাশক প্রয়োগ কমেছে কৃষকদের। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সুজাইল গ্রামের আবদুুল লতিফ, গোষাইপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম, হাসানপুর গ্রামের হেফজুলসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তারা এবার আমন মৌসুমের শুরু থেকেই বুক ভরা আশা নিয়ে দিনভর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে কাজ করছেন। মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একেএম মফিদুল ইসলাম জানান, এ বছর চলতি আমন মৌসুমে শুধুমাত্র মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সর্বমোট ২৭ হাজার ১ শ ৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছে কৃষকরা। তবে এর মধ্যে উপশী জাতের ধান ১৭ হাজার ৮শ ৫হেক্টর ও বাকি ৯হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে দেশীয় আতপ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সুত্রে আরো জানা গেছে, অন্যান্য বছর বৃষ্টির পানির সংকট থাকলেও চলতি বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানির অভাব থেকে কিছুটা মুক্ত ছিলো উপজেলার কৃষকরা। মহাদেবপুর উপজেলার সুজাইল, গোষাইপুর, হাসানপুর, চকরাজা, দাশড়া, সরস্বতীপুর, শ্যামপুর, খোর্দ্দনারায়নপুর, বাগধানা, নলবলো, ধনজইল ও চৌমাশিয়াসহ বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠের পর মাঠ সোনালী ধানের শীষের সমারোহ। আমন মৌসুমের শেষমুহূর্তে অন্যান্য পোকার উপদ্রব কমলেও কিছু জমিতে কারেন্ট পোকা রয়েই গেছে। আগামীতে আশানুরূপ ধানের দাম পাবেন এ আশাও ব্যাক্ত করেছেন তারা। অপরদিকে আমন ধান লাগানো থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না দেখা দিলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি কর্মকর্তাগণ।