ঈদ উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে নগরীর ফ্যাশন হাউজগুলো || বাড়ছে ক্রেতাদের সমাগম দাম সহনীয় হওয়ায় ক্রেতাদের মূখে সন্তুষ্টির হাসি

আপডেট: জুন ১, ২০১৮, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

রওনক আরা জেসমীন


ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রঙিন ও বাহারি নকশার পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছে রাজশাহী নগরীর ফ্যাশন হাউজগুলো। দেশীয় আভিজাত্যের ছোঁয়া নিয়ে ফ্যাশন সচেতন সব বয়সের ক্রেতাদের জন্য বাহারি সব নিত্য নতুন কাটিং ও প্যাটার্নের চমৎকার এবারের পোশাকগুলো। দাম সহনীয় পর্যায়ে রেখে এবারের ঈদ কালেকশনে দেশি পোশাকের পাশাপাশি বিভিন্ন ট্রেন্ডি লুকস্রে কালেকশনও রাখা হয়েছে ফ্যাশন হাউজগুলোতে।
মেয়েদের জন্য নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, থ্রি-পিস, ফ্লোরটাচ গাউন, সিঙ্গল কামিজ, লেডিস কুর্তি, স্কার্ট-টপস এবং ছেলেদের পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি, জেন্টস কুর্তা, ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট, পায়জামা, ধুতি, চুড়িদার, প্যান্টের বিশাল সমাহার।
এছাড়াও শিশুদের বৈচিত্রময় পোশাকসহ নানা উপহার সামগ্রী, মেয়েদের অর্নামেন্টস, ব্যাগ ও ঘর সাজানোর নানান অনুষঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্বরঙ
ঈদ মানেই উৎসবের রঙে নিজেকে রাঙানো আর বিশ্বরঙ-এর অভিযাত্রা সময়কে রাঙানোর ব্রত নিয়ে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সীদের পর্যন্ত রুচিশীল ফ্যাশন ও রঙ-এর দিকে নজর রেখে বিশ্বরঙ-এর আয়োজন। প্রত্যেকটি পোশাকে রয়েছে ভিন্নতার ছোঁয়া।
বিশ্বরঙ-এ সবসময় সুতি কাপড়ই প্রাধান্য পায়। ঈদের পোশাক হিসেবে এবার মেয়েদের জন্য রয়েছে স্টিচড-আনস্টিচড কামিজ, শাড়ি, ওড়না, স্কার্ট, কুর্তা ইত্যাদিসহ রকমারি গহনা। সুতির স্টিচড ও আনস্টিচড কামিজ পাওয়া যাচ্ছে ১২০০ থেকে ৪০০০ টাকা মূল্যে। শাড়িতে ব্লক, টাইডাই, হ্যান্ড স্টিচ কাজ করা হয়েছে। এখানে সুতি কাপড়ের প্রাধান্য থাকলেও শাড়িতে সুতির পাশাপাশি মাসলিন, হাফ সিল্কও স্থান পেয়েছে। কাপড়ের ধরনভেদে শাড়ির মূল্য শুরু হয়েছে ১১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার পর্যন্ত।
ছেলেদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, পোলো টি-শার্ট, পায়জামা, জিন্স, লুঙ্গি ইত্যাদি। পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ১১০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা, ফতুয়া ৭৫০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং শার্ট ১৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।
শিশুদের জন্য বিশ্বরঙ-এর এবারের ঈদ কালেক্শনে রয়েছে বাহারি রঙ ও নকশা সমৃদ্ধ ওয়ান পিস, টু পিস, থ্রি পিস ও স্কার্ট। এখানে শিশুদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ৮৫০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন টয়, ঘর সাজানোর শো-পিস, মেয়েদের বিভিন্ন অর্নামেন্ট।
ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শায়লা শারমিন জানান, তিনি সুতির শাড়ি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই বিশ্বরঙ তার পছন্দের শীর্ষে। কাপড়ের রঙ এবং নকশা তার কাছে রুচিসম্মত বলে মনে হয় এবং পোশাকগুলো সব বয়সের মানুষের রুচিবোধ চিন্তা করে তৈরি করা হয় এবং সুবিধাজনক দাম হওয়ায় তার পরিবারের সকল সদস্যের জন্য ঈদের পোশাক তিনি বিশ্বরঙ থেকেই কেনেন। তাই তিনি প্রতি বছর কেনাকাটা করতে এই ফ্যাশন হাউজেই আসেন।
ফড়িং
ঈদ উপলক্ষে এবার ফড়িং-এর রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের পোশাকের বিশাল সম্ভার। সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, কুর্তি, ওড়না, গাউন, জিপসি, ল্যাহেঙ্গা, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শেরওয়ানি, টি-শার্ট ইত্যাদি বিভিন্ন রং ও নকশা সমৃদ্ধ এসব পোশাকে কাজ করা হয়েছে অ্যামব্রয়ডারি, ব্লক, ইয়ক, কারচুপি, চুমকিসহ বিভিন্ন মোটিভে। সুতি, তাঁত সিল্ক, র-সিল্ক, টিস্যু সিল্ক, জর্জেট, লিলেন, কাতান, তশোর ও আর্দি কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে এসব পোশাকে।
সুতির শাড়ি মিলছে ৮০০ থেকে ২৫০০, বিভিন্ন সিল্কের শাড়ি ১৫০০ থেকে ৪৫০০, অ্যামব্রয়ডারি, কুলিকাটা ও প্রিন্টের জর্জেট শাড়ি ১৪০০ থেকে ৪৫০০ টাকার মধ্যে।
এদিকে নকশাভেদে সুতির পাঞ্জাবি ১২০০ থেকে ১৫০০, কাতান পাঞ্জাবি ২৪০০ থেকে ৩৫০০ পর্যন্ত, সুতি, আর্দি ও ভয়েল কাপড়ের ফতুয়া মাত্র ৪৫০ টাকা ৮৫০ টাকার মধ্যে এবং কাতান কাপড়ে কারচুপি কাজের শেরওয়ানি ২৪০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
বেবি আইটেমের মধ্যে রয়েছে এবারের ঈদের বিশেষ আকর্ষণ পান্চু ড্রেস। এছাড়াও কাতান, জর্জেট ও নেটের পার্টি ড্রেস, ল্যাহেঙ্গা, জিপসি ইত্যাদি বেবি আয়টেমগুলো মিলছে মাত্র ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজারে এবং গেঞ্জিসেট, পাঞ্জাবি ৩৫০ থেকে ২ হাজারে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা। তিনি জানান, এই ফ্যাশন হাউজের পোশাকগুলোর দাম ও মান সহনীয় ও রুচিসম্মত মাত্রার। তিনি শুধু ঈদের পোশাকই নয় বরং তারা নিয়মিত ফড়িং থেকেই পোশাক কিনে থাকেন সবসময় ব্যাবহারের জন্য।
লেডিস পার্ক
কাটিং ও প্যাটার্নের ভিন্নতায় ব্যতিক্রমধর্মী প্যাচ ওয়ার্কের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে লেডিস পার্কের এবারের ঈদ ফ্যাশন। নতুনত্ব আনতে প্যাটার্ন বৈচিত্রে এবার প্রাধান্য পাচ্ছে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবি বা কুর্তাতে। এছাড়াও ওয়ান পিস, টু পিস, থ্রি পিস, ফ্লোর টাচ, প্ল্যাজো, কুর্তি, হিজাব, ওড়না, টপ্স-স্কার্ট, লেডিস প্যান্টও ব্যাগ রয়েছে। এর মধ্যে জামদানি শাড়ি ২৭০০ থেকে ৮ হাজার, মাসলিন শাড়ি ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার, মনিপুরি সুতি ও সিল্ক নেটের শাড়ি ১১৫০ থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। সালোয়ার কামিজে সুতি কাপড়ের ১২০০ থেকে ১৫৫০, মাসলিনের ১ হাজার থেকে ১৭০০ এবং কাতান কাপরের ফ্লোর টাচ ৩ হাজার থেকে ৪ হাজারের প্রাইজ ট্যাগ ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। দেশি খাদি, সুতি ও তসরের পাঞ্জাবি ১৫০০ থেকে ৩ হাজার এবং ইন্ডিয়ান সিল্কের শেরওয়ানি ৩ হাজার থেকে ৪৫০০ টাকা।
ফেন্সি কাপড়ের পার্টি ড্রেস, সুতির ফ্রক, টপ্স-স্কার্ট ইত্যাদি বেবি আইটেমগুলো ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
লেডিস পার্কের স্বত্বাধিকারী আশিকুর রসুল বলেন, ক্রেতা সমাগম বেশ ভাল হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে সমাগম আরো বাড়বে আশা করছি। মনে হচ্ছে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা তাদের সন্তুষ্ট করতে পারছি। ভালো মানের পোশাক পরিমিত মূল্যে ক্রেতাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারছি। এবার ঈদে ফ্লোরটাচ গাউন এবং পাঞ্জাবি ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। নগরবাসী সবাই আনন্দের সাঙ্গে যেন ঈদ করতে পারে, কেউ যেন এবার নিরাশ না হয়, এই কামনা করি।
চন্দ্রবিন্দু
চন্দ্রবিন্দু ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতাদের জন্য নিয়ে এসেছে বাহারি সব নতুন ডিজাইনের পোশাক। চন্দ্রবিন্দুর বিশেষত্ব¡ হচ্ছে প্রতিটি উৎসবে আনে নতুন ডিজাইনের পোশাক এবং প্রত্যেকটি ডিজাইনের পোশাক তৈরি করা থাকে বিভিন্ন মাপে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সুতি কাপড়ে তৈরি চন্দ্রবিন্দুুর পোশাকের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রঙ ও নকশার ওয়ান পিস, টু পিস, থ্রি পিস, ম্যাক্সি, বোরকা, স্কার্ট, প্লাজো। ব্লক, অ্যামব্রয়ডারি, কারচুপি, চুমকিসহ থ্রি পিস ১৩৫০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা মূল্যে। এছাড়াও স্কার্ট ৫৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা, প্লাজো ২৭৫ টাকা থেকে ১১২৫ টাকায়, বেবি পার্টি ড্রেস ১৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
চন্দ্রবিন্দু ফ্যাশন হাউজের বিক্রয়কর্মী তামান্না জানান, মাত্র দুই মাস হল রাজশাহীতে চন্দ্রবিন্দুর শো-রুমের উদ্বোধন হয়েছে। কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা দেখে মনে হচ্ছে ইতোমধ্যে চন্দ্রবিন্দু তাদের পছন্দের তালিকায় চলে এসেছে। এখানে পোশাকের মান অনুযায়ী দাম কম এবং ক্রেতাদের পছন্দের পোশাকটি তাদের মাপ অনুযায়ী পাওয়া যায়, যা ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে বলে তিনি মনে করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ