ঈদের আগে রেমিটেন্সের পালে হাওয়া

আপডেট: জুন ৪, ২০১৮, ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ঈদ সামনে রেখে প্রবাসীরা দেশে বেশি টাকা পাঠানোয় মে মাসে ১৪৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারের রেমিটেন্স যোগ হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে।
একক মাসের হিসাবে এই অংক গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং এ যাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স।
রেমিটেন্স প্রবাহ গত কয়েক মাস ধরে বাড়তে থাকায় অর্থবছর শেষ হওয়ার এক মাস বাকি থাকতেই গত অর্থবছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি প্রবাসী আয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
এর আগে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪৯ কোটি ২৪ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল দেশে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলছেন, প্রতিবারের মত এবারও ঈদ সামনে রেখে বেশি রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। ঈদ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই তিনি মনে করছেন।
“আশা করছি চলতি অর্থবছর শেষে রেমিটেন্স ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিটেন্সের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা এক হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ (১৩.৫৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন।
আর গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের পুরো সময়ে (জুলাই-জুন) এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
গত বছর মে মাসে ১২৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছিল। এই হিসাবে মে মাসে রেমিটেন্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজারে ডলারের তেজিভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে রেমিটেন্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী মুহিত।
বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো এই বিদেশি মুদ্রা। দেশের রেমিটেন্সের অর্ধেকের বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে।
২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেকর্ড এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ (১৫.৩১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স বাংলাদেশে আসে। এরপর তিন বছর ধারাবাহিকভাবে রেমিটেন্স কমেছে।
জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়াও রেমিটেন্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন মুহিত। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে জনশক্তি রপ্তানি ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে প্রতি ডলার এখন ৮৩ টাকা ৭০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে এই দর ছিল ৮০ টাকা ৫০ পয়সা। এ হিসাবে এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।
রেমিটেন্স বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও রয়েছে সন্তোষজনক অবস্থায়। রোববার দিন শেষে রিজার্ভে ছিল ৩২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ৩৫ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছে। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক ও রাকাব) মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ২৩ লাখ ডলার।
এছাড়া ৩৯ বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১০৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার এবং নয়টি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছে গত মাসে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ