‘ইশারা পেয়ে’ ঢাকা উত্তরের মেয়র হতে প্রচারে আতিক

আপডেট: ডিসেম্বর ২৬, ২০১৭, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আনিসুল হকের চেয়ারে বসতে প্রচার যারা চালাচ্ছেন, তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের ‘সায় পেয়েছেন’ বলে দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, গত সপ্তাহে আতিকুল গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। তখনই তাকে ‘গ্রিন সিগনাল’ দেয়া হয়। এরইমধ্যে আতিকুলের ছবি সম্বলিত ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে তেজগাঁও ও ফার্মগেইট এলাকা।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে আতিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “আমার ঠিক খেয়াল নেই। তবে, কোনো এক সময় দেখা হয়েছিল।”
নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচন করতে নিজের আগ্রহের কথা সরাসরিই জানান তিনি।
“অবশ্যই কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমি কিছু নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছি। কিছু সম্মানিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছি। আগামী কয়েকদিন আরও করব।”
আড়াই বছর আগে ঢাকা উত্তরের প্রথম নির্বাচনের আগেও একই প্রক্রিয়ায় অপ্রত্যাশিতভাবে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হয়েছিলেন আনিসুল হক।
আনিসুল হকের মতো আতিকুলও তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ী। আনিসুল হক এই খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি হওয়ার পর এফবিসিসিআইর সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
আতিকুলও বিজিএমইএর সভাপতি ছিলেন ২০১৩-১৪ মেয়াদে। এখন তিনি পোশাক খাতের শ্রম পরিস্থিতি ও পণ্যের মান উন্নয়নে গঠিত ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ’-সিবাইয়ের সভাপতি।
গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যেমন রাজনীতির জগতের বাইরে থেকে আনিসুলকে সমর্থন দিয়েছিল, বিএনপিও একইভাবে সমর্থন দিয়েছিল তাবিথ আউয়ালকে। ভোটের মাঝপথে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাবিথ নির্বাচন বর্জন করেছিলেন।
সেবার নির্দলীয়ভাবে ভোট হলেও সিটি করপোরেশনের আইন সংশোধন হওয়ায় এবার মেয়র নির্বাচন হবে দলীয়ভাবে। অর্থাৎ মেয়র প্রার্থীরা নৌকা-ধানের শীষের মতো দলীয় প্রতীক নিয়েই লড়বেন।
আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদটি এখন শূন্য। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই পদে উপ-নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে ইসি সে অনুযায়ী কাজ গোছাচ্ছে।
মেয়র নির্বাচিত হলে নিজের কর্মপন্থা কী হবে, তাও ঠিক করে রেখেছেন আতিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “প্রথম ক্রাইটেরিয়া হল আনিস ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করা। দ্বিতীয়টা হল, আমরা কীভাবে সকলে ঢাকায় শান্তিতে বসবাস করতে পারি। শান্তি, সেফটি, যানজট মুক্তি, সব কিছু মিলিয়ে। আনিস ভাইয়ের প্রথম কাজগুলো যদি করতে পারি; তাহলে সকলের জন্য প্রত্যাশিত কাজ হয়ে যাবে।”
‘সায়’ পেলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে কিছু বলতে চাননি সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলাম ও বিজিবির সাবেক প্রধান মইনুল ইসলামের ভাই আতিকুল।
“আমাকে তো পার্টি থেকে বলেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো পার্টি প্রধান। উনি ডিক্লেয়ার না করা পর্যন্ত কিছু বলতে পারব না।”
তবে ক্ষমতাসীন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হি (আতিকুল) গট দি মেসেজ ফ্রম দি অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার- গো এহেড ফর দি ইলেকশন।”
গণভবনে গত শনিবার সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ক্যানডিডেট তো চূড়ান্ত হয়নি; তবে কিছু ইন্ডিকেশন দেওয়া হচ্ছে, সেটা তো বুঝতেই পারছেন।”
ঢাকা উত্তরে দলের মেয়র প্রার্থী কে হচ্ছেন- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখনও তো তফসিলই ঘোষণা হয় নাই। যখন তফসিল ঘোষণা হবে, তখনই প্রার্থিতা নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।”
২০১৫ সালের প্রার্থী আনিসুল হকের জন্য দলের পক্ষে নির্বাচনী কাজের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান।
তিনি ব্যবসায়ী নেতা এ কে আজাদ, সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবাল ও কবরী সারোয়ার এবং ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের আগ্রহের কথাও বলেন।
ফারুক খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আপনি তো একজনের কথা বললেন, ওই দিনকার (শনিবার) মিটিংয়ে প্রত্যেককে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
অভিনেত্রী কবরী সারোয়ারের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে তিনি প্রার্থী হবেন।
সাদেক খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কর্মীরা চায়। নেত্রী চাইলে আমি প্রার্থী হব।” এ কে আজাদের মোবাইলে কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
ফারুক খান বলেন, “জরিপ হচ্ছে। জরিপ তো একটা বড় বিষয়।”
শনিবারের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে এই ভোট নিয়ে আইনগত জটিলতার বিষয়টিও আসে বলে জানান তিনি।
ফারুক খান বলেন, “তবে নেত্রী বলেছেন, ‘আইনগত বিষয় তো আমাদের বিষয় না, আমরা আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করব’।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ