ঈদকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তাঁত পল্লীতে কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে

আপডেট: জুন ৪, ২০১৮, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি


ঈদকে সামনে রেখে কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রেশম পল্লীতে। তবে, তাঁতের জন্য বিখ্যাত এই শিল্প বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। সুযোগ-সুবিধা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিদেশী পোশাকের সাথে প্রতিযোগিতায় ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে এ শিল্প।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জেলার রেশম পল্লী হিসেবে খ্যাত হরিনগর, লাহারপুর, শিবগঞ্জ ও কানসাটের বিশ্বনাথপুরের এখন তাঁতের খুটখাট শব্দ আর কারিগর-শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে।
এখানকার রেশম শাড়ির বুননে বৈচিত্র আর নতুনত্বের ছোঁয়া দিতে দিনরাত কাজ করছেন কারিগররা। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন চাহিদা অনেক বেশি, তাই নানা ধাপে এখানে রাত-দিন কাজে ব্যস্ত তাঁত শ্রমিকরা। এখানকার তৈরি বাহারি সব রেশম সিল্কের পোশাক ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকার আড়ং, রাজশাহীসহ অভিজাত বিভিন্ন বিপণী বিতানে। এমনকি বিদেশেও বেশ চাহিদা রয়েছে। এখানকার রেশম সিল্কের তৈরি শাড়ি, পাঞ্জাবির কাপড়, বেনারশী, গরদের শার্ট, মটকা, ওড়না, সালোয়ার কামিজ মূলতঃ মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তদের পোশাকের চাহিদা মেটায়।
আর বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন চাহিদাটা একুট বেশি। দুই ঈদ আর পূঁজা ছাড়া বাকি সময় তাদের তেমন কাজ থাকে না। তবে, বাকিটা সময় অন্য কাজ করেন।
তাঁত শ্রমিক ফজর আলী জানান, কাজ হিসেবে মজুরী মাত্র ৬-৭ হাজার টাকা। মজুরী বৃদ্ধি পেলে শ্রমের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যাবে।
তবে তাঁত মালিকরা জানান, বর্তমানে রঙ ও সূতাসহ বিভিন্ন উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদেরকে বেশী অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। তবুও তারা সাধ্যমত চেষ্টা করছে ভাল মানের কাপড় তৈরি করতে।
এদিকে, নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন প্রাথমিক তাঁতী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিজেন্দ্রনাথ দাস বলেন, জেলায় প্রায় ১৫ হাজারের মত তাঁত থাকলেও বর্তমানে সচল রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার । যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। যেখানে কেবল ঈদেই তৈরি হয় প্রায় ৪ কোটি টাকার শাড়ী কাপড় ও পোশাক। তিনি আরো বলেন, মাত্র ৪০ হাজার টাকা ঋণ দেয় তাঁত বোর্ড, তা ১ লাখ টাকায উন্নীত করার পাশাপাশি সূদের হার কমাতে হবে। তাহলে, এ শিল্পটি আরো চাঙ্গা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ