ইউরোপ বিভক্ত করেছে ট্রাম্প-শি!

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৮, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে হয়েছে ডিসেম্বরে। আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্সে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের একটি ছবিতে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং পাশাপাশি বসে আছেন। আর ইউরোপের অপর দুই নেতা জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল এবং ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বসে আছেন তাদের দুই পাশে। সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে ইউরোপের এই দুই নেতা তথা ইউরোপকে বিভক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চিন। আর বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায়ও বিষয়টি প্রায় একই রকম।
বাণিজ্য সংস্থার এই বৈঠকে নিরবতা পালন করে কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে চিন। এছাড়া বাণিজ্য সংস্থার আলোচনা সফল না হওয়ায় বেজায় খুশি ট্রাম্প। কিন্তু সরাসরি খড়গ নেমে এসেছে ইউরোপের উপরে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও ভুলেনি ইউরোপের নেতারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রক্ষনশীল মানসিকতার কারণে ইউরোপ বিশ্ব বাণিজ্যে প্রসার এবং নেতৃত্ব দিতে পারছে না। জাপান অবশ্য ইউরোপের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে আর এতে ইউরোপের সঙ্গে জাপানের কৃষি কেন্দ্রিক ব্যবসা বাড়বে। এরই সঙ্গে মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করে নিয়েছে জাপান। আর যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আবারও পুনঃনবায়ন করেছে।
ইউরোপ জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের কথা চিন্তা করলেও কৃষি বিষয়ক বাণিজ্য দেশ দুটির বাণিজ্য সম্পর্কে তেমন প্রভাব ফেলবে না। আর এজন্য ইউরোপ চিনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক দৃঢ় করতে চায়। যাতে করে অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছুটা আটকানো সম্ভব হবে। কিন্তু এতে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে শুরু করেছে।
চিন, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপ প্রস্তাব করেছে নতুন বাণিজ্য নীতি প্রণয়ন, আইনগুলো স্বচ্ছ করা এবং নতুন ফ্রেমওয়ার্ক দাঁড় করানোর প্রস্তাব করেছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই প্রস্তাবে সাঁড়া দেয়নি। বরং মুক্ত বাণিজ্যের বদলে যুক্তরাষ্ট্র চিন ও জাপানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী। একে করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে খড়গ আসার সম্ভবনা কম বলে ট্রাম্পের ধারণা। আর চিনও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কিংবা সম্প্রসারণের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না বরং ইউরোপকে ঝুঁলিয়ে রেখেছে বলা যায়।
ট্রাম্পের এমন মতামত ইউরোপের কাছে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো একত্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ছাড়ার হুমকিও দিয়ে রেখেছে। তাঁরা চাচ্ছে চিন তাদের দেশে বিনিয়োগ বাড়াক। কিন্তু চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং তাদের সম্ভাষণে সাড়া দেয়নি। যদি চীন ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করেও তবে তা বেশ কূটনৈতিক হবে এটি অন্তত নিশ্চিত। এমনটা হলে ইউরোপের বাণিজ্য খাদের কিনারায়ই পড়ে যাবে। তাই সমগ্র ইউরোপকে চিন এবং যুক্তরাষ্ট্র বিচ্ছিন্ন করছে এমন দাবি করাই যায়।
তথ্যসূত্র: বাংলা ইনসাইডার

 

Don`t copy text!