‘আমার চোখ দুটো আবার কেন ভিজবে না?’

আপডেট: March 16, 2020, 12:40 am

সোনার দেশ ডেস্ক


অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী চঞ্চল চৌধুরী। দুই মাধ্যমে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই শিল্পী। চঞ্চলের অন্যতম প্রিয় সংগীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। তার গাওয়া ‘বৃদ্ধাশ্রাম’ শিরোনামের গানটি চঞ্চলের ভীষণ প্রিয়। সেই গানটি এবার কণ্ঠে তুলেছে চঞ্চলের পুত্র শুদ্ধ।
ছোট্ট শুদ্ধর গাওয়া গানের ভিডিও চঞ্চল তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। পাশাপাশি প্রিয়শিল্পী নচিকেতাকে নিয়ে স্মৃতিচারণও করেছেন চঞ্চল চৌধুরী।
এ অভিনেতা লিখেছেন—‘‘বৃদ্ধাশ্রম’ গানটা শুনলে এখনো আমার চোখ ভিজে যায়। শুদ্ধ এই গানটা গাইতে শিখেছে। সুনীল স্যার ওকে গানটা শিখিয়েছে। নচিকেতাদার এই গানটা প্রথম শোনার পর, আমার ইচ্ছা হয়েছিল ওনার সাথে দেখা হলে ওনাকে পা ছুঁয়ে শ্রদ্ধা জানাব। সেই সুযোগ আমার হয়েছে। ওনার সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল উত্তরা ক্লাবে। অনেক বছর আগের কথা। নচিদা তখন আমাকে বলেছিলেন, উনি নাকি আমার অভিনয় ভালোবাসেন। উনি মঞ্চে আমার অভিনয় দেখেছেন, আমার ‘মনপুরা’ দেখেছেন।’’
চঞ্চল শুধু নচিকেতার গানেরই ভক্ত নন। তার সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্মও করেছেন। সে ঘটনা উল্লেখ করে চঞ্চল লিখেছেন—‘‘কয়েক বছর আগে কানাডায় একসাথে আমরা দুটো শো করেছিলাম। অনুষ্ঠানে বৃন্দাবনদার লেখা একটা নাটকে আমার আর শাহনাজ খুশীর অভিনয় এবং আমার গান আর বাকি সময়জুড়ে ছিল নচিদার গান। একই হোটেলে একসাথে আমাদের সারাদিন রাতের আড্ডা ছিল জীবনের আনন্দময় সময়ের সবচেয়ে বড় সাক্ষী। কানাডায় দেখা হবার পরই আমাকে নচিদা বললেন—‘‘চঞ্চল, তোর নাকি একটা নতুন সিনেমা বেরিয়েছে? ‘আয়নাবাজী?’ একটু দেখতে চাই, কীভাবে দেখব বলতো?” আমার কাছে আয়নাবাজীর একটা কপি ছিল। আমি ওনাকে দেখালাম।’’
সিনেমাটি দেখে আবেগতাড়িত হয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চে নচিকেতা বলেছিলেন, ‘এতদিন আমার একজন প্রিয় অভিনেতা ছিলেন। তিনি হলেন, নাসিরুদ্দিন শাহ। আজ আরেকজনের নাম যোগ হলো। তিনি হলেন, চঞ্চল চৌধুরী।’ সেদিনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে চঞ্চল লিখেন, ‘সেদিন আমি শুধুই বিব্রত হয়েছি। আসলে এত বড় অভিনেতা আমি নই। যাই হোক, আমি যাঁর গানের গুণমুগ্ধ শ্রোতা, তিনি আমার অভিনয় ভালোবাসেন, এটা আমার অনেক বড় প্রাপ্তি।’
‘‘নচিদার সেই ‘বৃদ্ধাশ্রম’ গানটি যখন আমার ছোট্ট শুদ্ধ গাইতে চেষ্টা করে, আমার চোখ দুটো আবার কেন ভিজবে না? বলতে পারেন? ভালো থাকুন নচিকেতা চক্রবর্তী। কোনো বাবা-মায়ের ঠিকানা যেন বৃদ্ধাশ্রম না হয়।’’ লিখেন চঞ্চল চৌধুরী।