ইন্টারভিউয়ে কমন কিছু প্রশ্নের জবাব দেবেন যেভাবে

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৯, ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ইন্টারভিউয়ে আপনাকে যেসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে, সেগুলোর জবাব যদি আগে থেকেই জানা থাকে তবে কেমন হয়?
ইন্টারভিউয়ে কী ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখী হতে হবে তা অনুমান করা যায় না। তারপরও আমরা আপনাকে ইন্টারভিউয়ে কমন ৩১টি প্রশ্ন, যেগুলো সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করা হয়, সেগুলোর জবাব সম্পর্কে ধারণা রাখতে সহায়তা করবো।
* আপনার সম্পর্কে অল্প কথায় কিছু বলুন? : এই প্রশ্নটি খুব সাধারণ বলে অনেকেই এ প্রশ্নের জবাব দিতে আগে থেকে প্রস্তুতি নেন না। কিন্তু এই প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। এ সময় আপনার কর্মসংস্থান বা ব্যক্তিগত ইতিহাস বলবেন না। সংক্ষেপে এবং গোছালোভাবে কিছু কথা বলবেন, যা আপনি কাজের জন্য কেন যোগ্য যথাযথভাবে এই বিষয়টিই তুলে ধরবে। আপনার ২-৩টি কৃতিত্ব বা অভিজ্ঞতা দিয়ে কথা শুরু করে পূর্বের চাকরিতে সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আপনার অবস্থান তুলে ধরে কথা শেষ করুন।
* এখানে নিয়োগের কথা কিভাবে শুনলেন? : এটিও একটি সাধারণ প্রশ্ন। তবে এই প্রশ্নটি কোম্পানিটির প্রতি আপনার প্যাশন এবং কানেকশন প্রকাশ করার উপযুক্ত এক সুযোগ দেয়। এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কিভাবে আপনি এই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিষয়ে জেনেছেন তা খোলাখুলি বলুন। যদি বন্ধু বা প্রফেশনাল কারো মাধ্যমে জেনে থাকেন, তবে অনায়াসে তার নামটি বলুন। কিংবা বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো মাধ্যমে জেনে থাকলে সেটি বলুন। তারপর কেন বিষয়টি আপনার নজর কেড়েছে তা বলুন।
* এই কোম্পানি সম্পর্কে আপনি কী জানেন? : ইন্টারভিউয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই কোম্পানি সম্পর্কে জেনে যাবেন। এখন বেশিরভাগ কোম্পানিরই ওয়েবসাইট রয়েছে। সেখান থেকে কোম্পানির সম্পর্কে জেনে যেতে পারেন। এর ফলে আপনি কোম্পানির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালোভাবে জানার সুযোগ পাবেন।
যখন আপনাকে কোম্পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, তখন এমন একটি লাইন বলার মাধ্যমে জবাবটি শুরু করবেন যাতে তারা বুঝতে পারে যে আপনি কোম্পানির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত। তারপর কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে উদ্ধৃতি দিয়েও দু-একটি লাইন তুলে ধরে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত অভিমত যুক্ত করে দিন। যেমন: কোম্পানির উদ্দেশ্যটি খুবই প্রসংশনীয় কারণ….
* কেন আপনি এই চাকরিটি চান? : যেকোনো কোম্পানিই চাইবে কাজের প্রতি আগ্রহী এমন একজনকে নিয়োগ দিতে। সুতরাং আপনাকে এই প্রশ্নটির ভালো একটি জবাব দিতে হবে।
প্রথমে এমন কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলুন যার মাধ্যমে আপনি জবাবটিকে দারুনভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। (যেমন: আমি কাস্টোমার সাপোর্ট পছন্দ করি। কারণ আমি মানুষকে সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে সন্তুষ্ট করার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাই।) তারপর কেন আপনি এই কোম্পানিটিকে পছন্দ করেন তা বলুন। (যেমন: আমি সবসময় নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী। আপনারা দারুন কিছু কাজ করছেন। আমি আপনাদের এই যাত্রার অংশ হতে চাই।)
* কেন আমরা আপনাকে চাকরিটি দেব? : বলা হয়ে থাকে, এই প্রশ্নটি যাদের করা হয়, তারা ভাগ্যবান। এই প্রশ্নটি করলে বুঝতে হবে কোম্পানি আপনার দিকে এগিয়ে আসতে চাইছে। (ভয় পাবেন না, আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন।)
আপনার নিজেকে তুলে ধরার জন্য এরচেয়ে ভালো কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। তাই চাকরিদাতার মনোযোগ ধরে রাখার মতো কঠিন চ্যালেজ্ঞটির মুখোমুখি হতে হবে আপনাকে।
প্রশ্নের জবাবে আপনি তিনটি বিষয়কে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন: আপনি শুধু নির্দিষ্ট কাজটিই নয় আরো বেশি কিছু দিতে সক্ষম, আপনি যেকোনো কাজের ভালো ফলাফল এনে দিতে পারবেন, আপনি যেকোনো টিম এবং পরিবেশে কাজ করতে পারবেন। এই বিষয়গুলো যত্নের সঙ্গে তুলে ধরতে পারলে আপনিই হবেন অন্যদের তুলনায় অনন্য।
* আপনার পেশাগত শক্তি কী? : এই প্রশ্নের জবাবে আপনাকে অবশ্যই সঠিক (যা আপনার মাঝে আসলেই আছে), প্রাসঙ্গিক (যে পদের জন্য চেষ্টা করছেন তার সঙ্গে সম্পর্কিত) এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরুন। তারপর সম্পর্কিত একটি উদাহরণ তুলে ধরুন।
* কোন বিষয়টিকে আপনার দুর্বলতা বলে মনে করেন? : এই প্রশ্নের মাধ্যমে মূলত চাকরিদাতারা আপনার নিজস্বতা এবং সততা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবেন। এক্ষেত্রে আপনি নিজের কোনো দুর্বলতা থাকলে তা তুলে ধরে এর থেকে দ্রুত উত্তরণের চেষ্টা করবেন, এমনটি উল্লেখ করবেন। যেমন: আপনি সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখতে পারেন না। কিন্তু পেশাগত কাজের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি আপনার প্রয়োজন হতে পারে। তাই বিনয়ের সঙ্গে বিষয়টি তুলে ধরে এর থেকে উত্তরণের কথা বলুন।
* আপনার পেশাগত সেরা অর্জন কী? : শুধু এই প্রশ্নই নয়, অন্য যেকোনো প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও ‘আমাকে চাকরিটি দিন’ এ ধরনের কোনো কথা বলবেন না। চাকরির ক্ষেত্রে অর্জনের বিষয়ে বলার সময় আপনার যেকোনো একটি কর্ম তুলে ধরুন। তারপর এর ফলাফলও তুলে ধরুন।
যেমন: আমি জুনিয়ার অ্যানালিস্ট পদে কর্মরত ছিলাম। সেখানে একমাসে ১০ কর্ম ঘণ্টার অপচয় রোধ করেছি এবং এনভয়েসের ভুল ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছি।
* কর্মক্ষেত্রে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হয়েছেন কী? হলে তা কীভাবে মোকাবিলা করেছেন? : এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনি কর্মক্ষেত্রে মুখোমুখী হওয়া কোনো একটি দ্বন্দ্ব অথবা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরুন। এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও আপনি শান্ত এবং আনন্দদায়ক পরিবেশ ধরে রাখবেন। আর আপনার বক্তব্যে কিভাবে আপনি কোনো একটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন তার বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ফলাফল তুলে ধরুন। তবে বাড়তি, অবস্তাব এবং ভুল কোনো তথ্য দেবেন না।
* ৫ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান? : এ প্রশ্নের জবাবে আপনি স্পষ্টভাবে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরুন। চাকরিদাতা আপনার মাঝে বাস্তব অভিজ্ঞতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং লক্ষ্য ও আপনার উদ্দেশ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তাই জানতে চাইবেন। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতাসহ ৫ বছর পর নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান তা অল্প কথায় বলুন।
* আপনার স্বপ্নের চাকরি কোনটি? : চাকরিদাতারা জানার চেষ্টা করবেন আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে যে পদে ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন তা সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা। সুতরাং আপনার লক্ষ্য এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে বলুন আর কেন এই প্রতিষ্ঠানের কাজটি আপনাকে লক্ষ্যপূরণের কাছে নিয়ে যাবে তা তুলে ধরুন।

* আর কোন কোন কোম্পানিতে আপনি ইন্টারভিউ দিয়েছেন? : নানা কারণে চাকরিদাতা এ প্রশ্ন করতে পারেন। হতে পারে আপনি এই ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে কতটা সিরিয়াস এবং আপনার জন্য প্রতিযোগিতাটি কেমন তা দেখার তাগিদ থেকে। যে কারণেই হোক এমন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে একটু কৌশলী হবেন। দু একটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে বলবেন, আপনি এই কাজের (মনে করুন আইটি) সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি পদে আবেদন করেছেন, যেখানে আপনি গ্রাহককে সেবা দিয়ে আত্মসন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবেন। অর্থাৎ কোম্পানিগুলোতে অনুরূপ বিকল্প কাজগুলোর খোঁজ করছেন। এটি উল্লেখ করা সহায়ক হতে পারে যে, আপনি যেসব চাকরির জন্য আবেদন করছেন তার একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো- আপনার নিজের হাতে থাকা কিছু সমালোচনামূলক ক্ষমতা এবং দক্ষতা প্রয়োগ করার সুযোগ।
* বর্তমান চাকরিটি কেন ছাড়তে চাচ্ছেন? : এটি একটি কঠিন প্রশ্ন, কিন্তু নিশ্চিত থাকতে পারেন যে প্রশ্নটির মুখোমুখি আপনাকে হতে হবে। এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আগের অফিস সম্পর্কে নেতিবাচক কোনো মন্তব্য করবেন না। বরং এভাবে বলুন যে আপনি নতুন একটি চ্যালেঞ্জ এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান।
* কেন আপনাকে বরখাস্ত করা হলো? : এই প্রশ্নটির মুখোমুখী হবেন কিনা তা নির্ভর করে আগের চাকরিটি ছাড়ার কারণের উপর। যদি কোনো কারণে আগের চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়ে থাকেন তবে সততার সঙ্গে আপনার ভুল তুলে ধরুন। অবশ্যই ওই ভুলকে অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরুন। বিষয়টিকে এভাবে তুলে ধরুন যে, ওই ঘটনা আপনার পরবর্তী জীবনের জন্য হয়তো সহায়ক ও পথপ্রদর্শক হবে।
* কোন পদটি আপনি পেতে চাচ্ছেন? : কোন পদে চাকরি পেতে চান, তা অল্প কথায় স্পষ্টভাবে বলুন। লক্ষ্যনীয়, আপনি নিশ্চয়ই সিভিতে কোন পদটি পেতে চান তা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং সিভিতে উল্লেখিত পদের কথাই বলবেন। অন্য পদের কথা বললে হিতে বিপরীত হতে পারে।
* কোন ধরনের পরিবেশে আপনি কাজ করতে পছন্দ করেন? : আপনি যে প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিচ্ছেন তার সঙ্গে সম্পর্কিত এমন পরিবেশের কথা বলুন। অবশ্যই এই বিষয়টিও এমনভাবে তুলে ধরবেন যাতে চাকরিদাতারা বুঝতে পারেন আপনি যেকোনো পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত।
* আপনার ম্যানেজমেন্ট স্টাইল সম্পর্কে বলুন : ভালো ম্যানেজাররা কঠোর তবে নমনীয় হয়ে থাকেন। এভাবে জবাবটি শুরু করতে পারেন। তারপর কিভাবে আপনি আপনার টিমের সঙ্গে কাজ করেন তার উদাহরণ টানতে পারেন। আপনার জবাবের মাধ্যমে চাকরিদাতার কাছে বিষয়টিকে এভাবে তুলে ধরুন যে, আপনি টিমে কোচের মতো কাজ করে থাকেন। তারপর একটি উদাহরণ দিতে পারেন। মনে করুন, আপনি ৫-১৫ জনের একটি টিমের লিডার ছিলেন। তারপর কিভাবে সেই টিম থেকে কোম্পানির বেস্ট সেলার হলেন তা বলতে পারেন।
* আপনি কেমন নেতৃত্ব দেন? : এমন কিছু একটা উদাহরণ দিয়ে আপনার জবাব শুরু করুন যা আপনার ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং টিমে নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরে। উদাহরণটি অবশ্যই হতে হবে বিশ্বাসযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত। চাকরিদাতার সামনে তুলে ধরুন, কিভাবে আপনি যেকোনো পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।
* কর্মক্ষেত্রে বসের কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে আপনার মতের অমিল হয়েছিল? : প্রত্যেকেরই কম বেশি বসের সঙ্গে মতের অমিল হয়ে থাকে। চাকরিদাতা জানতে চাইতে পারে কিভাবে আপনি এই দিকটি সামলেছেন। এক্ষেত্রে আপনি আপনার মতের ভিন্নতার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলুন, আপনি শান্তভাবে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। পুরো বিষয়টিকে আপনি ভালো দিক থেকে তুলে ধরবেন। এমন কিছু বলবেন না যা আপনার জন্য নেতিবাচক ফলাফল বয়ে আনতে পারে।
* বস এবং অন্যরা কিভাবে আপনাকে মূল্যায়ন করে? : সবার আগে বলতে পারেন, আপনি সৎ (মনে রাখবেন আপনি প্রাথমিকভাবে চাকরির জন্য চূড়ান্ত হলে চাকরিদাতারা আপনার বস অথবা সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন)। সুতরাং যা কিছু বলবেন অবশ্যই বাস্তবভিত্তিক। যাই হোক, আপনার আগের অফিসে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে তার নিরিখে নিজেকে তুলে ধরতে পারেন।
*আপনার চাকরিতে গ্যাপ পড়ার কারণ কী? : যদি আপনি কিছু দিন চাকরিহীন থাকেন তবে এ ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখী হতে পারেন। এমন প্রশ্নে অবশ্যই আপনাকে কৌশলী জবাব দিতে হবে। সুতরাং আকর্ষণীয়ভাবে জবাব দিন এবং বলুন, আপনি কিছু দিন বিরতি চেয়েছিলেন। এখন আপনি এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
*ক্যারিয়ার পথ পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করবেন কী? : এমন প্রশ্ন শুনে থমকে যাবেন না। বড় করে একটি নিঃশ্বাস নিয়ে ক্যারিয়ার পথ পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, আগের পেশা বা কর্মের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নতুন কর্মে বা নতুন কাজে যুক্ত হওয়ার কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরুন। এই প্রশ্নের জবাব যদি সন্তোষজনকভাবে দিতে পারেন, তবে আশা করা যায় তা আপনার চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কাজে দেবে।
*কিভাবে আপনি কাজের চাপ সামলান? : এই প্রশ্নটি আপনার কাজের দক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই এমন একটি উদাহরণ তুলে ধরবেন যাতে আপনি শান্ত, সুচিন্তিত ও গুছালোভাবে চাপ সামলে কাজ সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। তারপর বিষয়টিকে সহজভাবে নিতে পারেন বলে বর্ণনা করুন।
*প্রথম ৩০, ৬০ ও ৯০ দিনে এই পদে আপনার ভূমিকা কী হবে? : কিভাবে আপনি কি করতে চাচ্ছেন তা বলার মাধ্যমে জবাবটি শুরু করুন। জবাবে অবশ্যই আপনি সেই সব তথ্য রাখবেন যা আপনার মাঝে কোম্পানি দেখতে চায়, যা আপনার কর্মক্ষমতা প্রকাশ করে, আপনাকে কোম্পানির সামনে তুলে ধরে। তারপর আপনি নির্দিষ্ট কিছু তথ্য দিন যার মাধ্যমে কোম্পানিতে উল্লেখ্যযোগ্য পরিবর্তন দেখাতে চান। এক্ষেত্রে আপনি চাকরিটি যদি পেয়ে থাকেন তবে কীভাবে, কোন প্রজেক্ট দিয়ে কাজ শুরু করতে চান তাও বলতে পারেন।
*কেমন বেতন প্রত্যাশা করেন? : এই প্রশ্নের জবাবটি আপনি নিজের গবেষণা ও পে স্কেল অনুযায়ী দেবেন। তবে পরামর্শ থাকবে আপনার অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন প্রত্যাশা করবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার পদের বেতনের রেঞ্জটিও বিবেচনায় রাখবেন।
*চাকরির পাশাপাশি আর কী করতে পছন্দ করেন? : চাকরিদাতারা আপনাকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করার মাধমেও যাচাই করতে পারেন এবং আপনার ব্যক্তিত্ব যাচাই করতে পারেন। কখনো কখনো আপনি কতটা সংস্কৃতিপ্রেমী তাও দেখতে চাইতে পারেন। অনেক সময় চাকরিদাতারা আপনার অবসরের কাজ সম্পর্কেও জানতে চাইতে পারেন। সুতরাং এসব বিষয়েও আপনি নিজেকে প্রস্তুত রাখবেন।
*আপনি যদি কোনো প্রাণী হতেন তবে কি হতে চাইতেন? : চাকরিদাতারা আপনাকে এ ধরনের প্রশ্ন করে আপনাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারেন। তাই এ ধরনের প্রশ্ন শুনে ঘাবড়ে যাবেন না। বরং ভালো একটি জবাব দেওয়ার চেষ্টা করুন। তা আপনার জন্য বাড়তি সুযোগ বয়ে আনতে পারে।
*কতগুলো টেনিস বল আপনি লিমোজিনে ফেলতে পারবেন? : এই প্রশ্নটি কোনো সংখ্যা জানতে নয়, বরং আপনার জবাব দেওয়ার পদ্ধতি এবং যৌক্তিকতা যাচাইয়ে করে থাকতে পারেন। সুতরাং এমন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে বড় করে নিঃশ্বাস নিয়ে একটু ভাবুন।
*আপনি কি বাবা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন? :চাকরিদাতারা আপনার পরিবার ও আপনার সামনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে এ ধরনের প্রশ্ন করতে পারেন। এছাড়া জাত, ধর্ম, বর্ণ ইত্যাদি নিয়ে আপনার মনোভাব জানতেও তারা কৌশলে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারেন। সুতরাং এ ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে নিজেকে প্রস্তুত রাখবেন। জবাবে কিছুটা কৌশলী হবেন। বলবেন, আপনারা বুঝতেই পারছেন আমি এই মুহূর্তে বাবা হতে প্রস্তুত নই। আমি এখন ক্যারিয়ার নিয়ে বেশি চিন্তিত। আমার এখন একটাই লক্ষ্য পেশাগত জায়গায় সফল হওয়া।
*আমরা ভালো এবং ভিন্ন কিছু করতে পারবো বলে আপনার মনে হয় কী? : এ প্রশ্নের মাধ্যমে চাকরিদাতারা আপনার কাছ থেকে কোম্পানির বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্তব্য জানার চেষ্টা করবেন। তারা আপনার মাঝে থেকে কোম্পানির জন্য কল্যাণকর এমন কোনো পরিকল্পনা বের করে আনার চেষ্টা করবেন। তাই এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানের জন্য আপনার দু একটি পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। আর অবশ্যই বলবেন, কোম্পানির বর্তমান কর্মকাণ্ড অবশ্যই প্রসংশনীয়। কাজের সুযোগ পেলে কোম্পানিকে আরো এগিয়ে নিতে সচেষ্ট হবেন। এ ধরনের জবাব চাকরিদাতার মাঝে আপনার জন্য ভরসার জায়গা তৈরি করবে।
*আমাদের কাছে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে? : এ ধরনের প্রশ্ন করে চাকরিদাতা আপনার মনোভাব যাচাই করতে পারেন। এমন প্রশ্নের জবাবে ভুলেও ‘আমি কি চাকরিটি পাবো’ ধরনের প্রশ্ন করবেন না। বরং কোম্পানি সামনে কি পণ্য বাজারে নিয়ে আসছে অথবা কোম্পানিকে এগিয়ে নিতে তারা নতুন কি উদ্যোগ নিচ্ছে তা জানতে পারেন। এসব প্রশ্ন আপনার পেশাদারী মনোভাবই সবচেয়ে বেশি প্রকাশ করবে। তথ্যসূত্র: দ্য মিউস