আম গাছে থোকা থোকা মুকুল, লাভের স্বপ্ন দেখছেন আমচাষিরা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর আমগাছ ছেয়ে গেছে থোকা থোকা মুকুলে-সোনার দেশ

শীত পেরিয়ে প্রকৃতিতে বসন্ত এসেছে বেশ কদিন হলো। গাছে গাছে ফুটেছে ফুল, মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে আমের বাগান। কোনো কোনো গাছে মুকুল থেকে বেরিয়ে এসেছে ছোট ছোট গুটি। আমের মুকুল থেকে ছড়াচ্ছে ফুলের সৌরভ। মিষ্টি ঘ্রাণে ম ম করছে প্রকৃতি। সুবাসিত পরিবেশ আন্দোলিত করেছে মানুষের মন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে থেকে আম গাছে আসতে শুরু করে মুকুল। এখন মুকুল থেকে গুটি বের হওয়ার সময়। ইতোমধ্যে অনেক গাছেই গুটি আসতেও শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনেরও আশা করছেন আমচাষি ও কৃষি দফতর।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এবং সময়মতো পরিচর্যা করা হলে চলতি মৌসুমে আমের
ফলন ভালো হবে। আর এ কারণেই আশায় বুক বেঁধেছেন চাষিরা। মনোযোগ বাগানের পরিচর্যায়। তাদের আশা, চলতি মৌসুমে তারা আম থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, রাজশাহী জেলায় সাড়ে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এবার আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। এখন পর্যন্ত আমের ফলন বেশি হওয়ার আশা করছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, এবছর আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। প্রায় ৭৫ শতাংশ আম গাছে মুকুল এসেছে। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে আশা করছি আরো ২৫ শতাংশ গাছে মুকুল চলে আসবে। তবে এর মধ্যে হয়তোবা ৫ শতাংশ গাছে মুকুল না-ও আসতে পারে। এটা প্রতিবছরই ঘটে থাকে। গাছে মুকুল ধরেছে আগামি ১৫ দিনের মধ্যে সেগুলিতে মোটরদানার মতো আমের গুটি চলে আসবে। আমরা প্রত্যাশা করছি বাগান মালিক ও চাষিরা এবার লাভবান হবেন।
শুধু রাজশাহীতেই নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ এবং নাটোরেও প্রচুর আম উৎপাদন হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে রয়েছে প্রচুর আমের বাগান। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই আম বাগানের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে গড়ে ওঠা নতুন আম বাগানগুলোর প্রায়ই বনেদি জাতের। বিশেষ করে নিয়মিত জাত ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাত ও আশ্বিনা জাতেরই গাছ বেশি লাগানো হচ্ছে।
নগরীর উপকণ্ঠে রায়পাড়া এলাকায় আম বাগানের সংখ্যাও প্রচুর। এলাকার আমচাষি ইয়াকুব আলী জানান, এ বছরের আবহাওয়া আমের জন্য অনুকূল রয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর টানা শীত ও কুয়াশা ছিলো না বললেই চলে। পুঠিয়ায় এবছর শিলাবৃষ্টি বেশি হলেও যে এলাকায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে সেসব এলাকায় আম বাগান ছিলো না বললেই চলে।
অপর আমচাষি রইস উদ্দিন জানান, আমের জন্য এখন আর অফ ইয়ার বা অন ইয়ার নেই। বছরজুড়েই এখন আম উৎপাদন হচ্ছে। এবারও ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. আলিম উদ্দিন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার গাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। তবে ছত্রাকজনিত রোগেও আমের মুকুল-গুটি আক্রান্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে ম্যানকোজেট গ্রুপের ছত্রাকনাশক দুই গ্রাম অথবা ইমাডোক্লোরিড গ্রুপের দানাদার প্রতি লিটার পানিতে দশমিক দুই গ্রাম, তরল দশমিক ২৫ মিলিলিটার ও সাইপারম্যাক্সিন গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। আবার মুকুল গুটিতে রূপান্তর হলে একই মাত্রায় দ্বিতীয়বার স্প্রে করতে হবে। এছাড়া পাউডার মিলডিউ নামের এক প্রকার ছত্রাকজনিত রোগেও আমের ফলনের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কখনও গাছে এ রোগের আক্রমণ দেখা দিলে অবশ্যই সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক প্রতিলিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে মিশিয়ে সাত থেকে ১০ দিন পর পর দুইবার স্প্রে করতে হবে বলে জানান এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ