ঈদের বাজার সরগরম || দাম সহনীয় হওয়ায় ক্রেতাদের মুখে সন্তুষ্টির হাসি

আপডেট: মে ২২, ২০১৯, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

রওনক আরা জেসমীন


পছন্দের পোশাক দেখছেন এক ক্রেতা। ছবিটি নগরীর আরডিএ মার্কেট থেকে তোলা-সোনার দেশ

ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন। ঈদের আগমনে মুছে যায় পাপ-পঙ্কিলতার কালিমা। নিভিয়ে দেয় হিংসা-বিদ্বেষ, রাগ ও ক্ষোভের আগুন। ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাই হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মেলায়। একসাথে গায় শান্তি ও সাম্যের গান।
তাই এই ঈদকে ঘিরেই সবার নানান পরিকল্পনা। ঈদের কেনাকাটার তালিকায় প্রথমেই থাকে নতুন পোশাক। এর সঙ্গে মানানসই অনুসঙ্গ তো আছেই। ঈদের দিনটি যতই এগিয়ে আসছে, দিনে দিনে ঈদের কেনাকাটাও জমতে শুরু করছে। রাজশাহীর সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী বেচাকেনার স্থান সাহেববাজার আরডিএ মার্কেট ও নিউমার্কেট। নগরীতে এখন নতুন নতুন অনেক মার্কেট হলেও একসঙ্গে সব জিনিস পাওয়ার জন্য ক্রেতারা আসেন এই দুই মার্কেটেই। যারা সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো পণ্য কিনতে চান তাদের কাছেও এই মার্কেটের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে এখন সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও মার্কেট খোলা থাকছে সকাল দশটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত। দুপুরের দিকে মার্কেটগুলোতে দেখা যায় প্রচুর ক্রেতাদের আনাগোনা এবং সন্ধ্যায় ইফতারের পর থেকে রাত দশটা-এগারোটা পর্যন্ত আবার নামে ক্রেতাদের ঢল। অনেকেই আসছেন পরিবার পরিজনদের নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে। আবার কেউ কেউ দল বেধে বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের কেনাকাটা সারছেন।
গতকাল মঙ্গলবার আরডিএ মার্কেট ও নিউমার্কেট চত্বর ঘুরে দেখা গেল পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়।
সাইবার কালেকশনের ম্যানেজার মিজানুর রহমান জানালেন, গরমের তীব্রতার কারণে রোজা রেখে ঈদের বাজার করাটা ক্রেতাদের জন্য বেশ কষ্টকর। তাই সকাল বা দুপুরের চেয়ে রাতেই ভিড়টা বেশি থাকছে। তবে গতবারের তুলনায় ক্রেতাদের সমাগম বেশ কম। অনেকে আবার বাজারে না এসে অনলাইনেই কেনাকাটা সারছেন। সেকারণে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কম। এছাড়া বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে এখনও ঈদের বোনাস হয়নি, এটাও ক্রেতা স্বল্পতার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।
তানিশা ফ্যাশানের বিক্রয় কর্মকর্তা সাগর জানান, গরমের তীব্রতার কথা বিবেচনা করে পোশাকের ক্ষেত্রে এবার টিস্যু ও সুতি কাপড়ের ওয়ান পিস, থ্রি পিস, গাউন, ফ্লোরটাচ স্থান করে নিয়েছে বাজারে। এছাড়া নেটের বারবি গাউন এবার ঈদ বাজারের নতুন আকর্ষণ।
তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় ক্রেতাদের সমাগম এখনও আশানুরূপ না। তবে রমজানের শেষের দিকে বাড়বে বলে আশা রাখছি। রমজান শুরুর কিছুদিন আগে থেকে সাত আট রমজান পর্যন্ত একটা চাপ থাকে। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা যারা রাজশাহীর স্থানীয় না, তারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে কেনাকাটা করতে আসেন। এরপর সাধারণত রমজানের শেষের দিকে উপচেপড়া ভিড় হতে দেখা যায়। কারণ বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ঈদ করতে রাজশাহীতে বাড়ি ফিরে ঈদের বাজার করতে আসেন।
আরডিএ মার্কেটের শাড়ির দোকান সন্তোষ বস্ত্রালয়ের জয় সনকার জানান, এবার ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম। একদিকে অসহনীয় গরম, অন্যদিকে পাশের দেশ ইন্ডিয়া থেকে অনেকেই বাজার করে এখন। আর অনলাইন বাজারের মাধ্যমে তো ত্রেতারা ঘরে বসেই সব পেয়ে যাচ্ছে হোম ডেলিভারি সার্ভিসের কল্যাণে। তবে এখনও ঈদের বেশ কিছুদিন বাকি। আশা করা যায়, বিশ রমজানের পর থেকে ক্রেতাদের ভিড়ে দোকানে পা রাখার জায়গা টুকু পর্যন্ত পাওয়া যাবে না।
তিনি আরও জানান, এবার কাপড়ের দাম সহনীয় এবং সবার সামর্থ অনুযায়ী থাকার কারণে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী শাড়ি কিনছে। তিনি জানান, এবার ঈদে ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করছেন, ইন্ডিয়ান রাজগুরু সিল্ক, ঢাকাই জামদানি এবং ভেলভেট ও সিল্কের ল্যাহেঙ্গা। এর মধ্যে ল্যাহেঙ্গার চাহিদাই বেশি।
টিকাপাড়ার বাসিন্দা কলেজ শিক্ষিকা শিরিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের বাজার করছিলেন। তিনি জানালেন, অন্যবারের তুলনায় এবার জামা কাপড়ের দামটা সহনীয়। পরিবারের সবারই তাই মনমতো পোশাক কেনা হয়ে গেছে।
কাজলার গৃহিণী সোমা জানান, বাসার ছোট্ট সদস্য ও মুরুব্বিদের ঈদ বাজার শেষ। এবার নিজের জন্য শাড়ি কিনছি। জামদানির কদর সবসময়ই। তাই আমার জামদানি পছন্দ বেশি। কারণ শুধু ঈদেই না, যেকোনো অনুষ্ঠানেই এর আলাদা আবেদন।
রাজশাহী সাহেববাজারস্থ কাপড়পট্টিতে শাড়ির সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী দোকান হচ্ছে জমির উদ্দিন অ্যান্ড সন্স। সেখানে গিয়ে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এখানে ক্রেতাদের যেমন ভিড় তেমনি দোকানিরাও তাদের ক্রেতাদের নিয়ে খুব ব্যস্ত। বিক্রয়কর্মীদের কথা বলার সুযোগই নেই। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। একজন বিক্রয় কর্মকর্তা জানালেন, ক্রেতাদের ভিড় এখানে সবসময়ের জন্যই এরকম। আর ঈদের সময় তো একটু বেশি হবেই। রাজশাহীর স্থানীয় মানুষের কাছে জমির উদ্দিন অ্যান্ড সন্সের কদর আগেও যেমন ছিল, এখনও আছে, আশা করি ভবিষ্যতেও তা থাকবে।
বাজারে জিপসি, গাউন, ফ্লোরটাচ ও রাববি গাউন পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন ৩০০০ থেকে শুরু করে ৮০০০ টাকার মধ্যে। শাড়ির মধ্যে রাজগুরু সিল্ক সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে শুরু ২৫ হাজার টাকায়, ল্যাহেঙ্গা ৩৫০০ থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।