আমার মা

আপডেট: জুন ৮, ২০১৮, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

তাপস চক্রবর্ত্তী


আমার মা আমার জন্য কতই না চিন্তা করে,
পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে ভালবাসত শুধু ভাইকে ও আমারে।

মা বলত , খোকা, পুকুরে,নদীতে নামতে বাঁধা করেছিলাম না তোরে ?
তোর জন্য নানাবিধ ভয় লাগে বাছা ওরে।
কি হতো না হতো তাতেই মাতা এসে বসত আমার শিয়রে।

জানা, অজানা রোগ হলে মাতা ভাসাইত দু’চোখ জলে,
ডাক্তার, কবিরাজ, ঝারফোক তুমি কতই না করলে ।
আরো শিয়রে বসে মাতা তুমি বিনিদ্র রজনী জাগলে,
অবশেষে আরোগ্য লাভ হলো তব ফলে।

ছোট বেলায় যখন থাকতাম খেলার ছলে,
সকালে, দুপুরে, রাতে কৌশলে,
আমার মা খাওয়াত ভাত, মাছ, ডিম, ডালে ।

আমি খেতেই চাইতাম না কারণ আমার ছিল না তো খিদে,
জোর করে মাগো তুমি ভাত মুখের মধ্যে ঢুকে দিতে।
আমি দৌঁড়ে যেতে চাইলে মা গল্প বলে আর দিত না যেতে।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে,
মা আমার রোগে প্রায়ই থাকে উপবাসে।

সুখের সংসার আমার যেন দু:খে ভাসে,
মায়ের ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে বলি সবাইকে ভারতের ভেলর থেকে এসে ।

এ রোগের যন্ত্রণা কি যে তা অন্য কি কেউ বোঝে?
স্বস্তিতে থাকতে পারেনা আমার মা রাত, দুপুর, সকাল, সাঁঝে।
দুর্ঘটনায় পড়ে গিয়ে মায়ের পা ভাঙে এরই মাঝে ।

মা বলে, বাছা, কতদিন ভর দেইনিকো পায়ে,
ইচ্ছে করে বাছা কবে ঘুরে বেড়াবো গাঁয়ে,
অঙ্গে নতুন কাপড় দিয়ে ।

আরো বলে বাছা, আর যদি বাঁচতাম পাঁচটি বছর,
আরো যদি দেখে যেতাম তোদের ছোট্ট বাবু দুটো বড় জোর ।

আমি বিনে বাছা, তোদের কে করবে রে কদর ?
মায়ের মত অন্যরা কি দিতে পারবে রে আদর ?
আমি না থাকলেরে খোকা যতœ নিজে নিবি তোর, ওর ।