ইউএনও-র হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল জেএসসি পরীক্ষার্থী

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

নিয়ামতপুর প্রতিনিধি


নওগাঁর নিয়ামতপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়া মারীয়া পেরেরার হস্তক্ষেপে অল্পের জন্য বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল ভবানীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের জেএসসি পরীক্ষার্থী জেসমিন। সে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের ডিমা গ্রামের হুমায়ন কবিরের মেয়ে।
জানা যায়, গত শনিবার বেলা ১১ টায় ৩৩৩ থেকে ফোন ও এসএমএস-এর মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানতে পারেন যে, ভবানীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী জেসমিনের বিয়ের আয়োজন চলছে। এমন সংবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং অফিসার ইনচার্জ(ওসি তদন্ত) হুমায়ন কবির ও পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। গিয়ে শুনেন কিছ্ক্ষুণ পূর্বেই জেসমিনকে সঙ্গে নিয়ে গোপনে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার বাবা-মা মান্দার বালুবাজার এলাকার কাজী অফিসের দিকে রওনা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল হাকিম এবং ওসি মোজাফ্ফর হোসেনকে বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন নিয়ামতপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়া মারিয়া পেরেরা।
মান্দার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিনের পিতার সঙ্গে ফোনে কথা বললে, তারা ভয় পেয়ে মেয়েকে নিয়ে মাঝপথ থেকে নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। জেসমিন জানায়, পারিবারিক অভাব অনটনের জন্য তার বাবা মা বিয়ের জন্য চাপ দিয়েছিল।
এ বিষয়ে জেসমিনের পিতা ভুল স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়া মারিয়া পেরেরার সামনে ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দিবেননা মর্মে মুচলেকায় স্বাক্ষর করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়া মারিয়া পেরেরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বেলা ১১ টায় ৩৩৩ থেকে ফোনে জানতে পারি বাল্যবিয়ের ঘটনা। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করি ও মেয়েটির লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা করা হবে বলে আস্বস্ত করি।